
US-Iran War Live Updates: পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনীতিতে ফের চরম যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন কার্যত বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জেরে দুই দেশের মধ্যে তিন সপ্তাহ আগে হওয়া একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুরোপুরি ভেঙে পড়ার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা করার পরেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এরপরই হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যুক্তি দেখিয়ে আমেরিকার সেনাবাহিনী ইরানের প্রায় ১৪০টি সামরিক ঘাঁটিতে অতর্কিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টাপাল্টি প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ইরান।
ইরানের সামরিক বাহিনী বাহরাইন কুয়েত কাতার এবং জর্ডনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় দেশের পাঁচটি প্রদেশে অন্তত ১৪ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৭৮ জন। এর পাশাপাশি ইরানের একমাত্র সচল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একেবারে কাছাকাছি বুশেহর এবং বন্দর আব্বাস এলাকাতেও ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছে। এমনকী কেরমান প্রদেশে মার্কিন হামলায় একটি যোগাযোগ টাওয়ার ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এবং সেখানে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। ইরানের এই আগ্রাসী মনোভাব এবং কাতারের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে কাতার প্রশাসন। এই ঘটনাকে মারাত্মক উস্কানি হিসেবে বর্ণনা করলেও কাতার সমস্ত পক্ষকে পুনরায় কূটনৈতিক আলোচনায় ফেরার অনুরোধ জানিয়েছে।
এই চরম উত্তেজনার আবহে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে আন্তর্জাতিক স্তরে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ওমানের মধ্যস্থতায় কাতারের প্রতিনিধিরা হরমুজ প্রণালী সংকট নিয়ে ইরানের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। তুরস্ক এবং ওমান আলাদাভাবে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারও আমেরিকা ও ইরান উভয় রাষ্ট্রকে সংযত হওয়ার এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন। তবে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও জলপথে জাহাজ চলাচল পরিচালনা নিয়ে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে যে গভীর মতভেদ তৈরি হয়েছে তা সহজে মেটার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এক নতুন আন্তর্জাতিক বিষয়ক লেখকের কলমে উঠে এসেছে কীভাবে এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।