
'গোপন ভিডিও' প্রকাশ্যে আসতেই হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে দিলেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। শুক্রবার সকাল সকাল একটি বিবৃতি দিয়ে AIMIM-এর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে জোট করে তারা বাংলার নির্বাচনে লড়াই করবেন না। বদলে একক ভাবেই ভোটে লড়াইয়ের ঘোষণা করেছে আসাদউদ্দিনের দল। এ প্রসঙ্গে কী প্রতিক্রিয়া হুমায়ুনের?
সংবাদমাধ্যমে হুমায়ুন কবীর বলেন, 'ওয়েইসি সাহেবকে ব্যক্তিগত ভাবে আমি শ্রদ্ধা করি। মার্চ মাসে উনি এসেছিলেন। একসঙ্গে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছিলেন। প্রথমে ৮ আসনে লড়বেন বলে জানিয়েছিলেন। তারপর ধাপে ধাপে আরও ৪ এবং ২টি আসন ওদের ছেড়েই দিই আমরা। মোট ১২টি আসনে মনোনয়ন জমা করেছে AIMIM। তার মধ্যে রয়েছে বীরভূমের ২টি,মুর্শিদাবাদের ৪টি,উত্তর দিনাজপুরের ২টি, মালদার ২টি, এবং বসিরহাট উত্তর ও দক্ষিণ। আমার আর নতুন করে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ নেই। ওয়েইসি সাহেবেরও সুযোগ নেই। তারিখ পেরিয়ে গিয়েছে।'
তৃণমূলের প্রকাশ করা ভিডিও AI বলেই নিজের দাবিতে অনড় হুমায়ুন। তিনি বলেন, 'বিতর্কিত ওই ভিডিও ৮ তারিখ তৈরি করে ৯ তারিখ প্রকাশ করেছে তৃণমূল। কে ওই ব্যক্তি, কাকে দেখানো হচ্ছে, তা যাচাই না করেই ওয়েইসি সাহেব যদি উল্টোপাল্টা কথা বলেন, আমি কোনও মন্তব্য করব না। তৃণমূল কারসাজি করেছে। আমি বিন্দুমাত্র চিন্তিত বা উদ্বিগ্ন নই। ওয়েইসি সাহেবকে শ্রদ্ধা করি, উনি লন্ডন ফেরত সুশিক্ষিত ব্যারিস্টার মানুষ। কিন্তু বিচার না করেই সিদ্ধান্ত নিলেন। নিজের দলের প্রার্থীদের হয়ে প্রচার করব। আমি আশাবাদী উল্লেখযোগ্য রেজাল্ট করব।'
এরপরই বিস্ফোরক অভিযোগ করে হুমায়ুন সংবাদমাধ্যমে বলেন, 'ওদের পশ্চিমবঙ্গের নেতা তৃণমূলের কথায় চলাফেরা করে। কিন্তু ওয়েইসি সাহেবের বক্তব্য আমি খণ্ডন করতে যাব না। যেটা ভাল মনে করেছেন করেছেন। আমি ওঁর সম্পর্কে কোনও কটূ কথা বলতে রাজি নই।'
এ প্রসঙ্গে AIMIM-এর রাজ্য সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কি বলেন, 'আমার সভাপতি যা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমারও সেটা মেনেই চলব। উনি যখন বলেছিলেন জোট করে লড়াইয়ের কথা, আমরা সেই কথা মতো জোট করেছিলাম। এবার উনি জোট রাখতে চাইছেন না, একক ভাবে লড়াই চাইছেন, আমরাও তাই করব।' তবে হুমায়ুনের অভিযোগ নিয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পরও হুমায়ুনের সঙ্গে তাঁর কোনও কথাবার্তা হয়নি বলে জানিয়েছেন ইমরান।