Advertisement

Vladimir Putin Anti Aging Project: বুড়ো হওয়া রুখতে ২৬ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রজেক্ট রাশিয়ায়, অমরত্বের খোঁজ পুতিনের

শুধু ব্যক্তিগত ইচ্ছাই নয়, পুতিনের এই ‘অমরত্ব’ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এখন রাশিয়ার সরকারি নীতিতে পরিণত হয়েছে। বুড়ো হওয়া রুখতে এবং মানুষের আয়ু বাড়াতে পুতিন প্রশাসন প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার (২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি) খরচে শুরু করেছে এক বিশেষ সরকারি প্রকল্প, ‘নিউ হেলথ প্রিজারভেশন টেকনোলজিস’।

Vladimir Putin Anti Aging Project: বুড়ো হওয়া রুখতে ২৬ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রজেক্ট রাশিয়ায়, অমরত্বের খোঁজ পুতিনেরVladimir Putin Anti Aging Project: বুড়ো হওয়া রুখতে ২৬ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রজেক্ট রাশিয়ায়, অমরত্বের খোঁজ পুতিনের
Aajtak Bangla
  • নয়াদিল্লি,
  • 30 May 2026,
  • अपडेटेड 1:22 AM IST

Vladimir Putin Anti Aging Project: খালি গায়ে ঘোড়সওয়ারি, কনকনে ঠান্ডায় বরফ জলে স্নান কিংবা আইস হকি খেলা। সত্তরোর্ধ্ব বয়সেও নিজের এক চিরতরুণ ‘অজেয়’ ভাবমূর্তি দুনিয়ার সামনে তুলে ধরতে ভালোবাসেন রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন। কিন্তু এই বাহ্যিক ফিটনেসের আড়ালে কি লুকিয়ে রয়েছে আজীবন যুবরাজ হয়ে থাকার এক তীব্র বাসনা? মার্কিন সংবাদপত্র ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে ঠিক এই চাঞ্চল্যকর দাবিই করা হয়েছে। শুধু ব্যক্তিগত ইচ্ছাই নয়, পুতিনের এই ‘অমরত্ব’ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এখন রাশিয়ার সরকারি নীতিতে পরিণত হয়েছে। বুড়ো হওয়া রুখতে এবং মানুষের আয়ু বাড়াতে পুতিন প্রশাসন প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার (২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি) খরচে শুরু করেছে এক বিশেষ সরকারি প্রকল্প, ‘নিউ হেলথ প্রিজারভেশন টেকনোলজিস’।

২০২৪ সালে সরকারিভাবে লঞ্চ হওয়া এই মেগা প্রজেক্টের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ধীর করা এবং ভবিষ্যতে কৃত্রিমভাবে মানব অঙ্গ প্রতিস্থাপন করে জীবনকে দীর্ঘায়িত করা। এই মহাযজ্ঞে মূলত চারটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। জিন থেরাপি (Gene Therapy), থ্রি-ডি বায়োপ্রিন্টিং (3D Bioprinting), জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন (Xenotransplantation) এবং ক্রায়োথেরাপি (Cryotherapy)। ইতিমধ্যেই রাশিয়ার উপ-বিজ্ঞান মন্ত্রী ডেনিস সেকিরিনস্কি দাবি করেছেন, জিন থেরাপির মাধ্যমে কোষের বয়স বাড়া রুখতে তাঁরা যে ওষুধ তৈরি করছেন, তা বার্ধক্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানবজাতির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে চলেছে। অন্যদিকে থ্রি-ডি বায়োপ্রিন্টিং প্রযুক্তিতে ল্যাবরেটরির ভেতরেই জ্যান্ত কোষ দিয়ে মানুষের অঙ্গ তৈরির গবেষণা চলছে। রুশ বিজ্ঞানীদের দাবি, তাঁরা ইতিমধ্যেই ইঁদুরের থাইরয়েড গ্রন্থি এবং মানুষের তরুণাস্থি (Cartilage tissue) সফলভাবে বায়োপ্রিন্ট করেছেন। লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিস্থাপনযোগ্য সম্পূর্ণ মানব অঙ্গ তৈরি করা। এছাড়া জেনোট্রান্সপ্লান্টেশনের মাধ্যমে জিনগতভাবে পরিবর্তিত ‘মিনি-পিগ’ বা ছোট শূকরের শরীরে মানুষের অঙ্গ বড় করে তোলার মতো অবিশ্বাস্য গবেষণাও চলছে ক্রেমলিনের ছত্রছায়ায়।

পুতিনের এই অ্যান্টি-এজিং বা বয়স ধরে রাখার পাগলামি অবশ্য হঠাৎ করে শুরু হয়নি। ক্রেমলিনের প্রেস সার্ভিসও ইমেইলের মাধ্যমে স্বীকার করেছে যে, রাশিয়ায় এই সংক্রান্ত একাধিক বৈজ্ঞানিক কর্মসূচি চলছে এবং সরকার তাতে পূর্ণ আর্থিক মদত দিচ্ছে। গত বছর বেজিংয়ে একটি সামরিক প্যারেড চলাকালীন পুতিন ও চিনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের মধ্যে দীর্ঘায়ু নিয়ে হওয়া একটি গোপন কথোপকথন রেকর্ড হয়েছিল। সেখানে পুতিনকে বলতে শোনা যায়, ‘মানুষ চাইলে অঙ্গ পরিবর্তন করে অমরত্ব লাভ করতে পারে।’ সমবয়সী দুই রাষ্ট্রপ্রধানের এই আলোচনাকে শুরুতে অনেকে রসিকতা ভাবলেও, রাশিয়ার এই বিপুল বাজেটের প্রকল্প সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক মহল নড়েচড়ে বসেছে। মজার বিষয় হলো, রাশিয়ার সাধারণ পুরুষদের গড় আয়ু যেখানে মাত্র ৬৮ বছর, সেখানে দেশের রাষ্ট্রপতির অমর হওয়ার এই জেদ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কোভিডের সময় থেকেই পুতিন নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় সতর্ক। যদিও তাঁর শারীরিক কাঁপুনি (Tremors) এবং ‘বডি ডাবল’ বা রূপধারী ব্যবহারের গুজব বহুদিনের।

Advertisement

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, রাশিয়ার এই গোপন ‘অমরত্ব’ মিশনের রাশ রয়েছে পুতিনের নিজের অন্দরমহলেই। গোটা প্রকল্পের মূল কেন্দ্রে রয়েছেন পুতিনের সুযোগ্য কন্যা মারিয়া ভরোন্তসোভা, যিনি নিজে একজন প্রখ্যাত এন্ডোক্রিনোলজিস্ট (Endocrinologist) এবং রাশিয়ার একাধিক জেনেটিক্স প্রোগ্রামের দেখভাল করেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সোভিয়েত আমলের কুর্চাতভ ইনস্টিটিউটের প্রধান মিখাইল কোভালচুক। কোভালচুকের সাফ কথা, ‘অমরত্ব নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন, তবে মানুষের বিকল অঙ্গ মেরামতের ক্ষমতা যে বহুগুণ বাড়বে, তা নিশ্চিত।’ সিলিকন ভ্যালির ধনকুবের জেফ বেজোস, স্যাম অল্টম্যান বা পিটার থিয়েলদের মতোই পুতিনও এখন অ্যান্টি-এজিং গবেষণায় রাশিয়াকে বিশ্বশক্তি বানাতে মরিয়া। সরকারের দাবি, এই দশকের শেষ নাগাদ এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। তবে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান মহল কিন্তু এই দাবিগুলোকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছে না। সমালোচকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্ব বিজ্ঞান সমাজ থেকে রাশিয়া একঘরে হয়ে পড়ায় এই গবেষণার কোনও নিরপেক্ষ ‘পিয়ার-রিভিউ’ বা আন্তর্জাতিক জার্নালে পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ফলে রাজনৈতিক অনুদান ধরে রাখতে রুশ বিজ্ঞানীরা সাফল্যকে অতিরঞ্জিত করে দেখাচ্ছেন কি না, সেই সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement