
এতদিন রাশিয়ার থেকে তেল কিনে এসেছে ভারত। আর এখন ঠিক উলট পুরাণ। এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভারত থেকে তেল কিনছে রাশিয়া। আর এহেন ঘটনাতেই অবাক অনেকে। ভাবছেন, ঠিক কেন ভারত থেকে তেল কিনছে রাশিয়া?
আসলে সারা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল রফতানিকারক দেশ হল রাশিয়া। অপরিশোধিত তেল তো বটেই, পরিশোধিত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রফতানিতেও একবারে প্রথম সারিতেই রয়েছে দেশটি। আর ভারত অপরিশোধিত তেলের চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানি করে। অথচ সেই রাশিয়াই এবার ভারতের কাছ থেকে পেট্রোল আমদানি করছে।
কেন ভারত থেকে তেল কিনছে রাশিয়া?
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৫ অগাস্ট ভারতের নায়ারা এনার্জি লিমিটেডের থেকে প্রায় ৪২ হাজার ব্যারেল পেট্রোলের একটি শিপমেন্ট পেয়েছে রাশিয়া। এটাই ছিল রাশিয়ার ভারত থেকে সরাসরি পেট্রোল কেনার প্রথম ঘটনা।
তবে এর আগেও তেল নিয়েছে রাশিয়া। যদিও সেটা সরাসরি নয়। ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, ১৮ জুন রাশিয়ার জাহাজ সাইক্লোন প্রথম শিপমেন্ট হিসেবে গুজরাতের ভাদিনার বন্দর থেকে ৪২ হাজার টন পেট্রোল নিয়ে রওনা দেয়। এরপর ৬ জুলাই মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের দামিয়েত্তা বন্দরের কাছে ওই জ্বালানি ওমানের পতাকাবাহী জাহাজ গারনেট-এ স্থানান্তর করা হয়। অগস্টের প্রথমে সেই জাহাজ রাশিয়ায় পৌঁছয়।
এটাই শেষ শিপমেন্ট নয়। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, জুলাই মাসে আরও অন্তত দু’টি জাহাজ ভাদিনার বন্দরে এসে জ্বালানি বোঝাই করে। পরে মিশরের বন্দরে সেই জ্বালানি অন্য জাহাজে স্থানান্তর করা হয়। সেগুলিও রাশিয়ার উদ্দেশেই রওনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে জুলাই মাসেই সংবাদ সংস্থা রয়টার্স, রাশিয়া সমুদ্রপথে পেট্রোল আমদানি শুরু করেছে। অন্তত ৬০ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোলের একটি শিপমেন্ট ভারত থেকে রাশিয়ার উদ্দেশে পাঠানো হয়েছিল। আরেকটি সূত্র অবশ্য জানিয়েছিল, ৩০ থেকে ৪০ হাজার টন করে পেট্রোল নিয়ে আরও দু’টি ট্যাঙ্কার রওনা দিয়েছে।
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় বিপর্যস্ত রাশিয়ার তেল শোধনাগার
রাশিয়ার হাতে বিশ্বের অন্যতম বড় অপরিশোধিত তেলের ভাণ্ডার রয়েছে। তা সত্ত্বেও বর্তমানে দেশটিতে পেট্রোলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আর তার অন্যতম কারণ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এই যুদ্ধ চলাকালীন ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলিকে লক্ষ্য করে প্রায় রোজই ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। যার ফলে মাটির তলায় তেল থাকলেও সেটা তোলা যাচ্ছে না।
রিপোর্ট বলছে, ২০২৪ সাল থেকেই ইউক্রেন রুশ তেল শোধনাগারগুলিকে অ্যাটাক করতে শুরু করেছিল। তবে ২০২৬ সালে সেই আরও বেড়ে যায়।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার অন্তত ১৬টি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জুন থেকে অগাস্টের মধ্যে আরও অন্তত ১৫টি শোধনাগার এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিশোধন কেন্দ্র হামলার মুখে পড়ে। জুলাই ও অগাস্টে রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শোধনাগার ওমস্ক, রিয়াজান এবং ওরস্কেও হামলা হয়েছে।
এই হামলার সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাশিয়ার তেল উৎপাদনের উপর। যার ফলে রাশিয়াকে তেল কিনতেই হচ্ছে।