
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: বাসন্তী
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ক্যানিং মহকুমার একটি ব্লক স্তরের শহরতলী হল বাসন্তী। বাসন্তী কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং SC গোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত ক্যানিং ২ ব্লকের আথারবাঙ্কি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্রটি। জয়নগর লোকসভা কেন্দ্রের ৭টি বিধানসভার মধ্যে বাসন্তী একটি। এই কেন্দ্রটি ১৯৬২ সালে তৈরি হয়েছিল এবং পরবর্তীতে SC আসন হিসেবে সংরক্ষিত হয় ২০০৬ সালের পুনর্বিন্যাসের পর। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে এটি SC সংরক্ষিত আসন হিসেবে বিবেচিত হয়।
জন্মলগ্ন থেকে বাসন্তী এখনও পর্যন্ত ১৫টি ভোটে অংশ নিয়েছে। RSP এই আসন থেকে ৯ বার জিতেছে। ১৯৭৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে ৮ বার। ...
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: বাসন্তী
পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ক্যানিং মহকুমার একটি ব্লক স্তরের শহরতলী হল বাসন্তী। বাসন্তী কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ব্লকের ১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং SC গোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত ক্যানিং ২ ব্লকের আথারবাঙ্কি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত বাসন্তী বিধানসভা কেন্দ্রটি। জয়নগর লোকসভা কেন্দ্রের ৭টি বিধানসভার মধ্যে বাসন্তী একটি। এই কেন্দ্রটি ১৯৬২ সালে তৈরি হয়েছিল এবং পরবর্তীতে SC আসন হিসেবে সংরক্ষিত হয় ২০০৬ সালের পুনর্বিন্যাসের পর। ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচন থেকে এটি SC সংরক্ষিত আসন হিসেবে বিবেচিত হয়।
জন্মলগ্ন থেকে বাসন্তী এখনও পর্যন্ত ১৫টি ভোটে অংশ নিয়েছে। RSP এই আসন থেকে ৯ বার জিতেছে। ১৯৭৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে ৮ বার। কংগ্রেস এই আসনে জিতেছে ৪ বার। এর মধ্যে ১৯৬০ সালে ২ বার এবং তারপর ১৯৭১ ও ১৯৭২ সালে। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস এই কেন্দ্রে দাপট বিস্তার করেছে।
২০১৬ সালে বামেদের ঘাঁটি ছিনিয়ে নেন তৃণমূলের গোবিন্দচন্দ্র নস্কর। দীর্ঘদিনের RSP বিধায়ক সুভাষ নস্করকে ১৬ হাজার ৬০৭ ভোটে হারান তিনি। ১৯৮২ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে ৭ বার এই বাসন্তী কেন্দ্রের বিধায়ক ছিলেন সুভাষ নস্কর। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের শ্যামল মণ্ডল মার্জিন বাড়িয়ে BJP-র রমেশ মাঝিকে হারান ৫০ হাজার ৬৪২ ভোটে। তৃতীয় স্থানে পৌঁছে যান বাম প্রার্থী সুভাষ নস্কর। BJP-র ভোটের হার ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বেড়েছে ২২.৭২%। এই একই সময়ের মধ্যে RSP-র ভোট কমেছে ২৩.৫৭%।
২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে তৃণমূল RSP-র থেকে ১ হাজার ৯৩৪ ভোট বেশি পেয়েছিল। ২০১৯ সালে সেই মার্জিন বেড়ে দাঁড়ায় ৫৬ হাজার ৪৫৭। ২০২৪ সালে দাঁড়ায় ৭৮ হাজার ১। ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে RSP-কে তৃতীয় স্থানে ঠেলে BJP দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। ২০১৪ সালে BJP এই আসনে ভোট পেয়েছিল ৭.৫৯%। যা ২০১৯-এ লাফিয়ে পৌঁছয় ৩০.২০% এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে ২৫.৮২%-এ।
