Advertisement

New World Map: আসছে নতুন ওয়ার্ল্ড ম্যাপ, নয়া মানচিত্রে কী কী পরিবর্তন?

এবার বিশ্বের নতুন মানচিত্র আসছে। টোগোর নেতৃত্বে নয়া ওয়ার্ল্ড ম্যাপের প্রস্তাব আনা হয়। এতে সমর্থন ছিল আফ্রিকান ইউনিয়নের। এই প্রস্তাব ১৬৪-১ ভোটে পাস হয়েছে। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। যদিও এই ম্যাপের বিরোধিতা করেছে আমেরিকা।

নতুন বিশ্ব মানচিত্রনতুন বিশ্ব মানচিত্র
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 05 Sep 2026,
  • अपडेटेड 9:37 AM IST
  • এবার বিশ্বের নতুন মানচিত্র আসছে
  • টোগোর নেতৃত্বে নয়া ওয়ার্ল্ড ম্যাপের প্রস্তাব আনা হয়
  • এতে সমর্থন ছিল আফ্রিকান ইউনিয়নের

বিশ্বের মানচিত্র নিয়ে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এবার রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদ বা জেনারেল অ্যাসেম্বলি বর্তমানে প্রচলিত মার্কেটর ওয়ার্ল্ড ম্যাপের বদল করতে চেয়েছে। তার বদলে নতুন একটি ম্যাপ ব্যবহারের পক্ষে ভোট দিয়েছে। সেখানে বিভিন্ন মহাদেশের প্রকৃত আয়তনের আরও নির্ভুলভাবে ফুটে উঠেছে। নতুন এই ম্যাপে আফ্রিকাকে তুলনামূলকভাবে অনেক বড় দেখান হয়েছে। আর ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাকে ছোট দেখানো হয়েছে।

টোগোর নেতৃত্বে এই প্রস্তাব আনা হয়। এতে সমর্থন ছিল আফ্রিকান ইউনিয়নের। এই প্রস্তাব ১৬৪-১ ভোটে পাস হয়েছে। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। যদিও এই ম্যাপের বিরোধিতা করেছে আমেরিকা।

ওয়াশিংটন এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে। মার্কিন প্রতিনিধি ইয়ারিনা ফেরেনসেভিচের মতে, ১৬ শতকের একটি মানচিত্র নিয়ে বিতর্ক করে লাভ নেই। বরং রাষ্ট্রপুঞ্জের উচিত বিশ্বের প্রকৃত সমস্যাগুলির দিকে নজর দেওয়া। 

অন্যদিকে আবার বেজায় খুশি আফ্রিকান ইউনিয়ন। তারা এই ভোটকে 'ঐতিহাসিক পদক্ষেপ' হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, বিশ্বের মানচিত্রে বিভিন্ন মহাদেশ ও দেশের আয়তনকে আরও নির্ভুলভাবে তুলে ধরার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রস্তাবে মূলত ২০১৮ সালে তৈরি ইক্যুয়াল আর্থ প্রোজেকশন ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। 

বর্তমানে মার্কেটর মানচিত্র কী?
ফ্লেমিশ কার্টোগ্রাফার জেরার্ডাস মার্কেটর ১৫৬৯ সালে মার্কেটর প্রোজেকশন তৈরি করেছিলেন। মূলত সমুদ্রপথে নৌ-চলাচলের সুবিধার জন্য এই মানচিত্র তৈরি করা হয়েছিল। 

তবে পৃথিবীর গোলাকার পৃষ্ঠকে সমতল মানচিত্রে তুলে ধরলে কিছু না কিছু বিকৃতি হওয়াই স্বাভাবিক। তাই মার্কেটর প্রোজেকশনে নিরক্ষরেখা থেকে যত দূরে যাওয়া যায়, বিশেষ করে মেরু অঞ্চলের দিকে, স্থলভাগ তত বেশি বড় দেখায়।

ফলে উত্তর গোলার্ধের বিভিন্ন অঞ্চল তুলনায় অনেক বড় মনে হয়। অন্যদিকে আফ্রিকার মতো নিরক্ষরেখার কাছাকাছি থাকা অঞ্চল তুলনামূলকভাবে ছোট দেখায়।

এর সবচেয়ে ভাল উদাহরণ হল গ্রিনল্যান্ড ও আফ্রিকা। মার্কেটর ম্যাপে গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকার প্রায় সমান আকারের মনে হয়। বাস্তবে আফ্রিকা প্রায় ১৪ গুণ বড় গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে।

Advertisement

এই প্রোজেকশন ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং রাশিয়া মতো জায়গাগুলি আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও এশিয়ার কিছু অংশের তুলনায় বেশি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বলে চোখে পড়ে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে মার্কেটর মানচিত্র ভৌগোলিকভাবে ভুল'। জাহাজ ও নৌকা চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে তৈরি হওয়ায় এর এই বিকৃতি রয়েছে। কিন্তু স্কুল, অফিসে এই ধরনের ম্যাপ খুব ব্যবহার হয়। সেখানে মানুষ অনেক সময় মহাদেশগুলির আপেক্ষিক আকার সম্পর্কে ভুল ধারণা পেতে পারেন।

ইক্যুয়াল আর্থ কীভাবে আলাদা?

ইক্যায়ুল আর্থ হল একটি ইক্যুয়াল এরিয়া প্রোজেকশনের মাধ্যমে তৈরি। অর্থাৎ এই ম্যাপে দেশ ও মহাদেশগুলির আয়তন বাস্তবের অনুপাতে দেখানো হয়। তবে এখানেও তাদের আকৃতি পুরোপুরি নিখুঁত নয়।

ফলে ইক্যুয়াল মানচিত্রে আফ্রিকা অনেক বড় দেখায়। অন্যদিকে মার্কেটর মানচিত্রের তুলনায় ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা ছোট দেখায়। লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়ার আকারও তুলনামূলকভাবে বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

২০১৮ সালে একদল কার্টোগ্রাফার এই প্রোজেকশন তৈরি করেন। আর এই মানচিত্রের উপর অনেকের সমর্থন রয়েছে।

কেন মানচিত্র পরিবর্তনের দাবি?
এই পরিবর্তনের দাবির নেতৃত্ব দিয়েছে টোগো। আফ্রিকা গ্রুপের পাশাপাশি আফ্রিকান ইউনিয়নও এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছে। 

আফ্রিকান ইউনিয়নের বক্তব্য, 'শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মার্কেটর প্রোজেকশন আফ্রিকাকে গ্রিনল্যান্ডের সমান আকারে দেখিয়ে এসেছে। অথচ বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে ১৪ গুণ বড়।'


এরপর কী হবে?

টোগো জানিয়েছে, বছরের শেষের মধ্যে তারা নিজেদের স্কুলের ভূগোলের বই ও শিক্ষাসামগ্রীতে মার্কেটর প্রোজেকশনের পরিবর্তে ইক্যুয়াল আর্থ ব্যবহার করবে।
 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement