Advertisement

Iran Israel War: 'আকাশ থেকে মাংস গলানো পাউডার ছড়াচ্ছে ইজরায়েল', ভয়ঙ্কর দাবি ইরানের মানবাধিকার সংগঠনের

দক্ষিণ লেবাননে হামলার ঘটনায় ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, সামরিক অভিযানে হোয়াইট ফসফরাস (White Phosphorus) ব্যবহার করা হয়েছে।

এই বিষয়ে তদন্তের দাবি তুলেছে মানবাধিকার সংগঠন Human Rights Watch। এই বিষয়ে তদন্তের দাবি তুলেছে মানবাধিকার সংগঠন Human Rights Watch।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 09 Mar 2026,
  • अपडेटेड 4:24 PM IST
  • দক্ষিণ লেবাননে হামলার ঘটনায় ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ।
  • দাবি, সামরিক অভিযানে হোয়াইট ফসফরাস (White Phosphorus) ব্যবহার করা হয়েছে।
  • সংগঠনটির দাবি, ছবি ও তথ্য যাচাই করে তারা এই হামলার প্রমাণ পেয়েছে।

Iran Israel War: দক্ষিণ লেবাননে হামলার ঘটনায় ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অভিযোগ। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, সামরিক অভিযানে হোয়াইট ফসফরাস (White Phosphorus) ব্যবহার করা হয়েছে। রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র শোরগোল আন্তর্জাতিক মহলে। সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর, লেবাননের দক্ষিণের একটি গ্রামে হামলার সময় ইজ়রায়েলি বাহিনী নাকি হোয়াইট ফসফরাসযুক্ত গোলা ফেলেছে। এই বিষয়ে তদন্তের দাবি তুলেছে মানবাধিকার সংগঠন Human Rights Watch। সংগঠনটির দাবি, ছবি ও তথ্য যাচাই করে তারা এই হামলার প্রমাণ পেয়েছে।

কোথায় হামলা?
মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, দক্ষিণ লেবাননের ইওহমোর (Yohmor) নামে একটি গ্রামে এই হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, আবাসিক এলাকায় আর্টিলারি হামলার সময় হোয়াইট ফসফরাস ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও ওই এলাকায় তখনও সাধারণ মানুষ ছিলেন কি না বা কেউ হতাহত হয়েছেন কি না; তা স্বাধীন ভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি মানবাধিকার সংগঠনটি।

এর আগে ইজ়রায়েলি সেনাবাহিনী গ্রামবাসীদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তারপরই হামলার ঘটনা ঘটে।

কী এই হোয়াইট ফসফরাস?
হোয়াইট ফসফরাস একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ। দেখতে মোমের মতো সাদা বা হলদে রঙের হয় এবং এতে তীব্র গন্ধ থাকে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হল, বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলেই এটি নিজে থেকেই জ্বলে উঠতে পারে।

জ্বলে উঠলে এর তাপমাত্রা ৮০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি হতে পারে। এত বেশি তাপমাত্রা মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। মানবদেহে পড়লে এই রাসায়নিক ত্বক পুড়িয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে এবং কখনও কখনও হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হোয়াইট ফসফরাসের ধোঁয়াও অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই ধোঁয়া শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে ঢুকলে ফুসফুস মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে শ্বাসকষ্ট, অঙ্গ বিকল হওয়া কিংবা মৃত্যুর মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

কেন বিতর্কিত  
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির মতে, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হোয়াইট ফসফরাস ব্যবহার অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের বিরুদ্ধেও যেতে পারে। এই রাসায়নিক পদার্থ আগুন ছড়াতে পারে এবং আশপাশের বাড়িঘর বা কাঠামোয় আগুন লাগিয়ে দিতে পারে।

Advertisement

মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, এই ধরনের হামলায় আহতদের মধ্যে সংক্রমণ, অঙ্গ বিকল হওয়া বা শ্বাসপ্রশ্বাসের গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।

Human Rights Watch-এর লেবানন গবেষক রামজি কায়েস বলেছেন, আবাসিক এলাকায় এই ধরনের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এর ফল ভোগ করতে হয় সাধারণ মানুষকেই।

ইজ়রায়েলের প্রতিক্রিয়া
এই অভিযোগ নিয়ে ইজ়রায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অতীতে ইজ়রায়েল দাবি করেছে, তারা হোয়াইট ফসফরাস মূলত ধোঁয়ার আড়াল তৈরি করতে বা ‘স্মোক স্ক্রিন’ হিসেবে ব্যবহার করে, সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে নয়।

যুদ্ধক্ষেত্রে কীভাবে ব্যবহার হয়
যুদ্ধক্ষেত্রে হোয়াইট ফসফরাস সাধারণত গোলা, বোমা বা রকেটে ভরে ব্যবহার করা হয়। এটি জ্বলে উঠলে ঘন সাদা ধোঁয়া তৈরি করে, যার ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের দৃষ্টিশক্তি সাময়িক ভাবে বাধাপ্রাপ্ত হয়। কখনও কখনও যুদ্ধক্ষেত্র আলোকিত করা বা শত্রুর সরঞ্জাম ধ্বংস করতেও এই অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।

লেবাননে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে ৮ মার্চ ২০২৬; এই সময়ের মধ্যে ইজ়রায়েলি বিমান হামলায় প্রায় ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছে ৮৩ শিশু, ৪২ মহিলা এবং ৯ জন উদ্ধারকর্মী।

এ ছাড়াও ১,১৩০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে সরকারি পরিসংখ্যানে দাবি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে বহু শিশু ও মহিলা রয়েছেন। দক্ষিণ লেবানন, বেকা উপত্যকা এবং বৈরুতের দক্ষিণের শহরতলিতেও একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রী রাকান নাসরেদ্দিন এই পরিস্থিতিকে মানবিক সঙ্কট বলে উল্লেখ করেছেন। আন্তর্জাতিক মহলেও গোটা পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। 

Read more!
Advertisement
Advertisement