
মুর্শিদাবাদ জেলার ঐতিহাসিক শহর মুর্শিদাবাদ। এটি নিজেও একটি বিধানসভা কেন্দ্র। যার অন্তর্গত হল মুর্শিদাবাদ পুরসভা, জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভা ও জিয়াগঞ্জ ব্লক। এই বিধানসভা কেন্দ্রটি মুর্শিদাবাদ লোকসভার অন্তর্গত।
মুর্শিদাবাদ এক সময় বাংলা, বিহার ও ওড়িশার রাজধানী ছিল। প্রাচীনকালে মুর্শিদাবাদ বাংলার গৌড়বঙ্গ রাজ্যেরও অংশ ছিল। মুর্শিদকুলি খাঁ বাংলার মুঘল সুবাহদার হিসেবে এখানে নিযুক্ত হয়েছিলেন। পরে নবাব হিসেবে রাজকীয় মর্যাদা পান। তিনিই ঢাকা থেকে প্রাদেশিক রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তরিত করার পর নিজের নামে জেলার নামকরণ করেন। নবাবদের অধীনে ১৮ শতকে মুর্শিদাবাদ প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে সমৃদ্ধি লাভ করে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানু...
মুর্শিদাবাদ জেলার ঐতিহাসিক শহর মুর্শিদাবাদ। এটি নিজেও একটি বিধানসভা কেন্দ্র। যার অন্তর্গত হল মুর্শিদাবাদ পুরসভা, জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভা ও জিয়াগঞ্জ ব্লক। এই বিধানসভা কেন্দ্রটি মুর্শিদাবাদ লোকসভার অন্তর্গত।
মুর্শিদাবাদ এক সময় বাংলা, বিহার ও ওড়িশার রাজধানী ছিল। প্রাচীনকালে মুর্শিদাবাদ বাংলার গৌড়বঙ্গ রাজ্যেরও অংশ ছিল। মুর্শিদকুলি খাঁ বাংলার মুঘল সুবাহদার হিসেবে এখানে নিযুক্ত হয়েছিলেন। পরে নবাব হিসেবে রাজকীয় মর্যাদা পান। তিনিই ঢাকা থেকে প্রাদেশিক রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তরিত করার পর নিজের নামে জেলার নামকরণ করেন। নবাবদের অধীনে ১৮ শতকে মুর্শিদাবাদ প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে সমৃদ্ধি লাভ করে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এখানে আসতেন। ব্যবসায়ী জায়গা হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধের পর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শেষ পর্যন্ত রাজধানী কলকাতায় স্থানান্তরিত করে। যদিও আজও এখানে ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে হাজারদুয়ারি প্রাসাদ, কাটরা মসজিদ, নিজামত ইমামবাড়া, মদিনা মসজিদ এবং নশিপুর প্রাসাদের মতো চিহ্নগুলি রয়েছে।
১৯৫১ সাল এই আসনে ভোট হয়ে আসছে। মোট ১৭ বার নির্বাচন হয়েছে। তবে এখানে কোনও একক দল অবিচ্ছিন্ন আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। এই কেন্দ্র প্রায় বরাবর শাসকদলের বিরুদ্ধেই আস্থা দেখিয়েছে। যদিও ১৯৫১ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত এই ধারা বজায় ছিল। সেই সময় রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস। প্রথম সাতটি নির্বাচনের মধ্যে ছয়বারই জিতেছিল জওহরলাল নেহরুর দল। ১৯৬২ সালে একবার মাত্র নির্দল প্রার্থী জয়ী হয়েছিলেন। বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনকালে মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে প্রায় জিতে এসেছে অবাম দলগুলো। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেস এই আসনটি জিততে পারেননি।
কংগ্রেসের ৯ বার ছাড়াও বামফ্রন্টের জোটসঙ্গী অল ইন্ডিয়া ফরোয়ার্ড ব্লক পাঁচবার জিতেছে এই আসনে। ২০২১ সালে বিজেপি খাতা খোলে এখানে। এই কেন্দ্র মুসলিমপ্রধান হলেও মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে অ-মুসলিম বিধায়করা বারবার নির্বাচিত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসংখ্যা থাকা সত্ত্বেও ২০২১ সালে বিজেপি এই আসনটি জিতে নেয়।
