
ভারত দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল 'অপারেশন সিঁদুর'-এর সময়েই। এমনটাই জানালেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ভারতের এই অভিযানকে নতুন বিশ্বব্যবস্থার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। প্রায় এক বছর আগে পহেলগাঁও সন্ত্রাসবাদী হামলার পর এই অভিযান শুরু করেছিল ভারত। গত বছর ২২ এপ্রিল লস্কর-ই-তৈবার জঙ্গিরা জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে ২৬ জন নিরীহ পর্যটককে হত্যা করে।
এই হামলার পর ভারত পাকিস্তানও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলির বিরুদ্ধে 'অপারেশন সিঁদুর' শুরু করে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সরকারের নীতি স্পষ্ট ছিল। কোনও অবস্থাতেই সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না।
ভারত সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, বিমান হামলা এবং এখন 'অপারেশন সিঁদুর'-এর মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার অবস্থান প্রমাণ করেছে। রাজনাথ বলেন, 'অভিযানটি মাত্র ৭২ ঘণ্টায় সম্পন্ন হলেও এর পিছনে ব্যাপক প্রস্তুতি ছিল। প্রয়োজনে ভারত একটি দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল।'
আজকের বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। অনেক দেশ তাদের শক্তি বৃদ্ধি করছে এবং আগের চেয়ে আরও জোরাল ভাবে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করছে। পুরনো নিয়ম ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এখন প্রশ্নের মুখে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
প্রযুক্তি, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ডিজিটাল সরঞ্জামও অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই এই নতুন বিশ্বে ভারতকে আরও বেশি সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। রাজনাথ সিং মনে করছেন এমনটাই। তিনি বলেন, 'ভারতকে তার নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কৌশল নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে।'
সরাসরি পাকিস্তানের নাম উল্লেখ না করে রাজনাথ সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে একটি সুসংহত এবং আপসহীন নীতি অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'রাষ্ট্র-পোষিত আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদকে আমাদের উপেক্ষা করা উচিত নয়। এই বিষয়ে দ্বিচারিতার কোনও জায়গা নেই। সন্ত্রাসবাদের কোনও জাতি বা ধর্ম নেই।'