scorecardresearch
 

INDIA Seat Sharing Plans: বাংলা-সহ ৩ রাজ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে 'চাপে' কংগ্রেস, জটেই INDIA

চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে আসন সমঝোতার প্রশ্নে কি এক সূত্রে গাঁথা থাকবে বিজেপি বিরোধী জোট? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনীতির অলিন্দে। লোকসভা ভোটে আসন সমঝোতা নিয়ে এই মুহূর্তে আলোচনা চালাচ্ছে বিরোধী শিবির।

Advertisement
মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধী (বাঁ দিক থেকে)। মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধী (বাঁ দিক থেকে)।
হাইলাইটস
  • লোকসভা ভোটে আসন সমঝোতা নিয়ে এই মুহূর্তে আলোচনা চালাচ্ছে বিরোধী শিবির।
  • আর এই নিয়েই জট হচ্ছে জোট।
  • পশ্চিমবঙ্গে কার্যত একলা লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

লক্ষ্য, ২০২৪ সালে মোদী বাহিনীকে গদিচ্যুত করা। সেই লক্ষ্যপূরণে বিজেপি বিরোধী দলগুলি এক ছাতার তলায় এসেছে। তৈরি হয়েছে 'ইন্ডিয়া'। কিন্তু চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে আসন সমঝোতার প্রশ্নে কি এক সূত্রে গাঁথা থাকবে বিজেপি বিরোধী জোট? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনীতির অলিন্দে। লোকসভা ভোটে আসন সমঝোতা নিয়ে এই মুহূর্তে আলোচনা চালাচ্ছে বিরোধী শিবির। আর এই নিয়েই জট তৈরি হচ্ছে জোটে। পশ্চিমবঙ্গে কার্যত একলা লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার পথেই হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পঞ্জাবের আম আদমি পার্টি (আপ)। মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার আসনের দাবি ঘিরেও জট তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই নিয়ে জটিলতা বেড়েছে বিরোধী শিবিরে। বিশেষত, এই তিন রাজ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে খানিকটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে কংগ্রেসকে।

পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, পঞ্জাব, এই তিন রাজ্যে আসন সমঝোতায় কংগ্রেসের 'কোণঠাসা' অবস্থা বলে মনে করছেন রাজনীতির কারিগরদের একাংশ। 

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের একলা লড়াই

আরও পড়ুন

গত বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনায় কর্মিসভায় বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, 'সারা দেশে থাকবে ইন্ডিয়া। বাংলায় তৃণমূল লড়াই করবে। তৃণমূলই বিজেপিকে শিক্ষা দিতে পারে। সারা দেশকে পথ দেখাতে পারে। অন্য কোনও দল নয়।'

বৃহস্পতিবার মমতার এ হেন মন্তব্য ঘিরেই রাজনীতির ময়দানে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, লোকসভার লড়াইয়ে বাংলায় একাই লড়তে চায় তৃণমূল। বিজেপি বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া'র আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। এই আবহে বাংলায় কংগ্রেসের জন্য তৃণমূল আসন ছাড়বে কিনা, সে নিয়েও জোরদার আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই মমতা ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিলেন যে, সারা দেশে 'ইন্ডিয়া' থাকলেও বাংলায় নিজের শক্তি দিয়ে লড়বে জোড়াফুল শিবির। আসন সমঝোতার প্রশ্নে মমতা আগেই জানিয়েছেন, রাজ্যে যে দল শক্তিশালী, তারাই জোটে মুখ্য ভূমিকা পালন করুক। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সেই বার্তাই ফের দিতে চেয়েছেন মমতা। অর্থাৎ জোট হলেও তার নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকবে বাংলার শাসকদল। অতীতে মোদী বাহিনীকে হঠাতে মমতাকে সামনে রেখে এগোনোর বার্তা দিয়েছিল তৃণমূল। এমনকী, ২০২১ সালে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের সাফল্যের পর মমতাকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে তুলে ধরেছিল জোড়াফুল শিবির। আবার, বিজেপিকে হারাতে যে তৃণমূলই পারবে, সেই বার্তাও বারবার দিয়েছে মমতার দল। কংগ্রেসকে নিশানা করে অতীতে তৃণমূলের 'সেকেন্ড ইন কমান্ড' অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন যে, বিজেপিকে হারাতে ব্যর্থ কংগ্রেস। তাই মমতার এদিনের মন্তব্য কংগ্রেসকে খানিকটা 'চাপে রাখার কৌশল' বলেও মনে করছেন অনেকে।

