
সাংহাই কর্পোরেশন অর্গানাইজেশনের (SCO Summit) বৈঠকে ‘মক্কা চুক্তি’ নিয়ে সাফাই দিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ভারত-সহ অনান্য দেশের রাষ্ট্র নেতাদের উপস্থিতিতে তিনি জানালেন, এই চুক্তির লক্ষ্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে যাওয়া বা কোনও ধরনের সংঘাত তৈরি করা নয়। বরং পুরো চুক্তিটিই আত্মরক্ষার স্বার্থে।
গত ৭ অগাস্ট মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্টে সই করেছিল পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক। এরপর ৩১ অগাস্ট ইস্তানবুলে এই চুক্তি নিয়ে প্রথম বৈঠকও হয়। সেই চুক্তি নিয়েই মুখ খুললেন পাক প্রধানমন্ত্রী। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মতো রাষ্ট্রনেতাদের উপস্থিতিতে ভাষণ দেন শাহবাজ। তাঁর বক্তব্য, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলির অন্যতম পাকিস্তান। এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য দেশগুলির মধ্যে ঐক্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা দেওয়া। এর লক্ষ্য, গোটা অঞ্চলে শান্তি, উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
শরিফের মক্কা চুক্তি ব্যাখ্যা
তিনি যোগ করেন, তিন দেশের মধ্যে হওয়া এই চুক্তি উদ্দেশ্য আত্মরক্ষা। অন্য কোনও দেশকে নিশানা করা এর লক্ষ্য নয়। তাঁর কথায়, 'এই চুক্তি কোনও দেশের বিরুদ্ধে নয়। সংঘাত তৈরি করা বা বিভাজন সৃষ্টি করাও এর লক্ষ্য নয়'।
মোদীর সামনে ফের জলচুক্তির প্রসঙ্গ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে সিন্ধু জলচুক্তির প্রসঙ্গও তুললেন শাহবাজ। যদিও সিন্ধু জলচুক্তির সরাসরি নাম নেননি। তাঁর বক্তব্যকে ওই চুক্তির সঙ্গে জুড়ে দেখছে কূটনৈতিক মহলের একাংশ।
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করেছিল নয়াদিল্লি। এসসিও-তে শাহবাজ বলেন,'জল আমাদের গোটা অঞ্চলের কাছে জীবন। লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন-জীবিকার উপর নির্ভরশীল। জল আমাদের জমিকে ঊর্বর করে। আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যতের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই জলকে কখনও অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়'।
তিনি আরও বলেন,'কোনও দেশের উপর চাপ তৈরি করতে নদী বা জলকে ব্যবহার করা যায় না। রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্যও জলকে কাজে লাগানো উচিত নয়। জলসম্পদ নিয়ে করা চুক্তিগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং গুরুতর আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার। শুধুমাত্র নিজের সুবিধা অনুযায়ী এই ধরনের চুক্তিকে উপেক্ষা করা যায় না'।