
Strait of Hormuz Blockade: সোমবার ভোররাত থেকে হরমুজ প্রণালীতে ইরানি বন্দরগামী এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসা সমস্ত জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করল আমেরিকা। মার্কিন নৌবাহিনীর রণতরীগুলো এখন এই জলপথের দখল নিয়েছে। ওয়াশিংটনের এই চরম পদক্ষেপের পর মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়ংকর যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটিই সম্ভবত সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
বিশ্বের খনিজ তেলের সিংহভাগ সরবরাহ হয় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। আর সেখানেই এখন মার্কিন ড্রোন ও যুদ্ধজাহাজের টহল। হোয়াইট হাউসের দাবি, ইরানের ওপর আর্থিক ও সামরিক চাপ বাড়িয়ে তাদের ‘বেয়াড়া’ আচরণের রাশ টানতেই এই নৌ-অবরোধ। কিন্তু তেহরান একে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবেই দেখছে। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, তাদের জাহাজ চলাচল বন্ধ করা হলে এর ফল হবে মারাত্মক। সমুদ্রের নীল জলরাশি যে কোনও মুহূর্তে লাল হয়ে উঠতে পারে বারুদের ধোঁয়ায়।
পেন্টাগন সূত্রের খবর, এই অবরোধের ফলে কেবল ইরান নয়, গোটা বিশ্বের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইরান ইতিপূর্বেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে তারা পালটা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। যদি ইরান সরাসরি কোনও মার্কিন রণতরীতে হামলা চালায়, তবে তা থেকে বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা। ইজরায়েল ও আরবের অন্যান্য দেশগুলোও এখন সতর্ক অবস্থানে। সব মিলিয়ে গাজা ও ইউক্রেনের পর তৃতীয় এক বিধ্বংসী যুদ্ধক্ষেত্রের সামনে দাঁড়িয়ে মানবসভ্যতা।
জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার অর্থ হলো বিশ্ববাজারে তেলের আকাল। শেয়ার বাজারে ধস নামার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর ভাষণে একে ‘শয়তানের আস্তানায় হানা’ বলে অভিহিত করলেও, ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো এই অবরোধ নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত। কূটনীতির রাস্তা ছেড়ে পেশি প্রদর্শন কি শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে বিশ্বকে? উত্তর এখন লুকিয়ে আছে পারস্য উপসাগরের উত্তাল তরঙ্গে।