
তিনি কলকাতার নামী ক্যানসার বিশেষজ্ঞ। আবার তিনি দক্ষ রাজনীতিক। বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতির দায়িত্বও রয়েছে তাঁর কাঁধে। আর আসন্ন বিধানসভা ভোটে তিনি প্রার্থীও হয়েছেন বেহালা পশ্চিম কেন্দ্র থেকে। তাই স্বভাবতই ভীষণ ব্যস্ত ডা: ইন্দ্রনীল খাঁ। তবে সেই ব্যস্ততার মধ্যেও bangla.aajtak.in-এর সঙ্গে প্রচার থেকে শুরু করে রাজ্য রাজনীতি এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে কথা বললেন। আসুন তাঁর মতামত জেনে নেওয়া যাক।
প্রশ্ন: কেমন চলছে প্রচার? মানুষের কেমন রেসপন্স পাচ্ছেন?
উত্তর: খুবই ভাল সাড়া পাচ্ছি। মানুষ ৩৪ বছর বামেদের দেখেছে। ১৫ বছর দেখছে তৃণমূলকে। এই সরকারের আমলে মানুষ তিতিবিরক্ত। কয়লা চুরি, চাকরি চুরি, রেশন চুরি... শুধু চুরি আর দুর্নীতি। শিক্ষা নেই, চাকরি নেই, ব্যবসা নেই। তাই মানুষ তৃণমূলের অপশাসন থেকে মুক্তি চাইছে। প্রচারে তেমনটাই দেখতে পারছি।
প্রশ্ন: জেতার বিষয়ে কতটা আশাবাদী?
আগেই বলেছি মানুষ তৃণমূলের উপর বিরক্ত। তাই এবার বাংলায় বিজেপি সরকার গড়া হবে। আমি জেতার বিষয়ে আশাবাদী।
প্রশ্ন: ২০২১ সালে কসবায় কঠিন সিটে দাঁড়িয়ে হার সহ্য করতে হয়েছিল। এবার আবার বেহালা পশ্চিম। এখানে গত বিধানসভায় তৃণমূল বিপুল ভোটে এগিয়ে ছিল। আবার তো কঠিন সিট?
উত্তর: বেহালা পশ্চিমের মানুষ তৃণমূলের উপর রেগে আগুন। এখানে কোনও উন্নয়ন হয়নি। একটু বৃষ্টি হলেই এখানে জল জমে যায়। বেআইনিভাবে পুকুর বোঝাই চলেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের এই এলাকায় একটি মাত্র বিদ্যাসাগর হাসপাতাল রয়েছে। সেই হাসপাতালে পরিষেবা মেলে না বললেই চলে। সবাইকে পিজিতে ছুটতে হয়। তাই মানুষ তৃণমূলের সরকারের উপর রেগে আগুন। মানুষ বিজেপি সরকারকেই চাইছে।
আমরা আসলে এলাকার উন্নয়ন হবে। দুর্নীতিরাজ বন্ধ হবে। কর্মসংস্থান হবে। বিদ্যাসাগর হাসপাতালকে ঢেলে সাজান হবে। এখানে হার্ট, স্নায়ু, ক্যান্সার সহ একাধিক সুপার স্পেশালিটি বিভাগের চিকিৎসা মিলবে। তাই মানুষ আমাদেরই বেছে নেবেন।
প্রশ্ন: এখানে প্রার্থী ছিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি শিক্ষা কেলেঙ্কারিতে যুক্ত বলে অভিযোগ। এবার আপনি সেই এলাকাতেই দাঁড়ালেন।
উত্তর: বেহালার মানুষ পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ভালই চেনেন। উনি যে কীভাবে চাকরি চুরি করেছেন, সেটা সবার কাছে পরিষ্কার। আর সবথেকে বড় কথা, এই ৫ বছরে বেহালা পশ্চিমে কোনও উন্নয়ন হয়নি। তাই এখানে বিজেপিই এগিয়ে।
প্রশ্ন: এবার আপনার বিরুদ্ধে প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় বেশ বড়। লড়াই কঠিন হবে না?
উত্তর: তৃণমূলের প্রতীকে যিনি দাঁড়ান তিনি চাকরি চুরি, কয়লা চুরি, গোরু পাচার, সিন্ডিকেট, পুকুর ভরাটের মতো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে যান। তাই কোনও ব্যক্তি বিশেষ এখানে ফ্যাক্টর নন। বরং লড়াইটা তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির। আর এই লড়াইতে আমরা জিতব।
প্রশ্ন: আর জি কাণ্ডের নির্যাতীতার মা আপনার দলের প্রার্থী, কী বলবেন?
উত্তর: খাস কলকাতার আরজি কর হাসপাতালের এহেন ঘটনা রাজ্য তথা দেশ এবং বিশ্বের মানুষকে আলোড়িত করেছে। বোনের হত্যা আমরা মেনে নিতে পারিনি। আমরা বিচার চাই। আর বোনের মা বুঝে গিয়েছেন যে কারা তাঁর মেয়ের বিচার এনে দিতে পারে, কারা বিচার আটকেছে। তাই তিনি বিজেপির প্রতীকে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রশ্ন: আবার আরজি করে লিফটে মৃত্যু। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার করুণ হাল বলে অভিযোগ। বিজেপি এলে কী করবে?
উত্তর: বিজেপি এলে জেলা থেকে শহর কলকাতার সব হাসপাতালের উন্নতি হবে। রোগীরা যাতে ঠিক ঠাক পরিষেবা পান সেটা নিশ্চিত করা হবে। কাউকে যাতে চিকিৎসার জন্য প্রাইভেট হাসপাতালে না ছুটতে হয়, সেটা দেখা হবে। জেলা হাসপাতালগুলির চিকিৎসা পরিকাঠামো বাড়ানো হবে। সার্বিক উন্নতি হবে স্বাস্থ্যব্যবস্থার।
প্রশ্ন: আপনি ব্যস্ত চিকিৎসক। এখন ডাক্তারি বন্ধ, নাকি চলছে?
উত্তর: আমি একজন ডাক্তার সঙ্গে রাজনীতিক। তাই দুটোই একসঙ্গে চলছে। কোনওটাই ছাড়ছি না। শুধু কম ঘুমাচ্ছি। দিনে ২-৩ ঘণ্টা ঘুমাচ্ছি মাত্র। এই কয়েকটা দিন এভাবেই কেটে যাবে। এই নিয়ে বেশি ভাবছি না।