
Strait of Hormuz crisis: হরমুজ প্রণালী পারের সময় ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু। এক জন এখনও নিখোঁজ। কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। ঘটনাটি কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে নিরাপত্তা এবং ভারতের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আরও উদ্বেগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
কেন্দ্রীয় নৌপরিবহণ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কে সিনহা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী(Strait of Hormuz) এবং তার আশপাশের এলাকায় সমস্ত ভারতীয় জাহাজগুলির উপর সরকার লাগাতার নজর রাখছে।
তিনি বলেন, 'আজ একটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালীর এলাকা থেকে অগ্রসর হয়েছে।'
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জানান, জাহাজটি আসলে প্রণালীর পূর্ব দিকে ছিল। ফলে সেটিকে সরাসরি প্রণালী পার হতে হয়নি। তিনি আরও বলেন, 'জাহাজটি ভারতের দিকে আসছে না। এটি আফ্রিকার দিকে রওনা দিয়েছে।'
রাজেশ কে সিনহা জানান, ওই অঞ্চলে থাকা সমস্ত ভারতীয় জাহাজের গতিবিধির উপর সরকার নজর রাখছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট শিপিং সংস্থাগুলির সঙ্গে নিয়মিত কো-অর্ডিনেশন করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রের খবর, গত কয়েক দিনে পরিস্থিতি কিছুটা নড়বড়ে থাকলেও এর আগে সরাসরি ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেখানে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এর আগে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হওয়ায় ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় বসেছিল ভারত। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে আটকে থাকা প্রায় ২৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করানোর উপায় খুঁজছিল নয়াদিল্লি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল(Randhir Jaiswal) জানিয়েছিলেন যে, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর(S. Jaishankar) এবং তাঁর ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরগাচি(Abbas Araghchi) একাধিকবার ফোনে আলোচনা করেছেন।
রণধীর জয়সওয়াল তখন বলেছিলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, 'সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং ভারতের জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, এর আগে ইরান নাকি দু'টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেতে দিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে বিদেশমন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।
অন্য দিকে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস জানিয়ে দেয়, ভারতীয় জাহাজ চলাচলের জন্য আলাদা করে কোনও অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। ফলে হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে তেহরান থেকে আসা সাম্প্রতিক বার্তা। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা Ayatollah Mojtaba Khamenei এক বিবৃতিতে ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার কৌশল ব্যবহার করা হতে পারে। সেই বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলির বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ এই সমুদ্রপথ দিয়েই যায়। ফলে এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতি এবং তেলের দামের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।