গত দশকে কংগ্রেসের শাওনি সিংহ রায় ২০১১ সালে জয়ী হয়েছিলেন। ২০০৬ সালে জয়ী ফরওয়ার্ড ব্লকের বিভাস চক্রবর্তীকে ৬,৩৫২ ভোটে পরাজিত করেছিলেন। ২০১৬ সালে তৃণমূলের অসীমকৃষ্ণ ভট্রকেও হারান তিনি। তবে ২০২১ সালের আগে তৃণমূলে যোগ দেন। ঠিক তার পরের ভোটে বিজেপির গৌরীশঙ্কর ঘোষের কাছে হেরে যান।
লোকসভা ভোটেও এই কেন্দ্রের ভোটাররা বারবার নিজেদের অবস্থান বদলেছেন। ২০০৯ সালে কংগ্রেস প্রার্থী বাম প্রার্থীর চেয়ে মাত্র ২ হাজার ভোট বেশি পেয়েছিলেন। আবার ২০১৪ সালে CPIM প্রার্থী কংগ্রেসের চেয়ে মাত্র ২৩০ ভোটে লিড পান। বিজেপি তখন তৃতীয় বা চতুর্থ স্থানে থাকলেও ২০১৯ সালে উপরে উঠে আসে। তৃণমূল প্রার্থীর চেয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভোটে এগিয়ে যান। আবার পরের লোকসভায় বিজেপি প্রায় ৮ হাজার ভোটে লিড পায় এখান থেকে। যদিও বাম ও কংগ্রেসের ক্ষমতা কমতে থাকে। তারা এক হয়ে লড়লেও ২০২৪ সালে মাত্র ১৮ শতাংশ ভোট পায়।
মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রে ২০২৪ সালে ২,৭৮,৯২৭ জন ভোটার নিবন্ধিত ছিলেন। ২০২১ সালে ২৬৮,২২১ এবং ২০১৯ সালে ২৫৫,৫৫২ জন। মোট ভোটারের মধ্যে মুসলিম ৪২.৯০ শতাংশ। তপসিলি জাতি ২০.৮১ শতাংশ এবং তপসিলি উপজাতি ৩.৯৫ শতাংশ। দুটি শহর থাকা সত্ত্বেও, আসনটি মূলত গ্রামীণ। ভোটারদের ভোটদানের হারও ভালো। ২০১১ সালে ৮৬.৯২ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮৫.৫৮ শতাংশ, ২০১৯ সালে ৮৫.২৭ শতাংশ, ২০২১ সালে ৮৫.৫৩ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে সর্বনিম্ন ৮১.৯৪ শতাংশ।
ভৌগোলিকভাবে মুর্শিদাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রটি ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত। জমিটি মূলত পলিমাটি, নদী ও খাল দ্বারা বেষ্টিত। ধান, পাট, সরিষা, শাকসবজি এবং আম এখানকার প্রধান ফসল। ঐতিহাসিকভাবে রেশম এবং হাতির দাঁতের কারুশিল্পের জন্য বিখ্যাত এই জায়গা। মুর্শিদাবাদের অর্থনীতি বালুচরি সিল্ক শাড়ি, কৃষি, মাছ ধরা, ক্ষুদ্র শিল্প এবং পর্যটনকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। এলাকাটি সড়ক ও রেলপথের সঙ্গে যুক্ত। জেলা সদর দপ্তর বহরমপুর প্রায় ১০ কিমি দূরে। কলকাতা প্রায় ২১০ কিমি দক্ষিণে অবস্থিত। কাছাকাছি শহরগুলির মধ্যে রয়েছে জিয়াগঞ্জ (৫ কিমি), আজিমগঞ্জ (৭ কিমি), লালবাগ (৫ কিমি) এবং রঘুনাথগঞ্জ (৩২ কিমি)।
গত তিনটি নির্বাচনে বিজেপি এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও, মুর্শিদাবাদ এমন একটি আসন যেখানে বারবার আশার বিপরীত ফল হয়েছে। রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করেনি। TMC এই আসনে জিততে পারেনি একবারও। তাই তারা পাখির চোখ করে এগোতে পারে। আবার বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোটও ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া থাকবে।
Shaoni singha roy
AITC
Neajuddin sk
INC
Nota
NOTA
Bellal sk
IND
Habib saikh
RSSCMJP
Madan mohan mandal
BSP
Milia sajem
SUCI
Gouri das sarkar
IND
Subir ghosh
IND
Mahiram murmu
IND
Sujat sk
DSPI
Ashim krishna bhatta
AITC
Gouri sankar ghosh
BJP
Bivas chakraborty
AIFB
Nota
NOTA
Milia sajem
SUCI
Sumit das
IND
Dhananjay banerjee
BSP
Md mosaraf hossain
LJP
Md jalaluddin mondal
IND