Advertisement

Serbia Students Topple President: ছাত্র আন্দোলনে প্রেসিডেন্টের হার আরও একটি দেশে, বিশ্বজুড়ে নয়া ট্রেন্ড শুরু?

ছাত্র আন্দোলনের পর ঐতিহাসিক নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করে নিলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ। সার্বিয়ার রাজনীতিতে তাঁর এক দশকের আধিপত্যের অবসান ঘটল। বিশ্বজুড়ে কি তবে নয়া ট্রেন্ড শুরু?

সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের জেরে প্রেসিডেন্টের হারসার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের জেরে প্রেসিডেন্টের হার
Aajtak Bangla
  • বেলগ্রেড ,
  • 26 Oct 2026,
  • अपडेटेड 10:15 AM IST
  • ছাত্র আন্দোলনের পর ঐতিহাসিক নির্বাচন
  • পরাজয় স্বীকার করে নিলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট
  • বিশ্বজুড়ে কি তবে নয়া ট্রেন্ড শুরু?

ছাত্র আন্দোলনের পর ঐতিহাসিক নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করে নিলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ। সার্বিয়ার রাজনীতিতে তাঁর এক দশকের আধিপত্যের অবসান ঘটল। দুর্নীতি, শিক্ষানীতি, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ এবং সরকারের জবাবদিহির দাবিতে ইউরোপ সহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। সেই আবহেই সার্বিয়ার নির্বাচনে বড় জয় পেল ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন। গোটা দুনিয়া জুড়ে কি তবে এক নয়া ট্রেন্ড সেট হচ্ছে? 

বলকান উপদ্বীপে অবস্থিত স্থলবেষ্টিত দেশ সার্বিয়ার জনসংখ্যা প্রায় ৬৬ লক্ষ। ২০০৬ সালে মন্টেনিগ্রো থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে সার্বিয়া। তার আগে দেশটি ফেডারেল রিপাবলিক অফ যুগোস্লাভিয়ার অংশ ছিল। ২০০৩ সালে সেই দেশের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় সার্বিয়া অ্যান্ড মন্টেনিগ্রো।

রবিবার প্রাথমিক ফলাফলে সংসদীয় নির্বাচনে স্টুডেন্ট লিস্টের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরাজয় স্বীকার করেন আলেকজান্ডার ভুচিচ। ২০২৪ সালে নোভি সাদের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ভেঙে ১৬ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই প্রায় দু’বছর ধরে ছাত্র আন্দোলন চলছিল। আলেকজান্ডার ভুচিচ বলেন, 'এটা স্পষ্ট, আমরা এই নির্বাচনে হেরেছি, ছাত্র আন্দোলনের জয় হয়েছে।' তাঁর এই ঘোষণার পরই বেলগ্রেডে শুরু হয় উচ্ছ্বাস। রাস্তায় নেমে আসেন কয়েক হাজার মানুষ। তিনি জানিয়েছেন, ২৫০ আসনের সংসদে ছাত্র সমর্থিত প্রার্থীরা ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পেতে পারেন। অন্যদিকে, তাঁর দল সার্বিয়ান প্রোগ্রেসিভ পার্টি পেতে পারে ১০৫টি আসন। এই ফলাফল আলেকজান্ডার ভুচিচের জন্য বড় ধাক্কা। ২০১৪ সাল থেকে সার্বিয়ার রাজনীতিতে আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন তিনি।

নির্বাচনের আগে আন্দোলনকারীদের মূল দাবি ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা। এই ফলাফল এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও ছাত্র আন্দোলন জোরদার হচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থা, জীবনযাত্রার খরচ, সরকারি ব্যয় এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে একাধিক দেশে বিক্ষোভ চলছে।

সার্বিয়ার ছাত্র আন্দোলন

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাস্তায় ছাত্রছাত্রীরা
ফ্রান্সে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ছাত্র আন্দোলন জোরদার হয়। ক্রেতেইয়ের লিসে সাঁ-একজুপেরি স্কুলের পড়ুয়ারা শিক্ষক সঙ্কট, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত পড়ুয়ার চাপ এবং স্কুলের পরিকাঠামোর অবনতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখায়। পরে এই আন্দোলনে যোগ দেয় ট্রেড ইউনিয়ন এবং মুদ্রাস্ফীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ। ১৭ অক্টোবর এবং তার পরের সপ্তাহান্তে ফ্রান্সের ১১০টি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন বলে জানান সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। যদিও আন্দোলনকারীদের দাবি, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ৮ লক্ষ। বেশিরভাগ মিছিল শান্তিপূর্ণ থাকলেও প্যারিস, মার্সেই, লিমোজ এবং অন্যান্য শহরে হিংসার ঘটনা ঘটে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৪০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

