
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে শান্তি চুক্তি প্রসঙ্গে কড়া বার্তা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। মিশরের আরব প্রজাতন্ত্রে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়। সেখানে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমান MoU এখনও চূড়ান্ত নয়। যদি তিনি এই চুক্তিতে অসম্মতি জানান, তবে আমেরিকা পুনরায় যুদ্ধ করতে বোমা ফেলতে পারে।
মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসির সঙ্গে বৈঠকে ইরান চুক্তি নিয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অত্যন্ত শক্তিশালী চুক্তি হয়েছে। তবে তিনি একথা বলেন, "এর চূড়ান্ত রূপ কী হবে, তা এখনও কেউই পুরোপুরি জানে না।" তিনি দাবি করেছেন, অধিকাংশ মানুষ এই চুক্তিতে খুশি বলে মনে হচ্ছে। এই চুক্তির বিকল্প হতে পারে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও মন্দা। কিছু মানুষ বৈশ্বিক মন্দা চায়।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, "যারা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা দেখতে চায় তারা বোকা। এমন লোকেরা বিশ্ব অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতার গুরুত্ব বোঝে না। প্রথমত, হরমুজ প্রণালীটি কখনওই খুলবে না।"
যদিও তিনি কোন সমুদ্রপথের কথা উল্লেখ করছেন তা নির্দিষ্ট করে বলেননি। ট্রাম্প ইরানে আনুমানিক ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় মার্কিন বিনিয়োগের বিষয়টিও নাকচ করে দিয়েছেন।
তবে এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেন, "এই ধরনের প্রতিবেদন সম্পূর্ণ মিথ্যা। এই চুক্তির অংশ হিসেবে আমেরিকা কোনও ৩০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে না। ইরানের সঙ্গে আলোচনার অবস্থা স্পষ্ট করে ট্রাম্প বলেন, বর্তমান চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।" চূড়ান্ত চুক্তি গ্রহণযোগ্য না হলে আমেরিকা যুদ্ধে ফিরে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পটি বিবেচনাধীন থাকবে।
জি৭ সম্মেলনে ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে ইরানের প্রতি একটি সরাসরি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে আমেরিকা চুক্তির সম্ভাবনা খোলা রাখতে চাইছে, অন্যদিকে এ বার্তাও দিচ্ছে যে তারা তাদের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে কোনও আপস করবে না।
আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে এই বৈঠক থেকে এটা স্পষ্ট হয়েছে, ইরানকে আমেরিকা এখনও কূটনীতি ও চাপের মধ্যেই রাখতে চাইছে।