Advertisement

আসন সমঝোতার প্রশ্নে বুধবার মালদা দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী জানিয়েছিলেন যে, মালদা দক্ষিণ এবং বহরমপুর আসন কংগ্রেসকে ছেড়ে দিয়েছেন মমতা। সেই মন্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আসন সমঝোতা নিয়ে তৃণমূলের একলা লড়াইয়ের বার্তা যে ভাবে দিলেন মমতা, তা তাৎপর্যপূর্ণ। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলার ৪২ আসনের মধ্যে মালদা দক্ষিণ এবং বহরমপুর কেন্দ্রে জিতেছিল কংগ্রেস। তৃণমূল পেয়েছিল ২২ টি আসন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী সম্প্রতি জানিয়েছেন, আসন সমঝোতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে হাইকমান্ড। 

মহারাষ্ট্রেও জোটে জট

আসন সমঝোতা নিয়ে জটের ছবি প্রকট হয়েছে মহারাষ্ট্রেও। ১৪ জানুয়ারি থেকে 'ভারত ন্যায় যাত্রা' শুরু করছে কংগ্রেস। যা শেষ হবে মুম্বইয়ে। সে রাজ্যে দলের ভিত শক্তপোক্ত করতে মরিয়া হাত-শিবির। গত বৃহস্পতিবার নাগপুরে দলের ১৩৯ তম প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করেছে কংগ্রেস। তবে আসন সমঝোতা নিয়ে মহারাষ্ট্রেও 'চাপের মুখে' পড়েছে কংগ্রেস। ২৩ টি আসনের দাবি জানিয়েছে উদ্ধব শিবিরের শিবসেনা। এই দাবি খারিজ করে দিয়েছে কংগ্রেস। সে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা অশোক চৌহান জানিয়েছেন, দলগুলির মধ্যে বোঝাপড়া করতে হবে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস এবং এনসিপি একসঙ্গে লড়েছিল মহারাষ্ট্রে। ৪৮টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস জিতেছিল মাত্র ১টি আসন। এনসিপি-র দখলে ছিল ১৯টি আসন। শিবসেনা জিতেছিল ২৩টি আসনে। 

বাংলার পথে পঞ্জাব

বাংলার মতোই লোকসভা নির্বাচনে পঞ্জাবে একলা লড়তে যায় অরবিন্দ কেজরীওয়ালের আপ। গত ১৭ ডিসেম্বর পঞ্জাবের ভাতিন্ডায় সভা করেছিলেন কেজরি। সেই সভায় রাজ্যের ১৩টি আসনেই আপের হয়ে ভোট চেয়েছেন কেজরি। যে মন্তব্য থেকে জল্পনা ছড়িয়েছে যে, 'ইন্ডিয়া'-র সঙ্গী কংগ্রেসকে কোনও আসন ছাড়তে রাজি নয় আপ। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ৮টি আসনে জিতেছিল। মাত্র ১টি আসন দখল করেছিল আপ। 

শুধু এই ৩ রাজ্যই নয়, আসন সমঝোতা নিয়ে একই জট তৈরি হয়েছে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ডেও। শেষ পর্যন্ত আসন সমঝোতা নিয়ে বিরোধী শিবিরে জট কাটে কিনা, সে দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। 

Advertisement