
শিয়া অধ্যুষিত ইরানের বিরুদ্ধে জোট বাঁধছে সুন্নি দেশগুলি। আমেরিকার পাশে দাঁড়িয়ে এবার 'সুন্নি ন্যাটো বাহিনী' তৈরি করল সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্ক। শুক্রবার মক্কায় একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছে এই তিন দেশ। 'মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট' নামে এই চুক্তির লক্ষ্য, তিন দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদার করা। ইরানকে নিয়ে এমনিতেই চিন্তায় আমেরিকা। এই অবস্থায় তাদেরই তিন বন্ধু দেশের সেনাবাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে চুক্তিতে তিন দেশের নির্দিষ্ট সামরিক প্রতিশ্রুতি বা বাধ্যবাধকতার বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তির উদ্দেশ্য হল সম্মিলিত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা এবং অঞ্চল-সহ বিশ্বের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
পাকিস্তানের সংবাদপত্র 'ডন'- এর প্রতিবেদনে প্রকাশ, এই চুক্তির লক্ষ্য যে কোনও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা। একই সঙ্গে উল্লেখ, তিন দেশের মধ্যে যে কোনও একটি দেশের উপর সশস্ত্র হামলা হলে তা বাকি দুই দেশের উপরও হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
মক্কায় চুক্তিতে সই করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
ইরান-সৌদি উত্তেজনার আবহে চুক্তি
এই চুক্তি এমন সময় হয়েছে, যখন ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানের পর ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এবং তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলি সৌদি আরব ও উপসাগরীয় একাধিক দেশে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে জ্বালানি পরিবহণও ব্যাহত হয়েছে।
তবে রয়টার্সকে এক তুর্কি আধিকারিক জানিয়েছেন, নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক। এটি কোনও নির্দিষ্ট দেশ বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। ভবিষ্যতে অন্য আঞ্চলিক দেশগুলিও এতে যোগ দিতে পারবে।
পাকিস্তান সেনাপ্রধানও ছিলেন সফরে
মক্কা সফরে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে ছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তাঁরা চুক্তি স্বাক্ষরের আগে ওমরাহ পালন করেন। পরে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সৌদি আরবে পৌঁছে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ভারত-পাকিস্তান প্রসঙ্গ
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কাশ্মীর ইস্যুতে তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের পাশে রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার সময় পাকিস্তানকে ৩৫০-রও বেশি সামরিক ড্রোন এবং ড্রোন অপারেটর দিয়েছিল তুরস্ক। পাকিস্তান নাকি 'অপারেশন সিঁদুর' চলাকালীন তুরস্ক নির্মিত ড্রোন ব্যবহার করেছিল।
প্রতিবেদনের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দ্রুত বেড়েছে। আর নতুন 'মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট' সুন্নি-প্রধান দেশগুলির মধ্যে ন্যাটোর আদলে একটি নিরাপত্তা জোট গড়ে তোলার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।