
ইসলামাবাদে শান্তি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্কট আরও গভীর হয়ে উঠল। ফলে যে কোনও মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে দুই দেশের ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি। উত্তেজনার পরিস্থিতির পারদ আরও একধাপ চড়িয়ে এবার ইরানের সমস্ত বন্দরগুলি অবরোধ করছে আমেরিকা। ১৩ এপ্রিল, সোমবার সকাল ১০টা ET (সন্ধ্যা ৭:৩০ IST) থেকে এই অবরোধ শুরু করা হবে। এরফলে ইরানের বন্দরগুলি থেকে কোনও জাহাজ বেরোতে বা ঢুকতে পারবে না। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে এই ঘোষণা করা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্টের ঘোষণা অনুযায়ী মার্কিন বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে এন্ট্রি ও এক্সিটের ক্ষেত্রে জাহাজ, ভেসেল-সহ সমস্ত ধরনের যান চলাচলের ক্ষেত্রে অবরোধ কার্যকর করবে। আরব উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের উপকূলবর্তী জায়গাগুলিতেও ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকা ব্যবহারকারী সব দেশের জাহাজের বিরুদ্ধে এই অবরোধ প্রয়োগ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
হরমুজ দিয়ে অন্য দেশের জাহাজ যেতে পারে
ইরানের বন্দর অবরোধের পাশাপাশি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে জানানো হয়েছে, বরমুজ দিয়ে ইরান ছাড়া সমস্ত দেশের জাহাজই নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। ইরান ছাড়া অন্য দেশের জাহাজ চলাচলে বাধা দেবে না মার্কিন নেভি। তবে অন্য দেশের জাহাজের নাবিকদের ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় চলাচলের সময় সরকারি সতর্কবার্তা বা নির্দেশিকায় নজর রাখতে বলেছে সেন্ট্রাল কম্যান্ড। প্রয়োজনে চ্যানেল ১৬-এ আমেরিকান নৌবাহিনীর সঙ্গেও তাঁরা যোগাযোগ করতে পারবেন।
রবিবার ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, আমেরিকা শীঘ্রই হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে আটকানো শুরু করবে। তিনি আরও বলেন, যেসব জাহাজ ‘অবৈধ টোল’ দিচ্ছে, সেগুলোর ওপরই নজর রাখা হবে। এর কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, তারা সোমবার ভারতীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে এই অবরোধ কার্যকর করা শুরু করবে।
কেন এমন রাস্তায় হাঁটল আমেরিকা?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ দিয়ে যাওয়া বেশ কিছু জাহাজ চিনা ইউয়ান ব্যবহার করছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই, এই সিস্টেমকে পেট্রোডলার ব্যবস্থার উপর একটি চ্যালেঞ্জ ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর উপায় হিসেবে দেখছে আমেরিকা। ফলে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ওয়াশিংটন।
যদিও আমেরিকার তরফে এই ঘোষণা করা হলেও, এখনও কোনও মুখ খোলেনি ইরান। তারা কী চুপচাপ গোটা বিষয়টি মেনে নেবে? নাকি ফের একবার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হবে, তা এখন সময় বলবে।