
একটা সময় ছিল, বেশি দিন আগে নয়, এই উনিশ শতকের শুরুর দিকেও কলকাতা নামক শহরটির শেষপ্রান্ত ছিল ভবানীপুর। অর্থাত্ ভবানীপুর পেরনো মানেই, কলকাতার বাইরে। কিন্তু নগরায়ন দ্রুত হওয়ার জেরে, ভবানীপুর ছাড়িয়ে কলকাতা এখন সোনারপুর-রাজপুর ছাড়িয়ে গিয়েছে। তাই ভবানীপুর এখন কলকাতার অন্যতম অভিজাত এলাকার মধ্যে পড়ে। বাড়ি, ফ্ল্য়াটের দাম একেবারে আকাশছোঁয়া। ভোট রাজনীতির নিরিখেও ভাবনীপুর কেন্দ্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র।
ব্রিটিশ আমলে কলকাতার প্রান্তিক গ্রাম ছিল ভবানীপুর
কলকাতা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের আওতায়। কলকাতা কর্পোরেশনের ৮টি ওয়ার্ড এই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। ব্রিটিশ আমলে যে ভবানীপুরকে কলকাতা লাগোয়া গ্রা...
একটা সময় ছিল, বেশি দিন আগে নয়, এই উনিশ শতকের শুরুর দিকেও কলকাতা নামক শহরটির শেষপ্রান্ত ছিল ভবানীপুর। অর্থাত্ ভবানীপুর পেরনো মানেই, কলকাতার বাইরে। কিন্তু নগরায়ন দ্রুত হওয়ার জেরে, ভবানীপুর ছাড়িয়ে কলকাতা এখন সোনারপুর-রাজপুর ছাড়িয়ে গিয়েছে। তাই ভবানীপুর এখন কলকাতার অন্যতম অভিজাত এলাকার মধ্যে পড়ে। বাড়ি, ফ্ল্য়াটের দাম একেবারে আকাশছোঁয়া। ভোট রাজনীতির নিরিখেও ভাবনীপুর কেন্দ্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র।
ব্রিটিশ আমলে কলকাতার প্রান্তিক গ্রাম ছিল ভবানীপুর
কলকাতা দক্ষিণ লোকসভা কেন্দ্রের আওতায়। কলকাতা কর্পোরেশনের ৮টি ওয়ার্ড এই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে। ব্রিটিশ আমলে যে ভবানীপুরকে কলকাতা লাগোয়া গ্রাম হিসেবে গণ্য করা হত, নগরায়ন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ভবানীপুর হয়ে উঠল কলকাতা শহরের প্রাণকেন্দ্র। উনিশ শতকের গোড়ার দিকে ওই অঞ্চলে বসবাস করতে শুরু করেন ব্রিটিশ শিল্পী, আইনজীবী সহ উচ্চপদ ও পেশার লোকেরা। যার নিদর্শন এখনও রয়েছে ভবানীপুরের পুরনো বাড়িগুলিতে। একেবারে প্রাচীন ইউরোপের ধাঁচের।
বর্তমানে কলকাতার প্রাণকেন্দ্র
বাংলার রেনেসাঁয় ভবানীপুরের বিশেষ ভূমিকা ছিল। এমন একটি জায়গা, যেখানে নেতাজি সুভাষচন্দ্র, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়, গুরু দত্ত, উত্তম কুমার সহ বাংলার তাবড় ব্যক্তিত্বের বাড়ি রয়েছে। এছাড়া বিড়লা মন্দির, এসএসকেএম হাসপাতাল, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল তো আছেই। একদম লাগোয়া ময়দান, ইডেন গার্ডেন্স, এসপ্ল্যানেড। নেতাজি ভবন, রবীন্দ্রসদন, যতীন দাস পার্ক- তিনটি মেট্রো স্টেশন রয়েছে ভবানীপুর এলাকায়।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র
এবার আসা যাক রাজনীতিতে। ভবানীপুর কেন্দ্র মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র। ২০১১ সাল থেকে। উপনির্বাচন হোক বা সাধারণ নির্বাচন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতেছেন। ১৯৫১ সালে গঠিত হয় এই বিধানসভা কেন্দ্র। তারপর থেকে উপনির্বাচন সহ ১২টি ভোট দেখেছে ভবানীপুর। ২০১১ ও ২০২১, দুটি উপনির্বাচনেই মমতাকে বিধানসভা পাঠিয়েছে এই কেন্দ্র। ১৯৫২, ১৯৫৭ ও ১৯৬২ সালের পরে ভবানীপুর কেন্দ্রের নাম বদলে করা হয়েছিল কালীঘাট। ১৯৬৭ ও ১৯৭২ সালে কালীঘাট কেন্দ্র হিসেবেই ভোট হয়েছিল। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত এই কেন্দ্রটির অস্তিত্ব ছিল না। পরে ২০০৯ সালে আবার গঠিত হয়। ২০০৯-এর লোকসভা ভোট ও ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে ছিল ভবানীপুর কেন্দ্র।
কে কতবার ভোটে জিতেছে?
