
পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর লোকসভার অন্তর্গত বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্র। বহরমপুর পশ্চিমবঙ্গের সপ্তম বৃহত্তম শহর। মুর্শিদাবাদ জেলার প্রশাসনিক সদর দফতরও এই শহর। ঐতিহাসিকভাবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রথম সদর দফতর ছিল বহরমপুর। পরে ডাচ কোম্পানিগুলোও এখানে আধিপত্য বিস্তার করে। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সময় এই শহরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বহরমপুরের কাসিমবাজার এলাকা মসলিন উৎপাদনে একসময় পৃথিবী বিখ্যাত ছিল। বাংলার প্রধান বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্র ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রটি বহরমপুর নির্বাচনী কেন্দ্র নামে পরিচিত ছিল। তবে ২০১১ সালে নির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণের পর এটি বহরমপুর নামে আত্মপ্রকাশ ক...
পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর লোকসভার অন্তর্গত বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্র। বহরমপুর পশ্চিমবঙ্গের সপ্তম বৃহত্তম শহর। মুর্শিদাবাদ জেলার প্রশাসনিক সদর দফতরও এই শহর। ঐতিহাসিকভাবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রথম সদর দফতর ছিল বহরমপুর। পরে ডাচ কোম্পানিগুলোও এখানে আধিপত্য বিস্তার করে। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সময় এই শহরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বহরমপুরের কাসিমবাজার এলাকা মসলিন উৎপাদনে একসময় পৃথিবী বিখ্যাত ছিল। বাংলার প্রধান বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্র ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রটি বহরমপুর নির্বাচনী কেন্দ্র নামে পরিচিত ছিল। তবে ২০১১ সালে নির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণের পর এটি বহরমপুর নামে আত্মপ্রকাশ করে। সমগ্র বহরমপুর পুরসভা, বহরমপুর ব্লক ও পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে বিধানসভাটি তৈরি হয়েছে। ১৯৫১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই বিধানসভা কেন্দ্রটির ভোটে কংগ্রেস দল ৮ বার জিতেছে। RSP জেতে ৩ বার, সিপিআই প্রার্থী ২ বার ও নির্দলে দাঁড়িয়ে মনোজ চক্রবর্তী একবার জেতেন। কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত বহরমপুর আসনটি ২০১১ ও ২০১৬ সালে জিতে নেয় কংগ্রেস। তবে ২০২১ সালে এই আসনে পালাবদল হয়। প্রথমবারের মতো বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র জেতেন। দ্বিতীয় স্থানে চলে আসে তৃণমূলের নাড়ু গোপাল মুখার্জি, তৃতীয়তে কংগ্রেসের মনোজ চক্রবর্তী। ২০২১-এর তুলনায় ৩৫ শতাংশ ভোট বাড়িয়ে নেয় গেরুয়া শিবির। সেখানে কংগ্রেসের ভোট কমে ৪৮ শতাংশেরও বেশি। যা বহরমপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। ২০১১ সালে কংগ্রেসের মনোজ চক্রবর্তীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন RSP-র তড়িৎ ব্রহ্মচারী। তাঁকে ৪৩ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়েছিল কংগ্রেস। তবে ২০১৬ সালে দ্বিতীয় স্থানে তৃণমূল উঠে এলেও জয় পায় কংগ্রেসই। সেবার ঘাসফুল প্রার্থী সুজাতা ব্যানার্জিকে ৯২, ২৭৩ ভোটে হারতে হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে বহরমপুর বিধানসভা হল এমন একটি আসন যেটি একবারও তৃণমূল কংগ্রেস দখল করতে পারেনি। লোকসভা ভোটে অধীর চৌধুরী বামেদের সমর্থন নিয়ে বহরমপুরে লড়েছিলেন। তার ফলাফলও দেখা গিয়েছিল নির্বাচনে। বহরমপুর লোকসভার অন্তর্গত বেশ কয়েকটি বিধানসভায় অধীর পিছিয়ে থাকলেও এই আসনে কংগ্রেস প্রথম স্থানে শেষ করে। বিজেপি প্রার্থী পিছিয়ে ছিলেন ৬,৯২৭ ভোটে, তৃণমূলের ইউসুফ পাঠান শেষ করেন তিন নম্বরে। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সময় বহরমপুর বিধানসভায় ভোটার ছিলেন ২,৬৭,৭৯২ জন। ২০২১ ও ২০১৯ সালে ছিল যথাক্রমে ২,৬০,৬৬৭ এবং ২,৫০,১৪৭। ২০২১-এ মুসলিম ভোটার ছিল ২৫.১০ শতাংশ, তপসিলি জাতি এবং উপজাতির ভোটার ছিল যথাক্রমে ১২.২৮ এবং ২ শতাংশ। এই কেন্দ্রটি মূলত শহরাঞ্চলের ভোটারদের। মাত্র ২৮ শতাংশ মানুষ গ্রামীণ ভোটার। ভোটারদের উপস্থিতি এখানে ওঠানামা করে। ২০১৯ সালে সর্বোচ্চ ভোটার ছিল ৮১.০৩ শতাংশ। ২০২১ সালে তা কমে হয় ৭৬.০১, সেখানে ২০২৪ সালে প্রায় ৮০ শতাংশ। বহরমপুরের উপর দিয়ে বয়ে চলেছে ভাগীরথী নদী। ফলে এখানকার মাটি উর্বর। চাষবাসের উপযোগী। পাট, ধান, শাকসবজি প্রধান ফসল। মিষ্টির জন্য বিখ্যাত এই শহর। ছানাবড়া ও মনোহরার মতো মিষ্টির জন্য বহরমপুরের নাম রয়েছে। বহরমপুরের অর্থনীতি কৃষি, বাণিজ্য ও ক্ষুদ্র শিল্পের উপর নির্ভরশীল। সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাঙ্ক, হাসপাতাল রয়েছে। এখানকার অনেক কলেজ ও স্কুল রাজ্য়ে বিখ্যাত। রয়েছে মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ও। সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো। বহরমপুর কোর্ট ও খাগড়া নামে দুটো রেলস্টেশন আছে। এর মধ্যে কোর্ট স্টেশনটি কলকাতা ও উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত। বহরমপুর কলকাতা থেকে প্রায় ১৮৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। নিকটবর্তী শহরগুলোর মধ্যে আছে কান্দি, জিয়াগঞ্জ, লালবাগ। এর পার্শ্ববর্তী জেলা হল নদীয়া, বর্ধমান ও মালদা। ২০২৬ সালের বিধানভা নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা এই আসনে। লোকসভা ভোটে হারলেও বিধানসভায় প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে এগিয়ে ছিল কংগ্রেস। অধীর চৌধুরীর শক্ত ঘাঁটি বহরমপুরকে তাই ফের দখল করতে চাইবে কংগ্রেস। যদিও ঘাড়ের উপর নিশ্বাস ফেলছে গেরুয়া শিবির। তারাও চাইবে আসনটি ধরে রাখতে। এদিকে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকলেও একবারও এই আসন না পাওয়ায় এবার জিততে মরিয়া তৃণমূলও।
Naru gopal mukherjee
AITC
Manoj chakraborty
INC
Nota
NOTA
Sajal sen
BSP
Goutam ghosh (dwarak ghosh)
SUCI
Sujit kumar das
IND
Rekha roy
BMUP
Dr. sujata banerjee
AITC
Mala bhattacharya
BJP
Nota
NOTA
Kousik chatterjee
SUCI
Sujit kumar das
IND