
রাশিয়া সংসদীয় নির্বাচনে বড় জয়ের পথে শাসক দল ইউনাইটেড রাশিয়া। ফলাফলে দেখা গিয়েছে, দলটি আপাতত ৫৭.৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই নির্বাচনে তাঁর নীতিকে ঢাল করেছিলেন। সেই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থনের পরীক্ষা হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। আর সেই ফর্মুলা এবার দারুণ কাজ করেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে অলআউট সামরিক অভিযান শুরু করেছিল রাশিয়া। তারপর এটাই রাশিয়ার প্রথম সংসদীয় নির্বাচন। কমিউনিস্ট পার্টি, এলডিপিআর, নিউ পিপল এবং জাস্ট রাশিয়ার মতো অন্যান্য দল অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে।
রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান এবং প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ জানান, ইউনাইটেড রাশিয়া ভোটে ভাল ফল করেছে। তাঁর দাবি, এই ফলাফলই বলছে যে রাশিয়ার মানুষ দলটিকে এখনও দেশ চালানোর জন্য ভরসা করছে।
ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা
একদিকে নির্বাচন। অন্যদিকে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা সামলাচ্ছে রাশিয়া। মস্কো সহ রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ড্রোন হামলা চাল ইউক্রেন। রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মস্কো অঞ্চলে হামলায় তিনজন এবং রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে আরও দু'জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন নির্বাচনী আধিকারিক।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, নির্বাচনকে সমস্যায় ফেলার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চলে। যদিও সেই হামলায় লাভ হয়নি।
যতদূর খবর, ইতিমধ্যেই মস্কোর একটি তেল শোধনাগারের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই শোধনাগারটি এর আগেও হামলার মুখে পড়েছিল। রাজধানীতে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার সময় ওই এলাকা থেকে আগুনের শিখা এবং বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ইউক্রেন ‘ফ্লেমিঙ্গো’ ক্রুজ মিসালই ছুড়েছে। তাদের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ২,০০০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন এবং আটটি ক্রুজ মিসাইল ধ্বংস করা হয়েছে। রাশিয়া জানিয়েছে, এর জবাবে ইউক্রেনের সামরিক এলাকাও হামলা আরও জোরদার করা হবে।
সাইবার হামলার কবলে ভোটিং ব্যবস্থা
রাশিয়ার নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভোটিং ব্যবস্থার উপরও একের পর এক সাইবার অ্যাটাক করা হয়েছে। তবে তাদের দাবি, এর পরেও নির্বাচনী প্রক্রিয়া মোটের উপর স্বাভাবিক ছিল।
সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মস্কোর সময় সন্ধ্যার প্রথম দিকে ভোটদানের হার প্রায় ৫৭ শতাংশে পৌঁছেছিল।
ওদিকে অবশ্য বিদেশে নির্বাসিত রাশিয়ার বিরোধী নেতারা সাধারণ মানুষকে দুপুর ১২টায় ভোটকেন্দ্রে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এটি ছিল প্রতীকী প্রতিবাদের কর্মসূচি।
বিরোধী প্রার্থীদের বেশিরভাগই ভোটে লড়ার সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ
যুদ্ধবিরোধী বেশিরভাগ প্রার্থীকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। উদারপন্থী ইয়াবলোকো পার্টির প্রার্থীরা জানান, দলের দুই শীর্ষ নেতাকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মন্তব্যের কারণে আদালত দীর্ঘ কারাদণ্ড দিয়েছে। তাই তাঁরা নিজেদের স্বাধীনতা নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন।