
ফের একবার অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য। একদিকে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা কার্যত থমকে গিয়েছে, অন্যদিকে সংঘাতে জড়াচ্ছে দুই দেশ। দু পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে সরব।
ইরানের আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সি শনিবার জানিয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালীর কাছে বেশ কয়েকটি টার্গেটে ‘সতর্কতামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে গুলি চালিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর গতিবিধি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, ইরানের এই গুলি চালানোর জায়গা বান্দার আব্বাসের উপকূলের কাছে অবস্থিত লারাক দ্বীপের কাছেই।
অন্যদিকে, এক মার্কিন আধিকারিক দাবি করেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালীর দিকে বেশ কয়েকটি ড্রোন দিয়ে হামলা করেছিল, যেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, "চারটি ইরানি হামলাকারী ড্রোন মাটিতে পেড়ে ফেলার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ‘উপকূলীয় নজরদারি রাডার সাইটগুলোতে’ হামলা চালিয়েছে।"
মার্কিন সেনার তরফে দাবি করা হয়েছে, "হামলাকারী ড্রোনগুলো আঞ্চলিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি করেছিল। এমন হামলা যাতে না হয়, সেই কারণে মার্কিন বাহিনী গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত ইরানের উপকূলীয় নজরদারি রাডার সাইটগুলোতে হামলা চালিয়েছে।" উল্লেখ্য, কেশম দ্বীপপুঞ্জ বন্দর আব্বাস ও লারেকের কাছে অবস্থিত। আমেরিকার দাবি, আত্মরক্ষার্থে ইরানি আগ্রাসনের জবাব দেওয়া অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে, ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলি বন্দর আব্বাসে হামলার দাবিকে ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছে।
এই হামলা ও পাল্টা হামলার কিছুক্ষণ আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি টিভি সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ইরানের কাছে এখন মাত্র ২১-২২ শতাংশ মিসাইল অবশিষ্ট রয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছিল। তবে, এ ধরনের হামলা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে, ইরানের ড্রোন কুয়েতের প্রধান বিমানবন্দরের একটি প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে বিস্ফোরণ ঘটালে একজনের মৃত্যু হয়, জখম হন বেশ কয়েকজন। সেই ঘটনা নিয়ে যথেষ্ট চাপানোতর চলে। বিমানবন্দরটি কিছু সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়।
যদিও ট্রাম্পের দাবি, তাঁর প্রশাসন শীঘ্রই এই সংঘাত শেষের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, 'যে কোনও উপায়েই আমরা জিতব।'