Advertisement

Ukraine Drone Attack on Moscow: মস্কোয় বিরাট হামলা! ৩৭০ ড্রোনে রাশিয়ায় তাণ্ডব চালাল ইউক্রেন

৩৭০ ড্রোনে মস্কো কাঁপাল ইউক্রেন! আকাশ ঢাকল কালো ধোঁয়া, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টিতে জবাব পুতিনের।

আকাশ ঢাকল কালো ধোঁয়া, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টিতে জবাব পুতিনের।আকাশ ঢাকল কালো ধোঁয়া, পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টিতে জবাব পুতিনের।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 19 Jul 2026,
  • अपडेटेड 1:28 PM IST
  • ৩৭০ ড্রোনে মস্কো কাঁপাল ইউক্রেন।
  • এক রাতে ৩৭০টিরও বেশি ড্রোন রাশিয়ার রাজধানী ও তার আশপাশের এলাকায় পাঠানো হয়েছিল।
  • হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা আক্রমণ চালায় রাশিয়া।

Ukraine Drone Attack on Moscow: মস্কোর কাছে শহরতলিতে ড্রোন হামলা চালালো ইউক্রেন। রুশ প্রশাসনের দাবি, এক রাতে ৩৭০টিরও বেশি ড্রোন রাশিয়ার রাজধানী ও তার আশপাশের এলাকায় পাঠানো হয়েছিল। অধিকাংশ ড্রোন রুখে দেওয়া গেলেও কয়েকটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। এর জেরে মস্কোর পূর্বে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ তেল সংরক্ষণাগার এবং একটি বিশাল লজিস্টিক্স কমপ্লেক্সে আগুন লাগে। বহু ঘণ্টা ধরে আকাশ ঢেকে যায় ঘন কালো ধোঁয়ায়।

অন্য দিকে, এই হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা আক্রমণ চালায় রাশিয়া। ইউক্রেনের বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর এক দফায় এত সংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আগে ছোড়েনি মস্কো। ইউক্রেনের বায়ুসেনার দাবি, রাতভর ৪১টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে রাশিয়া। তার মধ্যে ১৮টি মাঝ আকাশেই ভূপাতিত করা হয়েছে।

রুশ প্রশাসন জানিয়েছে, ড্রোন হামলার মূল লক্ষ্য ছিল মস্কো থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পূর্বে ইলেকট্রোস্তাল এলাকার একটি বৃহৎ লজিস্টিক্স কমপ্লেক্স এবং নোগিনস্কের তেল ডিপো। ইলেকট্রোস্তালে অবস্থিত ওই কমপ্লেক্সটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ই-কমার্স সংস্থার পণ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্য দিকে, নোগিনস্কের তেল ডিপোতে একাধিক জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাঙ্ক রয়েছে। হামলার পর সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

মস্কোর মেয়র জানিয়েছেন, রাজধানী অভিমুখে আসা শতাধিক ড্রোনের মধ্যে অধিকাংশই রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়। তবে কিছু ড্রোন নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলের একাধিক দলকে মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, আপাতত জ্বালানি সরবরাহে বড় কোনও বিপর্যয় ঘটেনি। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলার পক্ষে সওয়াল করে বলেছেন, রাশিয়ার সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কেন্দ্রগুলিকেই নিশানা করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ওই লজিস্টিক্স কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে রুশ ড্রোন উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় নিষিদ্ধ যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা হচ্ছিল। সেই কারণেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

Advertisement

বিশ্লেষকদের মতে, গত তিন বছরের যুদ্ধে ইউক্রেন এখন সীমান্তের বাইরে গিয়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলার কৌশল আরও জোরদার করছে। দীর্ঘ-পাল্লার ড্রোন ব্যবহারের ফলে মস্কো ও তার আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও আর সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকছে না।

অন্য দিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। রুশ প্রশাসনের অভিযোগ, ইউক্রেন বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে ‘সন্ত্রাসবাদী কৌশল’ গ্রহণ করেছে। যদিও কিয়েভের দাবি, তাদের লক্ষ্য ছিল শুধুমাত্র সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত অবকাঠামো।

রাশিয়ার রাজধানী মস্কো বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা বলয়ে সুরক্ষিত বলে মনে করা হয়। এস-৪০০-সহ একাধিক আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেখানে মোতায়েন রয়েছে। তা সত্ত্বেও একযোগে বিপুল সংখ্যক ড্রোন পাঠানোর ফলে কয়েকটি ড্রোন প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞেরা। এর ফলে রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

যুদ্ধের দীর্ঘায়িত প্রভাব ইতিমধ্যেই দুই দেশের অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ ও সাধারণ মানুষের জীবনে পড়েছে। নোগিনস্কের তেল ডিপোতে বড় ধরনের ক্ষতি হলে মস্কো অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক্স অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খলেও সাময়িক চাপ তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সীমান্তের বহু দূরের শহরগুলিও আর নিরাপদ নয়। এক দিকে ইউক্রেন ড্রোন হামলার ক্ষমতা বাড়াচ্ছে, অন্য দিকে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার তীব্রতা আরও বাড়াচ্ছে। ফলে সংঘাত দ্রুত থামার কোনও লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না। কূটনৈতিক মহল শান্তি আলোচনার পক্ষে সওয়াল করলেও যুদ্ধক্ষেত্রে দুই পক্ষই আপাতত নিজেদের অবস্থান থেকে সরতে রাজি নয়। 

Read more!
Advertisement
Advertisement