Advertisement

ভারত-চিন না গিয়ে কেন প্রথমে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন বাংলাদেশের তারেক রহমান?

বাংলাদেশ সরকারের সূত্রের বরাত দিয়ে ‘প্রথম আলো’ জানিয়েছে, ভারত বা চিনের পরিবর্তে তৃতীয় কোনও দেশকে প্রথম সফরের জন্য বেছে নেওয়ার বিষয়টি সরকারের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল।

তারেক রহমান ও জিনপিং তারেক রহমান ও জিনপিং
Aajtak Bangla
  • দিল্লি ,
  • 04 Jun 2026,
  • अपडेटेड 2:12 PM IST
  • ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
  • তবে তাঁর প্রথম গন্তব্য বাংলাদেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ভারত বা চিন নয়

ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে তাঁর প্রথম গন্তব্য বাংলাদেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ভারত বা চিন নয়। পরিবর্তে তিনি আগামী ২১-২২ জুন মালয়েশিয়া সফরে যাবেন। এরপর ২৩ জুন থেকে চিন সফর করবেন। জিনপিংয়ের সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ তিস্তা চুক্তি নিয়েও আলোচনা করতে পারেন তারেক। 

গত মে মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল, তারেক রহমান প্রথমে চিন সফর করতে পারেন। কিন্তু আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি এবং ভারত-চিন প্রতিযোগিতার বাস্তবতা বিবেচনা করে ঢাকা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাঁর প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য নির্ধারণ করেছেন। 

বাংলাদেশ সরকারের সূত্রের বরাত দিয়ে ‘প্রথম আলো’ জানিয়েছে, ভারত বা চিনের পরিবর্তে তৃতীয় কোনও দেশকে প্রথম সফরের জন্য বেছে নেওয়ার বিষয়টি সরকারের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। সেই কারণেই মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে তারেক রহমান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ধীরে ধীরে প্রবেশ করতে চাইছেন, যাতে শুরুতেই ভারত বা চিনের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতার বার্তা না যায়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির নির্বাচনী জয়ের পর ক্ষমতায় আসা তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফরে মূলত দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বাস্তবধর্মী বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।

ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে পাঠিয়েছিল নয়াদিল্লি। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি চিঠিও তুলে দেন, যেখানে তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর মাধ্যমে নতুন বিএনপি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের আগ্রহ দেখিয়েছিল ভারত।

এই সিদ্ধান্তকে নতুন সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মালয়েশিয়াকে প্রথম সফরের জন্য বেছে নিয়ে বিএনপি সরকার এক ধরনের নিরপেক্ষতার বার্তা দিতে চাইছে বলেও মনে করা হচ্ছে। প্রথমদিকে ভুটান বা সৌদি আরব সফরের বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল বলে জানা গেছে।

মালয়েশিয়া সফরে অভিবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ, শিক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ৮ লক্ষেরও বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া সেখানে ১১ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যা চিনা শিক্ষার্থীদের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদেশি ছাত্রগোষ্ঠী।

Advertisement

অন্যদিকে, চিন সফরকে অনেক বেশি কৌশলগত গুরুত্বের বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য চিন থেকে আমদানি করে। ফলে চিন বাংলাদেশের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক অংশীদার।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামি লিগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে চিনা অবকাঠামো বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। তারেক রহমানের সফর সেই বিনিয়োগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করতে সহায়ক হতে পারে।

ঢাকার দৈনিক ‘ডেইলি স্টার’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পও আলোচ্যসূচিতে থাকতে পারে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই চিনের সমর্থন চাওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে। তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশে জনমতও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। গত বছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তিস্তা মাস্টার প্ল্যান দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশের ন্যায্য জলের অংশ নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভও হয়েছিল।

এদিকে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে আমেরিকারও প্রভাবও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে মুহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হওয়া আমেরিকা-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি সেই প্রভাবেরই উদাহরণ। ফলে বেইজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক আরও জটিল মাত্রা পেয়েছে।

সব মিলিয়ে, প্রথম সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়ে বাংলাদেশ সরকার তাৎক্ষণিক উচ্চপর্যায়ের ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বদলে বাস্তবমুখী সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিয়েছে। একইসঙ্গে চিনের সঙ্গে গভীরতর অর্থনৈতিক সম্পর্কের পথও খোলা রাখছে।

দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল করা এবং আন্তর্জাতিক আস্থা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার মধ্যেই এই সফরগুলি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর তাৎপর্যপূর্ণ। 

Read more!
Advertisement
Advertisement