
আমেরিকা-ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা ফেল করে গিয়েছে। এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর উপদেষ্টারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা পুনরায় শুরু করা এবং হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ আরোপের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছেন। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে স্থগিত হয়ে থাকা চুক্তিটি ভাঙার চেষ্টায় পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই এই পদক্ষেপগুলি নেওয়া হচ্ছে।
ইরানের উপর চাপ বাড়ানোর প্ল্যান শুরু
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের (ডব্লিউএসজে) তথ্য মতে, ট্রাম্প রবিবার ফ্লোরিডার ডোরালে তাঁর রিসর্টে উপদেষ্টাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ফক্স নিউজকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর, তিনি ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন বিকল্প খতিয়ে দেখছেন। যে কোনও সময় ইরানের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানোর জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।
পর্দার আড়ালের আলোচনা এখন নিষ্ফল প্রমাণিত
প্রতিবেদন অনুসারে, গত কয়েকদিন ধরে চলা পর্দার আড়ালের আলোচনা এখন নিষ্ফল প্রমাণিত হয়েছে। ইরানের শর্ত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবির মধ্যকার ব্যবধান পূরণ হতে ব্যর্থ হওয়ায় কূটনৈতিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলস্বরূপ, ট্রাম্প প্রশাসন এখন সামরিক চাপ বাড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে।
ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যদি কোনও ‘প্রকৃত চুক্তি’ না হয়, তবে সামরিক পদক্ষেপই একমাত্র উপায় হবে। এখন যেহেতু আলোচনা ভেস্তে গিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা তৈরি করছে। ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, একমাত্র সামরিক শক্তিই ইরানকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্কট আরও তীব্র হচ্ছে
মধ্যপ্রাচ্যের ওপর আবারও যুদ্ধের ছায়া। বোমা হামলার খবরটি আন্তর্জাতিক বাজার এবং ভূ-রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই অভিযান শুরু হলে এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে। বিশ্ব এখন হোয়াইট হাউসের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছে।
নিজের সোশ্য়াল মিডিয়া প্লাটফর্ম দ্য ট্রুথ-এ ট্রাম্প বলেছেন, 'বিশ্বের সেরা মার্কিন নৌবাহিনী এখন থেকে হরমুজ প্রণালীতে সব জাহাজের প্রবেশ ও বাহির পথ আটকাবে। অবিলম্বে এই নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে নৌবাহিনীকে।' এই বলেই অবশ্য থেমে থাকেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, অতীতে আন্তর্জাতিক হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েও সেখান থেকে সরে এসেছে ইরান।