
নন্দীগ্রাম ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান, যা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রে। যার প্রতিনিধিত্ব করেন শুভেন্দু অধিকারী। এসআইআর প্রক্রিয়ার সম্পূরক তালিকায় বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশই মুসলিম।
সমীক্ষা অনুযায়ী, মোট ২,৮২৬ জন ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২,৭০০ জনই মুসলিম। অথচ ২০২১ সালের নির্বাচনে এই কেন্দ্রে মুসলিম ভোটারের হার ছিল প্রায় ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ, মোট ভোটারদের অনুপাতের সঙ্গে বাদ পড়া ভোটারদের ধর্মীয় গঠনের মধ্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য দেখা যাচ্ছে।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই প্রবণতা SIR প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। এতে মনে হচ্ছে, একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছে বলেও প্রশ্ন উঠছে।
এসআইআর শুরু হয় ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর, যখন নির্বাচন কমিশন একাধিক রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের ঘোষণা করে। বাংলার ক্ষেত্রে, খসড়া তালিকায় প্রায় ৫৯ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল, যাদের ‘মৃত’, ‘ডুপ্লিকেট’ বা ‘স্থানান্তরিত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
তবে পরবর্তী পর্যায়ে ‘বিচারাধীন’ তালিকায় আরও প্রায় ৬০ লক্ষ নাম রাখা হয়, যাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। এই তালিকায় ধর্মভিত্তিক বিশ্লেষণ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
২০২১ সালের নন্দীগ্রাম ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যেখানে মুখোমুখি হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী। অল্প ব্যবধানে জয় পান শুভেন্দু, আর ফলাফল নিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জও হয়।