Advertisement

ফাইটার জেট থেকে মিসাইল, আমেরিকার অস্ত্র বানানোর 'চাবিকাঠি' চিনের হাতে; মহাবিপদে ট্রাম্প?

রেয়ার আর্থ শুধু মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক সামগ্রী তৈরিতেই ব্যবহার হয় না। এগুলি দিয়ে তৈরি বিশেষ ধরনের শক্তিশালী ম্যাগনেট ব্যবহার করা হয় যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, রাডার এবং সাবমেরিনেও।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ,
  • 11 Aug 2026,
  • अपडेटेड 5:19 PM IST
  • রেয়ার আর্থ নিয়ে আমেরিকা ও চিনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে
  • বিশ্বে রেয়ার আর্থ খনিজের খনন এবং প্রক্রিয়াকরণে চিন সবচেয়ে এগিয়ে

রেয়ার আর্থ নিয়ে আমেরিকা ও চিনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। বিশ্বে রেয়ার আর্থ খনিজের খনন এবং প্রক্রিয়াকরণে চিন সবচেয়ে এগিয়ে। নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে আমেরিকাও দীর্ঘদিন ধরে চিন থেকে আসা রেয়ার আর্থের সরবরাহের উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে চিন কয়েকটি রেয়ার আর্থ এবং রেয়ার আর্থ-সম্পর্কিত পণ্যের রফতানির উপর বিধিনিষেধ আরও বাড়িয়েছিল। এর ফলে আমেরিকার প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

রেয়ার আর্থ শুধু মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক সামগ্রী তৈরিতেই ব্যবহার হয় না। এগুলি দিয়ে তৈরি বিশেষ ধরনের শক্তিশালী ম্যাগনেট ব্যবহার করা হয় যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, রাডার এবং সাবমেরিনেও। ফলে দীর্ঘদিন রেয়ার আর্থের সরবরাহ কমে গেলে নতুন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে সমস্যা হতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, চিন সরবরাহ বন্ধ করে দিলেই আমেরিকার সমস্ত যুদ্ধবিমান আকাশে ওড়া বন্ধ করে দেবে। আসল সমস্যা তৈরি হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ সঙ্কটে।

রেয়ার আর্থ এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?

রেয়ার আর্থ হল ১৭টি আলাদা খনিজ উপাদানের একটি গোষ্ঠী। এই উপাদানগুলির কয়েকটি ব্যবহার করে অত্যন্ত শক্তিশালী ম্যাগনেট তৈরি করা যায়। বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র এবং ইলেকট্রিক মোটরে এই ম্যাগনেট ব্যবহার করা হয়।

আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এই ধরনের ম্যাগনেট F-35 যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন এবং রাডারের মতো সামরিক ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ আধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের বিভিন্ন ক্ষেত্রে রেয়ার আর্থের প্রয়োজন রয়েছে।

রেয়ার আর্থে চিনের দখল কতটা শক্তিশালী?

রেয়ার আর্থের ক্ষেত্রে চিনের শক্তি শুধু খনিজ উত্তোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। খনি থেকে খনিজ তুলে আনার পর সেগুলিকে প্রক্রিয়াকরণ, পরিশোধন, আলাদা করা এবং সেগুলি থেকে ম্যাগনেট তৈরির ক্ষেত্রেও চিন বিশ্বে সবচেয়ে এগিয়ে।

বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ রেয়ার আর্থ প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা চিনের হাতে। পাশাপাশি, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে আমেরিকায় আমদানি হওয়া রেয়ার আর্থের প্রায় ৭৫ শতাংশই চিন থেকে এসেছিল। এই কারণেই রেয়ার আর্থের ক্ষেত্রে চিনের উপর আমেরিকার নির্ভরতা ওয়াশিংটনের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

Advertisement

আমেরিকার সমস্যা কোথায়?

আমেরিকাতেও রেয়ার আর্থ খনিজ উত্তোলন করা হয়। এর অন্যতম বড় উদাহরণ ক্যালিফোর্নিয়ার Mountain Pass Mine। কিন্তু শুধু খনিজ উত্তোলন করলেই কাজ শেষ হয় না।

খনি থেকে পাওয়া খনিজকে প্রথমে পরিষ্কার করতে হয়, বিভিন্ন উপাদানকে আলাদা করতে হয় এবং তারপর সেই উপাদান ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় ম্যাগনেট তৈরি করতে হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় চিনের ক্ষমতা আমেরিকার তুলনায় অনেক বেশি।

ফলে চিন থেকে রেয়ার আর্থের সরবরাহ দীর্ঘদিন কমে গেলে আমেরিকাকে অন্য দেশ থেকে রেয়ার আর্থ এবং রেয়ার আর্থ-সম্পর্কিত সামগ্রী কিনতে হতে পারে। এতে অস্ত্র তৈরিতে সময় ও খরচ—দুটিই বাড়তে পারে।

চিনের উপর নির্ভরতা কমাতে কী করছে আমেরিকা?

চিনের উপর নির্ভরতা কমাতে আমেরিকা এখন নিজেদের দেশে রেয়ার আর্থের সম্পূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

২০২০ সাল থেকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর দেশে রেয়ার আর্থের সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করার জন্য ৪৩৯ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।

আমেরিকার লক্ষ্য হল খনি থেকে রেয়ার আর্থ উত্তোলন, তার প্রক্রিয়াকরণ এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাগনেট তৈরি- পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা নিজেদের দেশেই গড়ে তোলা।

তাই রেয়ার আর্থের উপর চিনের শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ আমেরিকার জন্য অবশ্যই বড় উদ্বেগের বিষয়। তবে চিন সরবরাহ বন্ধ করে দিলেই আমেরিকার সম্পূর্ণ সামরিক শক্তি অচল হয়ে যাবে- এমনটা বলা ঠিক হবে না। মূল ঝুঁকি হল দীর্ঘদিন সরবরাহ বন্ধ বা কম থাকলে নতুন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন এবং সেগুলির সরবরাহ ব্যবস্থার উপর চাপ তৈরি হওয়া।

Read more!
Advertisement
Advertisement