ভবানীপুরে প্রথমদিকে টানা ৫ বার জিতেছিল কংগ্রেস। একবারই ওই কেন্দ্রে সিপিএম জিতেছিল। ১৯৫৭ সালে ভবানীপুর কেন্দ্রে জমিতেছিলেন কংগ্রেসের সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়। পরে ১৯৬২ সালে নির্দল হিসেবে লড়েও জমিতেছিলেন তিনি। তবে ভবানীপুর কেন্দ্রটি পুনরুদ্ধারের পর থেকে তৃণমূলের একছত্র দাপট। ২০১১ সালে সুব্রত বক্সী জমিতেছিলেন। সিপিএম প্রার্থী নারায়ণপ্রসাদ জৈনকে ৪৯ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছিলেন। তখন মমতা ছিলেন কেন্দ্রে রেলমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী হতে গেলে মমতাকে বিধানসভায় জিতে আসতে হত। তাই সুব্রত বক্সী ওই কেন্দ্র ছেড়ে দেন, উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতে মুখ্যমন্ত্রী হন। তবে ২০১৬ সালে মমতার জয়ের মার্জিন কমেছিল। সে বার কংগ্রেস প্রার্থী দীপা দাশমুন্সির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোটের পার্থক্য ছিল ২৫ হাজার ৩০১।
২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর ছেড়ে একেবারে নন্দীগ্রামে বিজেপি-র শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হন। ১৯৫৬ ভোটে হেরে যান। বিধায়ক না হলে মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকা যাবে না। ওদিকে ভবানীপুরে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জমিতেছিলেন, বিজেপি-র রুদ্রনীল ঘোষকে ২৮ হাজার ৭১৯ ভোটে হারিয়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিধানসভা পাঠাতে ভবানীপুর কেন্দ্রটি ছেড়ে দেন শোভনদেব। উপনির্বাচন হয়। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হন। এবং জিতে বিধানসভার সদস্য।
ভবানীপুর লোকসভা ফলাফলেও এই চিত্র স্পষ্ট। ২০০৯ সালে ভবানীপুর বিধানসভা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সিপিএমকে ৪১,১৩৪ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৪ সালে পাল্টা চমক দেখায় বিজেপি, তারা মাত্র ১৮৫ ভোটে এগিয়ে যায়। তবে ২০১৯ সালে তৃণমূল আবারও ব্যবধান পুনরুদ্ধার করে এবং ৩,১৬৮ ভোটে লিড নেয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তৃণমূলের ব্যবধান আরও খানিকটা বাড়ে, যদিও তা মাত্র ৮,২৯৭ ভোট। এই পরিসংখ্যানে স্পষ্ট, ভবানীপুরের ভোটাররা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অনুগত।
ভবানীপুরে ভোটার সংখ্যা কমছে
ভবানীপুরের আরও একটি ইন্টারেস্টিং বিষয় হল, গত কয়েক বছরে ভোটার সংখ্যা কমেছে ভবানীপুরে। ২০২৪ সালে ভবানীপুরে মোট ভোটার ছিল ২,০৫,৫৫৩ জন, যা ২০২১ সালের ২,০৬,৩৮৯-এর তুলনায় সামান্য কম। ২০১১ সালে এখানে ভোটার সংখ্যা ছিল ২,১২,৮২১, যা ২০১৬ সালে নেমে আসে ২,০৫,৭১৩-এ এবং ২০১৯ সালে আরও কমে দাঁড়ায় ২,০০,৮৭০। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, দক্ষিণ কলকাতার এই অভিজাত ও ব্যয়বহুল এলাকায় বসবাসের খরচ বেশি হওয়ায় বহু মানুষ অপেক্ষাকৃত সস্তা এলাকায় চলে যাচ্ছেন। এ কারণেই ভবানীপুরে ভোটার সংখ্যা ক্রমে কমছে। এই আসনে মুসলিম ভোটার সবচেয়ে বড় অংশ, ২১.৮০%, এবং তফশিলি জাতি (SC) ভোটার মাত্র ২.২৩%। ভবানীপুরে পুরোটাই শহুরে ভোট।
ভবানীপুর কেন্দ্র টি ২০২৬ সালেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদাররা বারবার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, 'ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাব।' অনেকে মনে করছেন, শুভেন্দু দাঁড়াতে পারেন মমতা বিরুদ্ধে ভবানীপুরে। ভবানীপুর কেন্দ্রে কে দাঁড়াবে, তা তো সময়ই বলবে। কিন্তু এবারও রাজ্য রাজনীতিতে হাইভোল্টেজ লড়াই-ই হবে এই কেন্দ্রে।
Rudranil ghosh
BJP
Md. shadab khan
INC
Nota
NOTA
Anita rajwar
BSP
Chandan mallick
IND
Ashraf alam
IND
Bikki rajak
IND
Deepak prasad singh
IND
Narayan das
IND
Deepa dasmunshi
INC
Chandra kumar bose
BJP
Nota
NOTA
Nirmal kanti samaddar
BSP
Pinky tiwari
IND
Shobha singh
SUCI
Saugata gupta
IND
Narayan das
IND
Indraneel mitra
IND
Kiran kaur
IND
Malay guha roy
IND