
নতুন কীর্তি তৈরি করার কাজে এলন মাস্কের জুড়ি মেলা ভার। আর এবার সম্পদের নিরিখে নতুন রেকর্ড করে ফেললেন তিনি। বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার (১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের মালিক) হিসেবে ইতিহাস গড়লেন মাস্ক। তাঁর মহাকাশ সংস্থা স্পেস এক্স-এর রেকর্ড-ব্রেকিং আইপিও-এর ফলে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাতেই তিনি হয়েছেন ট্রিলিয়নেয়ার।
সংস্থার একাধিক নথি এবং ফোর্বসের অনুমানের ভিত্তিতে রয়টার্স এলন মাস্কের সম্পদের একটি হিসেব করেছে। এরপর তাদের অনুমান, স্পেসএক্সের শেয়ার বাজারে ট্রেডিং শুরু করার পর মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। রকেট, স্যাটেলাইট ও এআই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা স্পেসএক্সই তাঁর সম্পদের সবচেয়ে বড় উৎস হয়ে উঠেছে।
অন্য সবার থেকে অনেক এগিয়ে
অবশ্য ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ারের তথ্য অনুযায়ী, স্পেসএক্সের আইপিওর আগেই মাস্ক ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তখন তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৭১ বিলিয়ন ডলার।
এই সময় মাস্কের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ল্যারি পেজ। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এই আইপিওর আগেই মাস্ক তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় তিন গুণেরও বেশি ধনী ছিলেন।
একাধিক দেশের অর্থনীতিকেও ছাপিয়ে গেল মাস্কের সম্পদ
ইন্টারন্যাশনাল মানিটরি ফান্ডের হিসেব অনুযায়ী, তাইওয়ানের মোট অর্থনীতির আকার প্রায় ৯৭৬.৭ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এলন মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদ এখন তাইওয়ানের গোটা অর্থনীতির চেয়েও বেশি।
অন্যদিকে ভারতের মোট জিডিপি প্রায় ৪.১৫ ট্রিলিয়ন ডলার। সেই হিসেবে মাস্কের সম্পদ ভারতের জিডিপির প্রায় এক-চতুর্থাংশের সমান।
এই আইপিও মাস্ককে ট্রিলিয়নেয়ার বানাল
রয়টার্স জানাচ্ছে, স্পেসএক্সের ৭৫ বিলিয়ন ডলারের আইপিও ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও। এই আইপিওর আগে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭৮০ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করেছিল ফোর্বস। বর্তমানে স্পেসএক্সে তাঁর স্টেকই প্রায় ৮৬৬ বিলিয়ন ডলার। এটাই তাঁর সম্পদের সবচেয়ে বড় উৎস।
এরপর টেসলা এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক উদ্যোগে তাঁর বিনিয়োগ যোগ করলে মোট সম্পদের পরিমাণ ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার পেরিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মাস্কের উত্থান
১৯৭১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন মাস্ক। প্রিটোরিয়াতে জন্ম নেওয়া মাস্ক পরে ইউনির্ভাসিটি অব পেনসিলভেনিয়া থেকে পড়াশোনা শেষ করেন। তারপরই স্বপ্নের উত্থান হয় তাঁর।
গত তিন দশকে তিনি একাধিক প্রযুক্তি সংস্থা গড়ে তুলেছেন। তারপর সেগুলি বিশ্বের অন্যতম সেরা সংস্থা হয়েছে। আর মাস্ক হয়েছেন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের একজন।