
'আমি পজিটিভ হতে চাই। দু’দিন পর সরকার চালাব আমি। এটা বুঝে রাখুন।' প্রকাশ্য রাস্তায় জনসক্ষে পুলিশ আফিসারকে ঠিক এই ভাষাতেই চমকালেন BJP বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। সরাসরি পুলিশ আধিকারিককে হুঁশিয়ারি দেওয়ার ঘটনায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। BJP বিধায়কের এই আচরণ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জনপ্রতিনিধি হয়ে কী করে একজন পুলিশ আধিকারিক এইভাবে হুঁশিয়ারি দিতে পারেন, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুর করেছে। কী থেকে এই ঘটনার সূত্রপাত?
কলকাতায় একসময় শোরগোল ফেলে দেওয়া ‘ভাগাড়ের মাংস’ আতঙ্ক এবার শিলিগুড়িতেও। খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযান এবং পুরনিগমের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ নিয়ে বুধবার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন শিলিগুড়ির BJP বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে পুলিশি বাধার মুখে মেজাজ হারান তিনি। সরাসরি পুলিশকে লক্ষ্য করে বলেন, 'আমি পজিটিভ হতে চাই। দু’দিন পর সরকার চালাব আমি। এটা বুঝে রাখুন।'
সম্প্রতি শিলিগুড়ি পুরনিগম এলাকার বিভিন্ন নামী-দামি হোটেল, রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানে ঝটিকা অভিযান চালায় খাদ্য সুরক্ষা দফতর। অভিযানে প্রচুর পরিমাণে পচা খাবার, পোকা ধরা মাংস এবং নিম্নমানের দ্রব্য উদ্ধার হয়। কিন্তু বিধায়কের অভিযোগ, এত বড় অন্যায়ের প্রমাণ পাওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে শিলিগুড়ি পুরনিগম কোনও দৃশ্যমান বা কড়া আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে না। রিপোর্ট ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এবং অভিযানে সংগৃহীত নমুনাগুলোর পরীক্ষার রিপোর্ট কেন এখনও জনসমক্ষে আনা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিধায়ক।
শঙ্কর ঘোষের দাবি, 'খাদ্য দফতর শিলিগুড়ির মানুষকে বোকা বানাচ্ছে। কলকাতার মতো শিলিগুড়িতেও ভাগাড়ের মাংস পরিবেশন করা হচ্ছে, অথচ প্রশাসন চুপ। পচা খাবার বিক্রির প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কেন দোকানগুলো সিল করা হচ্ছে না বা লাইসেন্স বাতিল হচ্ছে না।'
এই দাবিগুলিকে সামনে রেখেই শিলিগুড়ি খাদ্য সুরক্ষা দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখান BJP কর্মীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিধায়ক যখন দফতরের ভিতরে ঢুকতে যান, তখন পুলিশি বাধার মুখে পড়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই সময়ই তিনি আগামীতে সরকার পরিবর্তনের দাবি করে পুলিশকে হুঁশিয়ারি দেন।
রিপোর্টার: উৎপল পোদ্দার