
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় অবস্থিত নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র। এটি তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধাসভার মধ্য়ে একটি। এই বিধানসভা নন্দীগ্রাম এক ও দুই নম্বর ব্লক নিয়ে গঠিত। ১৯৫১ থেকে ১৯৬৭ সালের মধ্যে নন্দীগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণের নির্বাচনী এলাকাগুলোকে এক করে ১৯৬৭ সালে নয়া নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র তৈরি হয়। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নন্দীগ্রাম অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি নাম। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ২০০৭ সালে এই নন্দীগ্রামেই প্রস্তাবিত রাসায়নিক কারখানার জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস আন্দোলন করেছিল। সেখানেই পুলিশের গুলিতে ১৪ জন মারা যান। তারপরই বাংলার রাজনীতির মোড় ঘুরে যায়। আন্দোলনের নেতৃত্বে চলে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। নন্দীগ্রাম ও পরে সিঙ্গুর আন্দোল...
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় অবস্থিত নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র। এটি তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধাসভার মধ্য়ে একটি। এই বিধানসভা নন্দীগ্রাম এক ও দুই নম্বর ব্লক নিয়ে গঠিত। ১৯৫১ থেকে ১৯৬৭ সালের মধ্যে নন্দীগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণের নির্বাচনী এলাকাগুলোকে এক করে ১৯৬৭ সালে নয়া নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র তৈরি হয়। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নন্দীগ্রাম অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি নাম। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ২০০৭ সালে এই নন্দীগ্রামেই প্রস্তাবিত রাসায়নিক কারখানার জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস আন্দোলন করেছিল। সেখানেই পুলিশের গুলিতে ১৪ জন মারা যান। তারপরই বাংলার রাজনীতির মোড় ঘুরে যায়। আন্দোলনের নেতৃত্বে চলে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। নন্দীগ্রাম ও পরে সিঙ্গুর আন্দোলনকে হাতিয়ার করেই পরে ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলার মসনদে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ সালে ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র। কারণ, সেই বছরের নির্বাচনের ঠিক আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন মমতার প্রাক্তন সহযোগী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সেই কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়ান। তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ওই আসন থেকে নিজে লড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। কিন্তু তিনি ১৯৫৬ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও এই আসন থেকে ৮.২০০ ভোটে লিড পায় বিজেপি। নন্দীগ্রামে এখনও পর্যন্ত মোট ১৫ বার ভোট হয়েছে। যার মধ্য়ে ২০০৯ সালের একটি উপনির্বাচনও রয়েছে। সিপিআই দল এই আসন থেকে নয়বার জিতেছে। কংগ্রেস ও তৃণমূল ২ বার করে এবং বিজেপি একবার মাত্র জয় পেয়েছে। ২০২১ সালে এই আসনে প্রথম পদ্ম ফোটান রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালে এই আসনে মোট ভোটার ছিল ২৫৭,৯৯২। ২০১৯ ও ২০১৬ সালে ছিল যথাক্রমে ২৪৬,৪৩৪ এবং ২৩১,৮৬৬। এখানে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা ২৩.৬০ শতাংশ, তফসিলি জাতিগোষ্ঠীর ১৬.৪৬। মোট ভোটারের ৩.৩৫ শতাংশ শহরাঞ্চলের। বাকি সব গ্রামীণ এলাকার। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে ৮৮.১৫ শতাংশ রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়ে। ২০১৬ সালে ভোট পড়েছিল ৮৬.৯৭ শতাংশ। শিল্পশহর হলদিয়ার বিপরীতে অবস্থিত নন্দীগ্রাম। পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে হলদি নদী। ফলে এর ভূখণ্ড সমতল ও উর্বর। উৎপাদিত কৃষিজ ফসলের মধ্যে অন্যতম ধান ও শাকসব্জি। মৎস্যচাষ এখানকার অন্যতম জীবিকা। নন্দীগ্রাম থেকে উৎপাদিত ফসল হলদিয়া-সহ নানা বাজারে যায়। এখানকার অর্থনীতি কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল হলেও ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প থেকেও আয় হয়। এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রধান মাধ্যম হল হলদিয়া ও তমলুকের সড়কপথ। নিকটবর্তী রেলস্টেশন মহিষাদল ১৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। শিক্ষা ব্যবস্থা বেশ উন্নত। সরকারি স্কুল, কলেজ রয়েছে। হলদিয়া বা তমলুকে সরকারি হাসপাতাল আছে। কলকাতা থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নন্দীগ্রাম। তবে পূর্ব মেদিনীপুরের সদর শহর তমলুক মাত্র ৩৩ কিলোমিটার দূরে। এর নিকটবর্তী শহরগুলি হল হলদিয়া, মহিষাদল ও এগরা। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে বিজেপি জিতলেও এই আসনটির দিকে পাখির চোখ থাকবে তৃণমূলের। গতবার এই আসন থেকে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এবার কে দাঁড়াবেন সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। শুভেন্দু অধিকারী আদৌ এই আসন থেকে দাঁড়াবেন কিনা নিশ্চিত নয়। তবে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা আছে।
Mamata banerjee
AITC
Minakshi mukherjee
CPI(M)
Nota
NOTA
Swapan parua
IND
Sk saddam hossain
IND
Manoj kumar das
SUCI
Dipak kumar gayen
IND
Subrata bose
IND
Abdul kabir sekh
CPI
Bijan kumar das
BJP
Nota
NOTA
Bappaditya nayak
SUCI
Ram mohan maity
BHNP