
গত লোকসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জায়গায় জায়গায় রিগিংয়ের অভিযোগ এনেছিল বিরোধীরা। বহরমপুর কেন্দ্রে পরাজিত হয়েছিলেন কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী। এবার বিধানসভা ভোটে লড়ছেন তিনি। শুরু করেছেন জোরকদমে প্রচারও। ভোটের দিন বা তার আগে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য নিজেই হেল্পলাইন নম্বর চালু করলেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।
এমনিতেই অন্যবারের তুলনায় কেন্দ্রীয় বাহিনী বেশি মোতায়েন করেছে কমিশন। তাদের আশ্বাস ভোট শান্তিপূর্ণভাবেই হবে। তবে সতর্ক অধীর। তিনি জানান, বহরমপুরের কোনও বুথে কোথাও যদি রংবাজি হয়, মানুষকে যদি ভোট দানে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ওই নম্বরে জানালে আমি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, 'ভোটের দিন দুষ্কৃতীরা সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখাবে। অনেককে বুথে আসতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে। সেই সমস্ত ভোটাররা হেল্প লাইনে ফোন করলে, তাঁদের নির্বিঘ্নে বুথে আনতে সাহায্য করব আমি।'
অধীর জানান, তিনি চারটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছেন। সেই নম্বরে ফোন করলেই সাহায্য পাবেন ভোটাররা। বিধানসভা কেন্দ্রের যে কোনও প্রান্ত থেকে যে কোনও অসুবিধায় সেই নম্বরে সাহায্য পাওয়া যাবে। তাঁর কথায়, 'ভোটাররা যদি বুথে আসতে না পারেন, তাহলে ফোন করে দেবেন। কংগ্রেস কর্মীরা বুথে পৌঁছে দেবে। হেল্পলাইন নম্বরগুলি হল - 9159830445, 9017280445, 9293350445 ও 8293380445।'
কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপর আস্থা থাকলেও রাজ্য পুলিশের নিচুতলার কর্মীদের তিনি ভরসা করেন না। সাফ জানান, 'নির্বাচন কমিশনের উপর তাঁর আস্থা থাকলেও নিচের তলার পুলিশকর্মীরা এখনও শাসক দলের কথায় ওঠবস করে। শাসক দলকেই তারা মনে প্রাণে সাহায্য করবে। তাই জ্ঞানেশ কুমার আসুক আর যেই আসুক, ভোটের দিন তৃণমূলী সন্ত্রাস হবে।'
এদিকে অধীরের এই উদ্যোগকে চক্রান্ত হিসেবেই দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, অধীর চৌধুরী হেরে যাবেন আগাম বুঝতে পেরে কীভাবে কমিশনকে ব্যবহার করবেন সেটার ছক কষছেন। বহরমপুরে ভোট শান্তিপূর্ণভাবে হবে বলেই দাবি করছেন কংগ্রেস নেতারা।