
আজ ভোটমুখী বাংলায় বিজেপির ইশতেহার প্রকাশিত হবে। প্রকাশ করবেন স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আর আজ সকালেই তিনি নিজেই এই বিষয়টা নিয়ে পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি লেখেন, 'টিএমসির প্রতি বাংলার মানুষ বিরক্ত। তাঁরা এখন পরিবর্তন চাইছে। আজ কলকাতায় আমি বিজেপির ‘সংকল্প পত্র’ প্রকাশ করব। টিএমসির ‘সন্ত্রাসের শাসন’ থেকে বাংলা মুক্ত করার অঙ্গীকারের ভিত্তিতে এই সংকল্পপত্র পেশ করা হবে।'
এছাড়া আজ তাঁর আর কী কী কর্মসূচি রয়েছে, সেটাও জানান অমিত শাহ। তিনি লেখেন, 'এরপর পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় একটি জনসভা এবং খড়গপুরে একটি রোডশোর মাধ্যমে রাজ্যের ভাই-বোনদের সঙ্গে দেখা করব।'
মাথায় রাখতে হবে, ভোটের সময় একাধিকবার বাংলায় এসেছেন অমিত শাহ। তিনি শুভেন্দু অধিকারীর মনোয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়ও সঙ্গী ছিলেন। সেই দিন তিনি ভবানীপুরে রোড শো-ও করেন। এছাড়া তিনি বাংলা বিজেপির হয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিটও পেশ করেন। সেখানেই তৃণমূল সরকার এত দিনে যা যা 'দুর্নীতি' বা 'অপকর্ম' করেছে, সেটা জানান হয়।
তারপর আজ আবার বাংলায় কর্মসূচিতে বাংলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি সংকল্পপত্র বা ইশতেহার পেশ করবেন। এই সংকল্পপত্রে তিনি বাংলায় বিজেপি সরকার এলে যা যা করা হবে, সেই নিয়ে বিশদে জানাবেন।
গতকাল এসেছিলেন মোদী
বৃহস্পতিবার রাজ্যে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি তিন জায়গায় সভা করেন। আর সেই সভা থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। তিনি ঘোষণা করে দেন, বাংলায় এবার বিজেপি সরকার এলে এতদিনের অপকর্মের বিচার হবে। সব ধর্ষণের ফাইল খোলা হবে। যা যা দুর্নীতি হয়েছে, সেই সবের হিসেব নেওয়া হবে। ভয়ের পরিবেশ মুক্ত হবে বাংলা। পাশাপাশি সরকারে এলে সপ্তম পে কমিশন গঠিত হবে। সরকারি কর্মচারীদের মাইনে বেড়ে যাবে বাংলায়।
কী কী চমকের আশা?
আর প্রধানমন্ত্রী আসার পরের দিনই বাংলায় অমিত শাহ। তিনি আজ ইশতেহার প্রকাশ করবেন। সেই সংকল্পপত্রে নিশ্চিতভাবে বাংলার জন্য একাধিক চমক থাকবে। বিজেপি এলে কোন কোন প্রকল্প শুরু হতে পারে, সরকার কীভাবে কাজ করবে, কীভাবে ভয়ের পরিবেশ মুক্ত করবে, কত শিল্প আনা হবে ও বেকারত্ব ঘোচাতে সরকার কীভাবে কাজ করবে, এই সব বিষয় নিয়ে বিশদে জানান হবে। তাই সেই দিকে অবশ্যই নজর থাকবে সাধারণ মানুষের। পাশাপাশি বিজেপি বিরোধী তৃণমূল, সিপিআইএম, কংগ্রেসও এই দিকে রাখবে নজর। তাই আজকের দিনটি বাংলার ভোট পূর্ববর্তী রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।