Advertisement

ইতালিতেও ১৬ অক্টোবর এবং পরবর্তী সময়ে ২৪ অক্টোবর ছাত্র বিক্ষোভ দেখা যায়। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ, সামরিক খাতে ব্যয় এবং সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রতিবাদে পথে নামেন পড়ুয়ারা। কয়েকটি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি পড়ুয়ার সংখ্যা সীমিত করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন তাঁরা। পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে আরও বেশি বিনিয়োগের দাবি জানান। পরের দিন মিলানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মুখোশ পরা বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর ছোড়েন এবং ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দেন।

আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় ১৭ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রকের সামনে জড়ো হন কয়েক হাজার তরুণ বিক্ষোভকারী। প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগের দাবিতে সরব হন তাঁরা। দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে যুক্ত একটি বিতর্কিত উপকূলীয় উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরেই ক্ষোভ বাড়ছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীরা দাঙ্গা পুলিশের দিকে পাথর ছুড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, স্টান গ্রেনেড এবং জলকামান ব্যবহার করে।

জার্মানি, অস্ট্রিয়া এবং গ্রিসেও ছাত্র আন্দোলন হয়েছে, যদিও তুলনায় ছোট পরিসরে। জার্মানিতে বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা চালুর প্রস্তুতির বিরোধিতা করেন বিক্ষোভকারীরা। পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান তাঁরা। অস্ট্রিয়ার পড়ুয়ারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট কমানোর প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, গ্রিসে আবাসনের খরচ, বাড়ির অভাব এবং শিক্ষা নীতির প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন ছাত্রছাত্রীরা।

ভারতে 'ককরোচদের' আন্দোলন

ভারতে NEET বিতর্ক ঘিরে যুব আন্দোলন
২০২৬ সালে NEET-UG মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে ভারতেও বড় ছাত্র আন্দোলন দেখা যায়। দেশজুড়ে পড়ুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। প্রায় ২০ লক্ষ পরীক্ষার্থী অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন এবং তাঁদের নতুন করে পরীক্ষায় বসতে হয়। এই বিতর্কের জেরে পরীক্ষার নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং সীমিত সংখ্যক কলেজের আসনের জন্য পড়ুয়াদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার বিষয়গুলিও সামনে আসে। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। অনলাইনে শুরু হওয়া এই যুব আন্দোলন পরবর্তী সময়ে শিক্ষা সংস্কার এবং জবাবদিহির দাবিতে জাতীয় স্তরের প্রচারে পরিণত হয়। নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হন পড়ুয়ারা। দেশের অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ দেখানো হয়।

২০ জুলাই সংসদের বাদল অধিবেশন চলাকালীন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করেন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন এবং অনেকে আটক হন বলে খবর।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা মোকাবিলায় ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন এবং দোষীদের জন্য আরও কঠোর শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিলেও আন্দোলন চলতে থাকে। অবশেষে ২৫ জুলাই আন্দোলনকারীদের লাগাতার বিক্ষোভের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এই পদত্যাগ দেখিয়ে দেয়, দীর্ঘস্থায়ী ছাত্র আন্দোলন কীভাবে সরাসরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

সার্বিয়ার নির্বাচনের ফলাফলের তাৎপর্য কী?
সার্বিয়ার নির্বাচন অন্য আন্দোলনগুলির তুলনায় আলাদা। কারণ, সেখানে ছাত্র আন্দোলন শুধু রাস্তায় বিক্ষোভের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। নির্বাচনে বড় জয়ও ছিনিয়ে নিয়েছে। ২৫০ জন প্রার্থীকে সমর্থন করেছে ছাত্ররা। তাঁদের মধ্যে শিক্ষাবিদ, অভিনেতা এবং কৃষকরাও রয়েছেন। এই আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন ইলিয়া সার্দানোভিচ। 

Advertisement

তবে পরবর্তী সরকার কে পরিচালনা করবেন এবং কীভাবে আন্দোলনের প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে। চিন, রাশিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সার্বিয়ার সম্পর্কও সামলাতে হবে নতুন নেতৃত্বকে। তবে বিভিন্ন দেশের ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব বা রাজনৈতিক কর্মসূচি যে একই, এমন কোনও প্রমাণ এই নির্বাচনের ফলাফল দেয় না। এক একটি দেশে আন্দোলনের দাবিও আলাদা। কোথাও শিক্ষাব্যবস্থা ও আবাসন, কোথাও দুর্নীতি এবং সরকারের জবাবদিহি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তরুণরা।

তবুও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি দেখাচ্ছে, প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ক্রমশ এগিয়ে আসছেন তরুণ প্রজন্ম। সার্বিয়ায় সেই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী জয় পেয়েছে। এবার রাস্তায় তৈরি হওয়া আন্দোলনের শক্তিকে কার্যকর প্রশাসনে পরিণত করতে পারে কি না, সেটাই দেখার।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement