
শেষ হয়েও হচ্ছে না শেষ। এমনটাই অবস্থা মধ্যপ্রাচ্যের অশান্তির। তবে অবশেষে আমেরিকা ও ইরান নাকি একে অপরের ওপর হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। যতদূর খবর, হঠাৎ করে বেড়ে ওঠা উত্তেজনার পর শান্তি চুক্তি বাঁচানোর নতুন প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার কাতারে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে চলেছে তারা।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষ ‘কাইনেটিক অ্যাক্টিভিটি’ বা সরাসরি সামরিক অভিযান স্থগিত রাখতে চলেছে। এই সময় হরমুজ প্রণালী নিয়েও আলোচনা চলবে। আর ওয়াশিংটন ও তেহরানের অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি ঘোষণার মাত্র ১১ দিন পর এই নতুন আপডেট এল।
তবে সেই ডিল নিয়ে মতবিরোধ হয়। যার জেরে দুই দেশ নতুন করে হামলা চালিয়েছে। তাতেই যুদ্ধবিরতি দ্রুত অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। তবে আবার গলতে শুরু করেছে বরফ।
যতদূর খবর, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের পর দুই দেশের কর্মকর্তারা এখন দোহায় বৈঠকে বসবেন। তারা চুক্তি অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি নতুন ঝামেলা অশান্তি এড়ানোর চেষ্টা করবেন।
মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, মঙ্গলবারের বৈঠকের আগে ওয়াশিংটন ও তেহরান সামরিক অভিযান স্থগিত রাখছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, 'আমরা সব ধরনের কাইনেটিক কার্যকলাপ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
অপর কর্মকর্তা বলেন, উভয় পক্ষ আপাতত পিছিয়ে যাবে। জাহাজগুলো অবাধে চলাচল করতে পারবে। আবার আলোচনাও চলবে।
এই বৈঠকটি সুইজারল্যান্ডে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সপ্তাহান্তে আবার উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি। সামরিক সংঘর্ষের পর কূটনীতিকরা বৈঠকের স্থান দোহায় সরিয়ে আনেন। আলোচনার মূল বিষয় হিসেবে হরমুজ প্রণালীকে নির্ধারণ করেন।
সবচেয়ে বড় বিতর্কের কেন্দ্র হরমুজ প্রণালী
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া চুক্তির বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিতে সম্মত হয়েছিল আমেরিকা।
যদিও উইকএন্ডে বদলে যায় পরিস্থিতি। তেহরান দাবি জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে সরাসরি ইরানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। তারপরই পরিস্থিতি বিগড়ে যেতে শুরু করে।
এই সময় ইরানের সামরিক পরিকাঠামোতে হামলা চালায় আমেরিকা। প্রত্যুত্তরে ইরান কুয়েত ও বাহারিনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। তবে এমন পরিস্থিতিতে আবার আলোচনায় বসছে দুই দেশ। এখন দেখার ঠিক কোন দিকে যায় পরিস্থিতি।