
ঠিক কী চলছে আমেরিকায়? বড়সড় কোনও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে তারা? অন্তত এমনই ইঙ্গিত মিলছে দেশটির একটি কাজে। ইতিমধ্যেই পেন্টাগন নিজেদের সামরিক ঘাঁটিগুলিকে নিয়ে ডুমস ডে প্ল্যানিং করে ফেলেছে। পেন্টাগন এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলি বাইরের কোনও সাহায্য ছাড়াই টানা ৯০ দিন নিজেদের কাজ চালিয়ে যেতে পারবে। আর ঠিক এমন সময়ই সেই দেশের সাধারণ নাগরিকদেরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিলেন FBI-এর প্রাক্তন ডেপুটি ডিরেক্টর ড্যান বংগিনো।
প্রসঙ্গত, ফক্স নিউজের এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকার মাটিতে বড় ধরনের যুদ্ধের সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। যেই কারণে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে অন্তত ৯০ দিন বাইরের সাহায্য ছাড়াই চালু রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন। এমন যুদ্ধের জেরে বিদ্যুৎ গ্রিড বিপর্যস্ত হতে পারে, সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে এবং আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোও হুমকির মুখে পড়তে পারে। এই পরিকল্পনাকে বলা হচ্ছে ডুমস ডে প্ল্যান।
এমন পরিস্থিতিতে বংগিনো আমেরিকার পরিবারগুলিকে অন্তত তিন দিনের খাবার, পানীয় জল এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী বাড়িতে মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, জরুরি পরিষেবাগুলি স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলবে ঠিকই। তবে সেই সময়টুকুর জন্য অন্তত বাড়িতে খাবার ও জল মজুত রাখতে হবে। তাতেই এমার্জেন্সি পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে।
বুধবার 'দ্য ড্যান বংগিনো শো' পডকাস্টে তিনি বলেন, 'আজই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে রাখুন। দয়া করে এটা করুন। নিজের পরিবারের জন্য করুন।'
বংগিনোর দাবি, দেশের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী নিজেদের দায়িত্ব পালন করছে। তবে সাধারণ পরিবারগুলিকেও নিজেদের কথা ভাবতে হবে। জরুরি পরিষেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হলে তারা কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবে, তার জন্য তৈরি হওয়া প্রয়োজন।
তিনি নাগরিকদের জরুরি পরিস্থিতির জন্য রেডিও, ব্যাটারি, খাবার এবং জল পিউরিফাই করার জিনিস মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
মাথায় রাখতে হবে, মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস এবং নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগেও কাজ করেছেন বংগিনো। তাঁর বক্তব্য, জরুরি পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। পরিবারগুলির আগেভাগেই প্ল্যানিং করে রাখা উচিত।
পেন্টাগনের ৯০ দিনের প্ল্যানিং
ফক্স নিউজ ডিজিটাল এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, পেন্টাগনের 'ফর্ট্রেস' নামে একটা প্ল্যান করেছে। এর লক্ষ্য হল বড় কোনও যুদ্ধের সময় মার্কিন সামরিক বাহিনী যেন অসামরিক পরিকাঠামোর উপর নির্ভরতা কমাতে পারে।
এই প্ল্যান অনুযায়ী, আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলিকে অন্তত ৯০ দিন স্বাধীনভাবে প্রয়োজনীয় কাজ চালিয়ে যাওয়ার মতো সক্ষম করে তোলার কথা ভাবা হচ্ছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, জল, জ্বালানি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখতে হবে। আর সেটা করার ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনী অসামরিক পরিকাঠামোর উপর নির্ভর করতে পারে না।
এই পরিকল্পনায় সামরিক ঘাঁটিগুলির বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে পোর্টাবল নিউক্লিয়ার রিয়্যাক্টর, বড় আকারের ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং নিজস্ব বিদ্যুৎ গ্রিড তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে।
এছাড়া সংঘাতের সময় সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সেই কথা মাথায় রেখে গোলাবারুদ, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের মজুত গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
জরুরি পরিস্থিতিতে অসামরিক কারখানাগুলিকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের কাজে লাগানোর চেষ্টাও করছে পেন্টাগন। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যাহত হলে কীভাবে বিকল্প পথে ঘাটতি মেটানো হবে, সেটাও প্ল্যান করছে পেন্টাগন।
আমেরিকায় জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা পরীক্ষা হবে
অন্যদিকে, আগামী ১৭ নভেম্বর আমেরিকাজুড়ে জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা বা 'ইমার্জেন্সি অ্যালার্ট সিস্টেম' (EAS) পরীক্ষা করার কথা রয়েছে। ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (FEMA) এবং ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (FCC) মার্কিন ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম অনুযায়ী দুপুর ২টো ২০ মিনিট থেকে ২টো ৫০ মিনিটের মধ্যে এই পরীক্ষা চালাবে।
পরীক্ষামূলক সতর্কবার্তা টেলিভিশন এবং রেডিয়োর মাধ্যমে সম্প্রচার করা হবে। তবে মোবাইল ফোন বা অন্য কোনও ডিভাইসে এই বার্তা পাঠানো হবে না। ফেডারেল নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি তিন বছরে একবার এই ব্যবস্থার পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক।