
খাতায় কলমে যুদ্ধ বিরতি। তবে তাতেও উত্তেজনা কমছে কই। এই যেমন আমেরিকা জানিয়েছে, এই উইকএন্ডেই ইরানের গোরুক এবং কেশম দ্বীপে অবস্থিত ব়্যাডার ও ড্রোন কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে তারা। এটি আত্মরক্ষামূলক হামলা বলেই তারা জানিয়েছে। আর তাতেই বাকি বিশ্বের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট হচ্ছে।
মাথায় রাখতে হবে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে বৃহত্তর সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। তবে তারই মাঝে এই আক্রমণ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে এই পদক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েক সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে একাধিক সামরিক সঙ্কট সামনে এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে আরও সঙ্কটময় অবস্থা তৈরি হয়েছে বলেই জানিয়েছেন তারা।
আমেরিকা এবং ইরান দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে।
এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, শনিবার এবং রবিবার এই হামলাগুলি চালানো হয়েছিল। তাদের ভাষায় এটি ছিল, ইরানের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের জবাব।
তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমার উপর দিয়ে উড়ে যাওয়া একটি মার্কিন এমকিউ ১ ড্রোনকে নামিয়ে ঠিক করেনি ইরান। এরই জবাব হিসেবে প্রত্যুত্তর দিয়েছে আমেরিকা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল সিস্টেম এবং দু'টি ওয়ান ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন ধ্বংস করেছে।
তাদের দাবি, এই ড্রোন ও সামরিক পরিকাঠামো এই অঞ্চলের জলসীমায় চলাচলকারী জাহাজগুলির জন্য বিপদ তৈরি করছিল।
এছাড়াও এই অভিযানে কোনও মার্কিন সেনা সদস্য আহত হননি বলেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে।
এক্স-এ করা এক পোস্টে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, 'চলমান যুদ্ধবিরতির সময় ইরানের অযৌক্তিক আগ্রাসনের জবাবে আমেরিকার সম্পদ ও স্বার্থ রক্ষায় CENTCOM ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে থাকবে।'
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) জানিয়েছে, তাদের এরোস্পেস ফোর্স সিরিক দ্বীপের কাছে একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এটি নাকি মার্কিন অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
IRGC-র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সিরিক দ্বীপে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারের উপর মার্কিন হামলার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে তারা যে বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে, তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে চলেছে। একই সঙ্গে বৃহত্তর সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। এখন দেখার পরিস্থিতি ঠিক কোন দিকে যায়।