২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সময়ে এই কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ২ লক্ষ ৭৩ হাজার ২৬৫ জন, যা ২০২১ সালের বিধানসভার সময়কালীন ২ লক্ষ ৬০ হাজার ৬৮১ এবং ২০১৯ সালের ২ লক্ষ ৪১ হাজার ৩৯৯ থেকে কম। এই কেন্দ্রে মুসলিম ভোটার সংখ্যাগরিষ্ঠ (৩৬.৭০%)। SC ভোটারের হার ৩২.৫৭%, ST ভোটারের হার ৪.৫৮%। এই কেন্দ্রটি কার্যত গ্রামীণ এলাকা নিয়েই। মাত্র ২.০২% শহুরে ভোটার আছে বাসন্তীতে। পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য বিধানসভা আসনগুলির তুলনায় বাসন্তীতে গত দু'দশক ধরে ভোটের হার বেড়েছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৮০.৯৮%, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৭৮.৭০%, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৮২.০৬% এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৮২.৪২%।
বাসন্তী দেবী মন্দির থেকেই এই এলাকার নামকরণ করা হয়। বসন্ত পঞ্চমী উদযাপনই এই এলাকার পরিচিত বাড়িয়েছে। তবে তার কোনও তথ্যপ্রমাণ সেভাবে নেই। সুন্দরবন লাগোয়া এই বাসন্তী সমতলভাগে অবস্থিত, তবে খানিকটা নীচু। বর্ষার মরশুমে এই কেন্দ্রের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাপ্রবণ হয়ে পড়ে। মাতলা নদীই এই কেন্দ্রের মূল জলের উৎস। বাঁধ দিয়েই ঘেরা বাসন্তীর বেশিরভাগ এলাকা। ফলত এলাকার বাড়িঘর বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে থাকে বর্ষার সময়ে। মাটি উর্বর, ধান, জুট এবং সবজি চাষের জন্য আদর্শ। মাছ ধরা, কাঁকড়া ধরা মূল জীবিকা এখানকার। এছাড়াও বাসন্তীর মানুষজন চাষাবাস এবং মধু সংগ্রহ করেও জীবিকা নির্বাহ করেন। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মুখোমুখিও পড়তে হয় তাঁদের। প্রতি বছরই প্রচুর মানুষের মৃত্যু হয় বাঘের হামলায়। এছাড়াও জীবনধারণের জন্য পর্যাপ্ত পরিকাঠামোরও অভাব রয়েছে বাসন্তীতে। মাঝে মাঝেই এই এলাকা জলের নীচে চলে যায়। পাশাপাশি বেহাল রাস্তা, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে বাসন্তীতে। ঘূর্ণিঝড়, ভূমিক্ষয় এবং ঘনঘন বন্যা নিয়মিত জীবনযাত্রা নষ্ট করে, অর্থনীতির ক্ষতি করে।
কলকাতা থেকে ৬৫ কিমি দূরে অবস্থিত বাসন্তী। জেলা সদর বারুইপুর থেকে ৩৬ কিমি দূরে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহর ক্যানিং থেকে ২০ কিমি দূরে রয়েছে বাসন্তী। এছাড়াও গোসাবা ৪০ কিমি পূর্বে অবস্থিত। নিকটবর্তী ডায়মন্ড হারবার ৫৫ কিমি দূরে, বসিরহাট ৯৫ কিমি দূরে।
আন্তর্জাতিক সীমান্তে বাংলাদেশের সাতখিরা ৭০ কিমি দূরে অবস্থিত। তবে বাসন্তী থেকে ক্রস বর্ডার রুট নেই।
BJP-র ভোটের হার বৃদ্ধি হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূলের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে গেরুয়া শিবির। অপ্রত্যাশিত কিছু না হলে শাসকদল ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তৃতীয়বারের জন্য এই আসন দখল করতে চলেছে। তেমন চ্যালেঞ্জ ছাড়াই বাসন্তীতে বড় মার্জিনে জয় আসতে পারে তৃণমূলের।
Ramesh majhi
BJP
Subhas naskar
RSP
Nota
NOTA
Biswajit mondal
IND
Debabrata mondal
IND
Nimai chandra mondal
SUCI
Subhas naskar
RSP
Pankaj roy
BJP
Nota
NOTA
Himanshu kayal
MPOI
Taranga mondal
IND