
আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন বা মিডটার্ম ইলেকশনে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের জয়জয়কার। খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্পের গড় ফ্লোরিডায় জিতে গেলেন ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রার্থী পিয়া ডান্ডিয়া। অর্থাত্ ফ্লোরিডায় জিতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত পিয়া যাচ্ছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টিটিভসে। ওহাইওর গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বী বিবেক রামাস্বামী প্রাথমিক ট্রেন্ডে পিছিয়ে আছেন। অমিশ শাহ, নিত্য রমন এবং সরিতা কোম্মারেড্ডির নির্বাচনী ফলাফল এখনও অস্পষ্ট। ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রার্থীরা এখনও পর্যন্ত কে কোন জায়গায় রয়েছেন গণনায়, একনজরে দেখে নেওয়া যাক।
৩ নভেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিস্তর অনিশ্চয়তা। মার্কিন কংগ্রেসে যদি দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ হারায় রিপাবলিকান পার্টি, তাহলে ট্রাম্প সরকার নীতি পঙ্গুত্বে ভুগবে আগামী দু বছর। ট্রাম্পের যে কোনও নীতি বা সিদ্ধান্ত চাইলেই আডকে দিতে পারে ডেমোক্র্যাটরা।
প্রাথমিক ফলাফল এবং নির্বাচনী পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখলে দেখা যাচ্ছে, একাধিক আসনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের পারফর্ম্যান্সও এবারের নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফ্লোরিডায় ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী পিয়া ডান্ডিয়া জয়ী হয়েছেন। তবে বিবেক রামাস্বামী, আমিশ শাহ, নিত্য রমন এবং সরিতা কোম্মারেড্ডির নির্বাচনী লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ফ্লোরিডায় জয়ী পিয়া ডান্ডিয়া
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী পিয়া ডান্ডিয়া ফ্লোরিডার ২২তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়লাভ করেছেন। ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে। প্রায় ৯৪ শতাংশ ভোট গণনা শেষে পিয়া পেয়েছেন ৫২.২ শতাংশ ভোট। তাঁর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী কেসি আসকার পেয়েছেন ৪৭.৮ শতাংশ ভোট। আসন পুনর্বিন্যাসের কারণে এই কেন্দ্রটি খালি ছিল। কোনও বর্তমান সাংসদ নিজের আসন ধরে রাখার জন্য লড়াই করেননি। পিয়া ডান্ডিয়া একজন প্রাক্তন স্কুল প্রিন্সিপাল। ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের মধ্যে তাঁর জয়কে এবারের নির্বাচনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ওহাইওতে পিছিয়ে বিবেক রামাস্বামী
ওহাইওর গভর্নর পদে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিবেক রামাস্বামী। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবেও পরিচিত। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী অ্যামি অ্যাকটন। প্রাথমিক ভোট গণনায় রামাস্বামীর তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন অ্যাকটন। প্রায় ২৮ থেকে ২৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে অ্যামি অ্যাকটন পেয়েছেন ৬১ থেকে ৬২ শতাংশ ভোট। অন্যদিকে, রামাস্বামীর প্রাপ্ত ভোটের হার ৩৫ থেকে ৩৬ শতাংশের মধ্যে। তবে ভোট গণনা এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
আমিশ শাহের আসনেও নজর
অ্যারিজোনার প্রথম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমিশ শাহ। তাঁর প্রতিপক্ষ রিপাবলিকান প্রার্থী জে ফিলি। নির্বাচনের আগে এই আসনটিকে অনিশ্চিত ফলাফলের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। কয়েকটি জনমত সমীক্ষা ও নির্বাচনী পূর্বাভাসে আমিশ শাহকে সামান্য এগিয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। তবে আজ অর্থাত্ ৪ নভেম্বর সকাল পর্যন্ত এই আসনের চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর জয় বা পরাজয় নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।
লস অ্যাঞ্জেলসের মেয়র পদে নিত্য রমনের লড়াই
লস অ্যাঞ্জেলসের মেয়র পদেও এবারের নির্বাচনে নজর কেড়েছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রার্থী নিত্য রমনের লড়াই। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শহরের বর্তমান মেয়র ক্যারেন বাস। নির্বাচনের আগে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিল বিভিন্ন সমীক্ষা। উভয় প্রার্থীর সমর্থনের হার প্রায় ৪০ শতাংশের কাছাকাছি ছিল। তবে আজ সকাল পর্যন্ত ভোট গণনা সম্পূর্ণ না হওয়ায় চূড়ান্ত ফলাফল স্পষ্ট হয়নি।
নিউইয়র্কে সরিতা কোম্মারেড্ডির প্রতিদ্বন্দ্বিতা
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সরিতা কোম্মারেড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের বিরুদ্ধে। নির্বাচনের আগে একাধিক জনমত সমীক্ষায় জেমসকে এগিয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। কয়েকটি সমীক্ষায় দুই প্রার্থীর মধ্যে ১৩ শতাংশেরও বেশি ভোটের ব্যবধানের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
কেন গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন?
আমেরিকায় প্রেসিডেন্টের কার্যকালের মেয়াদ চার বছর। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক দু’বছর পর যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাকেই বলা হয় মধ্যবর্তী নির্বাচন বা মিডটার্ম ইলেকশন। এই নির্বাচনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে ভোটগ্রহণ হয়। পাশাপাশি, সেনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসন এবং বিভিন্ন রাজ্যের গভর্নর-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। মার্কিন কংগ্রেসের দুটি কক্ষ রয়েছে। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস হল নিম্নকক্ষ। এর সদস্য সংখ্যা ৪৩৫। উচ্চকক্ষ সেনেটের সদস্য সংখ্যা ১০০। প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা দু’বছরের জন্য নির্বাচিত হন। সেনেটরদের কার্যকালের মেয়াদ ছ’বছর হলেও প্রতি দু’বছর অন্তর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন হয়।