
Basanti Clash News: বাসন্তীর ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে বাসন্তী থানার আইসি-কে সাসপেন্ড করল Election Commission of India। শুক্রবার (২৭ মার্চ) এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষের পরই প্রশাসনিক মহলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী বাজার এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাঁধে। পুলিশ সূত্রে জানা খবর, ঘটনায় অন্তত ১২ জন রাজনৈতিক কর্মী আহত হন। পাশাপাশি আহত ৭ জন পুলিশকর্মীও হন। তাঁদের মধ্যে এক জন সাব-ইনস্পেক্টরও ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় পুলিশ প্রথমে আট জনকে আটক করে। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দুপুর ১টা নাগাদ বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার প্রচারে বেরিয়েছিলেন। সেই সময়, বাসন্তী বাজার এলাকায় তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের বচসা শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রচারের ভিডিও মোবাইলে তোলাকে কেন্দ্র করেই এই অশান্তির সূত্রপাত। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে বিরোধীরা। বিজেপির দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাদের প্রচার ভেস্তে দিতে হামলা চালানো হয়েছে। অভিযোগ, পুলিশ যথাযথ ভূমিকা নেয়নি। বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দারের দাবি, 'আমাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে, মোটরবাইক ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল।'
যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। স্থানীয় তৃণমূল নেতা রাজা গাজির বক্তব্য, 'বাসন্তী নিয়ে বিজেপির দাবির কোনও ভিত্তি নেই। সহানুভূতি আদায়ের জন্য নাটক করছে।'
ঘটনার সময় বীরভূমে প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। দুবরাজপুরের সভা থেকে তিনি বলেন, 'মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট চালু রয়েছে। এখন প্রশাসনের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায় কমিশনকেই নিতে হবে।'
এর পরেই কমিশনের তরফে কড়া পদক্ষেপ করা হয়। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে বাসন্তী থানার আইসি-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে কমিশনের এহেন পদক্ষেপ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের নির্বাচনী পরিবেশে যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।