
South Africa Mass Shootings: দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুকবাজদের হামলা। পরপর দু'টি পৃথক এলোপাথাড়ি গুলি চালনার ঘটনায় প্রায় ২৭ জনের মৃত্যু। জখম প্রায় ২৬। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর দু'টি হামলা হয়। একটি হামলা হয়েছে জোহানেসবার্গের কাছে। অন্যটি কেপ টাউনের উপকণ্ঠে। দুই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, কেনই বা এই হামলা চালানো হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
শনিবার রাতে প্রথম হামলাটি হয় জোহানেসবার্গের প্রায় ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে ওয়েডেলা টাউনশিপের একটি বারে। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ সেখানে একদল বন্দুকবাজ ঢুকে পড়ে। পুলিশের দাবি, হামলাকারীদের হাতে AK-47 রাইফেল এবং পিস্তল ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে বারের বাইরে থাকা লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। পরে বন্দুকবাজেরা বারের ভিতরে ঢুকে পড়ে। সেখানেও এলোপাথাড়ি গুলি। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই ঘটনায় ১৩ জন পুরুষ এবং চার জন মহিলা মারা গিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।
হামলার পর আততায়ীরা কয়েকজনের কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় বলে অভিযোগ। এরপর দু’টি গাড়িতে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা। খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছয় পুলিশ এবং সেনা। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ ও পুলিশ প্যাথলজিস্টরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন।
ঘটনাস্থলের কাছাকাছি দু’টি পোড়া গাড়িও দেখা গিয়েছে। তবে ওই গাড়ির সঙ্গে হামলার কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও জানায়নি পুলিশ।
ওয়েডেলার বাসিন্দাদের অনেকেই ঘটনার বিষয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না। এই এলাকায় বেআইনি সোনার খনির কারবারিদের ঘাঁটি রয়েছে। তাঁদের স্থানীয় ভাবে ‘জামা জামা’ বলা হয়। প্রায়শই তাদের নিজেদের গ্যাংয়ের মধ্যে এমন খুন-জখমের ঘটনা ঘটে। তবে এই হামলার সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ রয়েছে কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এর কয়েক ঘণ্টা পরেই ফের গুলির শব্দ শোনা যায় কেপ টাউনের কাছে। রবিবার ভোররাত ১টার পর ল্যান্ডলে টাউনশিপে একটি দোকানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১১ জন।
দ্বিতীয় হামলার ক্ষেত্রেও একাধিক বন্দুকবাজ জড়িত বলে মনে করছে পুলিশ। তবে ঠিক কত জন হামলাকারী ছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। আততায়ীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।