
রাশিয়ার থেকে তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ ট্যারিফ বসবে? এমনটা হলে কি বিপদে পড়বে ভারত? আগামী ১০ দিনের মধ্যে সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ভারতের উপরেও পড়তে পারে। বৃহস্পতিবার এমনই দাবি করেছেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর।
ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরামে বক্তব্য রাখছিলেন গোর। সেখানেই তিনি জানান, নতুন আইনের আওতায় এখনও পর্যন্ত কোনও দেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেননি ট্রাম্প। তবে আগামী ১০ দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে।
এই আইন অনুযায়ী, রাশিয়ার জ্বালানি কিনলে বা মস্কোকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করলে সেই দেশগুলির উপর কড়া অ্যাকশন নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে আমদানি করা পণ্যের উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ক্ষমতা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের।
নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ১০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের?
গত ১৮ সেপ্টেম্বর 'লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬' (SRIA) আইনে সই করেন ট্রাম্প। এই আইনের মাধ্যমে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলির উপর ব্যবস্থা নিতে পারবে আমেরিকা। এমনকী রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করা দেশগুলির উপরেও সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ ট্যারিফ আরোপ করার ক্ষমতা পেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এখন প্রশ্ন হল, তিনি এই ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন কি?
সার্জিও গোরের অবশ্য দাবি, আগামী ১০ দিনের মধ্যে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন ট্রাম্প। আইন অনুযায়ী, সেটি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলেও জানান তিনি।
ভারতের উপরেও কি নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া?
গোর জানান, রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা বা মস্কোকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করলে এই আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে কোনও নির্দিষ্ট দেশকে টার্গেট করে এই ব্যবস্থা তৈরি করা হয়নি, এটাও দাবি করেছেন তিনি।
এরপরই গোর জানান, ভারতের উপরও বিপদ নেমে আসতে পারে। তবে ভারতকে এই নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেওয়া হতে পারে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাম্পই।
ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি এগিয়েছে
এদিকে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আশার কথা শুনিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। প্রায় দেড় বছর ধরে চলা আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, ডিলের কাঠামো এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে মোটামুটি সমঝোতা হয়েছে।
তবে এখনও কিছু ছোটখাটো বিষয় চূড়ান্ত করা বাকি রয়েছে। পাশাপাশি, আলোচনা এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে নতুন কিছু বিষয়ও সামনে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন গোর।