Advertisement

সৌদি-কাতারের তেল খনিতে হামলা, ধ্বংস হচ্ছে ইরানের গ্যাস ভাণ্ডারও; বাড়বে তেল-গ্য়াসের দাম?

ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের জেরে কঠিন পরিস্থিতির মুখে বিশ্ব। ভারতের মতো দেশেও গ্যাস সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ আরও ভয়াবহ চেহারা নিয়েছে।

যুদ্ধ নিয়ে শঙ্কিত গোটা বিশ্ব যুদ্ধ নিয়ে শঙ্কিত গোটা বিশ্ব
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ,
  • 19 Mar 2026,
  • अपडेटेड 3:02 PM IST
  • ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের জেরে কঠিন পরিস্থিতির মুখে বিশ্ব
  • ভারতের মতো দেশেও গ্যাস সঙ্কট দেখা দিয়েছে

ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের জেরে কঠিন পরিস্থিতির মুখে বিশ্ব। ভারতের মতো দেশেও গ্যাস সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ আরও ভয়াবহ চেহারা নিয়েছে। কারণ বুধবার প্রথমবারের মতো ইরান ও ইজরায়েল জীবাশ্ম জ্বালানির (কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল) উত্তোলন কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে জ্বালানির সঙ্কট তৈরি হতে পারে। এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

গত ১৭ মার্চ আমেরিকা ও ইজরায়েল খার্গে দ্বীপে হামলা চালালেও সামরিক ঘঁটিগুলোকে টার্গেট করেছিল। অথচ সেখানেও খনিজ উত্তোলন কেন্দ্র ছিল। সেটির কোনও ক্ষতি করেনি দুই দেশ। তবে বুধবার ইজরায়েল সাউথ পার্স প্রাকৃতিক গ্যাস খনিতে হামলা চালায়। যেটি  ইরান ও কাতারের যৌথ সম্পদ। তার পাল্টা জবাব দেয় ইরানও। তাদের তরফে সৌদি আরবের আরামকোর স্যামরেফ রিফাইনারি, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির গ্যাস উত্তোলনকেন্দ্রগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তার জেরে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

সাউথ পার্স কেন এতটা গুরুত্বপূর্ণ? 

সাউথ পার্সে হামলার পর থেকেই প্রমাদ গুণছে বিশ্ব। কেন? কারণ এই ক্ষেত্র থেকেই এলএনজি সরবরাহ হয় বিশ্বজুড়ে। ভারতের মতো দেশও এর উপর নির্ভরশীল। তার জেরে হামলার পরপরই প্রাকৃতিক তেল ও গ্যাসের দাম বাড়তে শুরু করেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ১,৮০০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত রয়েছে, যা ১২-১৩ বছর বিশ্বের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। তেহরানের জন্য এই গ্যাসক্ষেত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইরানের প্রায় ৮০% বিদ্যুৎ এখানকার গ্যাস থেকেই উৎপাদিত হয়। 

ইরানের টার্গেট সৌদি, কাতার ও UAE 

ইরান পাল্টা ডোহায় রাস লাফান এলএনজি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। কাতার এনার্জি আগেই আংশিকভাবে এই কেন্দ্র বন্ধ করেছিল। এই পরিস্থিতির প্রভাব ভারতের উপরও পড়তে পারে। কারণ ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ LNG আমদানিকারক এবং এর বড় অংশই কাতারের উপর নির্ভরশীল। ভারতের প্রায় ৮০-৮৫% এলপিজি কাতার ও সৌদি আরব থেকে আসে।

Advertisement

এই হামলার ফলে কী হতে পারে? 

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে হামলা চলার ফলে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটবে। দাম বাড়বে জিনিসের। ইউরোপ, এশিয়া ও ভারতের জন্য এই খনিগুলোই হল জ্বালানির উৎস। ফলে সঙ্কট বাড়তে পারে। 

এর প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা গেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছেছে, গ্যাসের দামও বেড়েছে ৬%। যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তাঁদের মতে, বুধবারের ঘটনাপ্রবাহ থেকে স্পষ্ট, এখন জ্বালানি অবকাঠামো সরাসরি আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে এবং অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করাই প্রধান কৌশল হয়ে উঠছে।

Read more!
Advertisement
Advertisement