Advertisement

Hantavirus: করোনার মতো মহামারি ছড়াবে হান্টাভাইরাস? কী কী উপসর্গ? মুখ খুলল WHO

একটি প্রমোদতরীতে ৩ জনের মৃত্যুর পর হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। করোনার পর কি এটিও তবে একটি মহামারিতে পরিণত হবে? এই নিয়ে এবার মুখ খুলল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।

Aajtak Bangla
  • নিউ ইয়র্ক,
  • 10 May 2026,
  • अपडेटेड 4:05 PM IST
  • প্রমোদতরীতে ৩ জনের মৃত্যু ঘিরে আতঙ্ক
  • মহামারিতে পরিণত হবে হান্টাভাইরাস
  • মুখ খুলল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)

করোনার পর হান্টা নামে একটি নতুন ভাইরাস বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে একটি প্রমোদতরীতে ৩ জনের মৃত্যুর পর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) পরিস্থিতি নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। কিন্তু এবার মানুষের মাধ্যমে সংক্রমণের সম্ভাবনা বিশেষজ্ঢদের উদ্বেগ বাড়িয়ছে। কারণ এই ভাইরাস কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রোগীর অবস্থার অবণতি ঘটাচ্ছে। এই বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মন্তব্য এবং এর লক্ষণগুলো গুরুত্বপূর্ণ। 

ক্রুজ হান্টাভাইরাসের তাণ্ডব
 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুসারে, জাহাজটিতে এখনও পর্যন্ত মোট ৮টি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। ৩ জন যাত্রী মারা গিয়েছেন। জাহাজটি দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে থাকাকালীন যাত্রীদের মধ্যে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট সহ গুরুতর উপসর্গ দেখা যায়। জাহাজটি বর্তমানে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে নোঙর করা আছে এবং আক্রান্তদের আলাদা করে রাখা হয়েছে। 

জলবায়ু পরিবর্তন এবং ক্রমশবর্ধমান ঝুঁকি 
দ্য গার্ডিয়ানের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ ইঁদুর বিচরণ করে এমন এলাকাগুলিতে মানুষের মধ্যে সংস্পর্শ বাড়ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই প্রাণীগুলি নতুন আবাসস্থলের সন্ধানে মানুষের বসতি বা জাহাজের কাছাকাছি চলে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভাইরাস সহজে বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায় না কিন্তু পরিবেশগত পরিবর্তনের জেরে সংক্রমণ বাড়াচ্ছে। 

হান্টাভাইরাসের লক্ষণ চিনবেন কীভাবে? 
হান্টাভাইরাস সাধারণত সংক্রমিত ইঁদুরের মল, মূত্র বা লালার সংস্পর্শে ছড়ায়। তবে এবার অ্যান্ডিস ভাইরাস স্ট্রেনটি শনাক্ত করা হয়েছে। মেয়ো ক্লিনিকের মতে, দক্ষিণ আমেরিকায় প্রাপ্ত এই স্ট্রেইনটি সীমিত পরিস্থিতিতে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়াতে পারে। ক্রুজ জাহাজে সংক্রমণের প্রধান কারণ হিসেবে এটিকেই মনে করা হচ্ছে। 

CDC এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাসের লক্ষণগুলি প্রাথমিক ভাবে সাধারণ ফ্লুয়ের মতো হওয়ায় এটি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে পেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা, কাঁপুনি এবং পেটের সমস্যা হতে পারে। সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি ফুসফুসকে আক্রান্ত করে যার ফলে মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হয়। এর মৃত্যুহার বেশি, তাই সময়মতো হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। 

Advertisement

এটি কি নতুন মহামারি?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর ড. টেড্রোস আধ্যানম ঘেব্রেইসাস হান্টাভাইরাস নিয়ে বিশ্বব্যাপী আতঙ্কের মাঝে মুখ খুলেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাবে বলেছেন, এটি করোনাভাইরাসের মতো কোনও পরিস্থিতি নয়। সাধারণ মানুষের জীবনে এর ঝুঁকি অত্যন্ত কম। তিনি বলেন, 'মানুষের হান্টাভাইরাসকে কোভিড ১৯-এর সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়। আমি এবং আমার সহকর্মীরা নিশ্চিত যে এই ভাইরাস থেকে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বর্তমানে খুবই কম। আতঙ্কিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। কারণ এটি করোনাভাইরাসের মতো ব্যাপক মহামারি নয়। সংক্রমণ প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং জাহাজের কোনও যাত্রীর মধ্যে বর্তমানে কোনও উপসর্গ দেখা যাচ্ছে না।'

প্রতিরোধই একমাত্র প্রতিকার
বর্তমানে হান্টাভাইরাসের জন্য কোনও নির্দিষ্ট টিকা বা কার্যকর অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। বিশেষজ্ঞরা রোগ নির্ণয়ের সঙ্গে সঙ্গেই রোগীকে ICU-তে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। অক্সিজেন সরবরাহ এবং শরীরে জলের ঘাটতি পূরণই রোগীর জীবন বাঁচানোর একমাত্র উপায়। এটি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল ইঁদুর জাতীয় প্রাণী থেকে দূরে থাকা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement