
এক দেশ, এক পরিচয়। এবার সেই দিকে আরও এক পা এগিয়ে গেল চিন। সেই দেশের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ১ জুলাই থেকে 'এথনিক ইউনিটি অ্যান্ড প্রোগ্রেস প্রোমোশন ল' চালু করে দিয়েছেন। এই আইনের মাধ্যমে চিনের ৫৬টি এথনিক গ্রুপকে (জাতিগত গোষ্ঠী) এক জাতীয় পরিচয় দিতে চাইছে চিন সরকার। আর এই আইনকে ভারতের ইউসিসি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোডের সঙ্গে অনেকেই তুলনা করছেন।
এই নতুন আইন চিনের সমস্ত এথনিক গ্রুপের উপর লাগু করা হবে। এটি ইউঘুর, তিবেতিয়ান, মঙ্গল বা সেই দেশের সমস্ত জাতিগত গোষ্ঠীতে লাগু করা হবে। তাঁদের সকলের জন্যই আইন হবে এক। সেই দেশের সরকারের দাবি, এর ফলে চিনের জাতীয় ঐক্য আরও মজবুত হবে। সকলের আলাদা আলাদা পরিচয় ভেঙে জাতীয় ঐক্য তৈরি হবে।
শিক্ষাতে নয়া প্রয়োগ
এই পরিস্থিতিতে সবথেকে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে ভাষার ক্ষেত্রে। চিনের সমস্ত সরকারি স্কুলে এখন ম্যান্ডারিন হল প্রাথমিক ভাষা। এই ভাষাতেই পড়ানো হবে। পাশাপাশি স্কুলে স্কুলে পড়ুয়াদের চিনের কমিউনিস্ট পার্টি এবং জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে শেখান হবে। এই নতুন আইন অনুযায়ী, বাবা-মায়েদের এটা দায়িত্ব যাতে তাঁদের সন্তানেরা চিনের কমিউনিস্ট পার্টিকে ভালোবাসে।
চিনের ইতিহাস পড়ানো হবে
শুধু স্কুল বা কলেজ নয়। বরং এখন থেকে চিনের মিউজিয়াম, লাইব্রেরি এবং কালচারাল ইনস্টিটিউশনে চিনের ইতিহাস, জাতীয় ঐক্য এবং কমিউনিস্ট পার্টির নীতি নিয়ে সেমিনার ও আলোচনাসভা আয়োজন করা হবে। চিনের স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর বসবাসের প্ল্যানিং করবেন।
এই আইন অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি চিনের বিরুদ্ধে বা জানজাতির ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরাতে চাইলে তারা বিপদের মুখে পড়বেন।
উইঘুর, তিব্বত এবং মঙ্গল জনজাতিদের বিপদ
রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশন মনে করছেন, এই নতুন আইন চালু হলে চিনের অভ্যন্তরে বিভিন্ন জনজাতির মধ্যে বৈচিত্র বিলুপ্ত হবে। বিশেষত, তিব্বত, উইঘুর এবং মঙ্গল জনজাতির ভাষা, সংস্কৃতি এবং ধর্মচারণ নষ্ট হয়ে যাবে। বরং এক দেশ ও এক আইডেন্টির দিকে ঝুঁকছে সরকার।
যদিও চিনের সরকার এই সমস্ত দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের মতে, এমন কোনও কাজ করা হবে না যাতে কোনও সংস্কৃতি নষ্ট হয়ে যায়। বরং এই আইন দেশের জাতীয় ঐক্য এবং নিরাপত্তার জন্য আনা হয়েছে।