
ফের একবার ইরানের উপর ভয়াবহ হামলা চালাল আমেরিকা। এই নিয়ে পরপর ৬ রাত মিসাইল অ্যাটাক অব্য়াহত রইল। যদিও এত খারাপের মাঝেও একটা ভাল খবর রয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ এখনও খোলা রয়েছে। ইরান এখনও ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছতে আগ্রহী।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)-এর দাবি, সর্বশেষ এই সামরিক অভিযান শুরু হয় আমেরিকার সময় দুপুর ২টো নাগাদ। তাদের দাবি, এই অ্যাটাকের লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে দুর্বল করা।
সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে আরও দুর্বল করার উদ্দেশ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা শুরু করেছে।'
এই ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, 'আমেরিকার মিসাইল' দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস এবং তার আশপাশের এলাকায় আঘাত হেনেছে। প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালীর তীরে অবস্থিত এই শহরটি ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহরও দাবি করেছে, কেশম দ্বীপের কাছেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ইরান এখনও চুক্তি করতে চায়
নতুন করে সামরিক হামলা শুরু হওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগেই হোয়াইট হাউস জানায়, সংঘাত বাড়লেও ইরান এখনও আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, তেহরান এখনও ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছতে চায়।
তিনি বলেন, 'ইরান এখনও আমেরিকার সঙ্গে কথা বলছে। আমাদের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে চায়। কারণ, তারা আমাদের সেনাবাহিনীর ভয়ঙ্কর আঘাতের মুখে পড়েছে।'
এছাড়া তিনি এই অভিযানকেও সমর্থন করেন। তাঁর দাবি , প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে ইরানের পদক্ষেপের জবাব না দিয়ে বসে থাকবেন না।
লেভিট বলেন, 'ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীতে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে দেবেন না। তিনি নিশ্চিত করবেন যে ইরান এর পরিণতি ভোগ করবে।'
ইরানের দক্ষিণ উপকূলে জোর হামলা
ইরানকে সবরকমভাবে শেষ করে দিতে চায় আমেরিকা। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের বাহিনী দক্ষিণ উপকূলের সামরিক ঘাঁটিগুলি ব্যবহার করে হরমুজ থেকে যাওয়া বাণিজ্যিক জাহাজকে হুমকি দিচ্ছে। তাই সেখানেই আঘাত হানছে আমেরিকা।
জাহাজ চলাচলে সমস্যা
এহেন হামলা এবং পাল্টা হামলার জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত রয়েছে। আসলে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। তাই এটা অত্যন্ত জরুরি সমুদ্রপথ। তাই এখান দিয়ে ঠিক ঠাক জাহাজ চলাচলের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ফের তেলের দাম বেড়েছে। এমনকী বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।