
ক্যানিং পূর্বে আরাবুল ইসলামকে প্রার্থী করা নিয়ে বাম ও আইএসএফের সম্পর্ক নতুন করে চাপে। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের আপত্তির জবাবে আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, প্রার্থী নির্বাচন তাদের দলের নিজস্ব সিদ্ধান্ত, কোনও দলের ‘লেজুড়বৃত্তি’ তারা করবেন না।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম অত্যন্ত কড়া ভাষায় আরাবুল ইসলামের বিরোধিতা করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভাঙড়ে আইএসএফ কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন এই আরাবুল। সেলিম বলেন, ‘যাঁর হাতে আমাদের কর্মীদের রক্ত লেগে আছে, তাঁকে পাশে নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় না।’ আইএসএফের নিচুতলার কর্মীদের প্রতি সেলিমের আহ্বান, তাঁরা যেন নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেন। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন আইএসএফ চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকী। একটি সংবাদ মাধ্যমকে নওশাদ বলেন, গত আটমাস ধরে জোটের চেষ্টা চলছে। আমরা কাকে প্রার্থী করব অন্য দল ডিসাইড করতে পারবে না।
আইএসএফ চেয়ারম্যান জানান, আইএসএফ (ISF) কোনও দলের ‘লেজুড়বৃত্তি’ করবে না এবং প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে অন্য কারও ‘শাসানি’ বরদাস্ত করা হবে না। নওশাদ বলেন, 'আইএসএফ কাকে প্রার্থী করবে, সেটা সম্পূর্ণ দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা অন্য কোনও দলের ইচ্ছে অনুযায়ী চলতে পারি না বা কারও লেজুড়বৃত্তি করতে পারি না।' সেলিমের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তাঁর সাফ কথা, প্রার্থী নিয়ে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। সেখানে অন্য কোনও দলের খবরদারি মানা হবে না। এই মন্তব্যের পর জোট রাজনীতিতে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের মত।
প্রসঙ্গত, এখনও পর্যন্ত ২৩ আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে আইএসএফ। অন্যদিকে বামেরা চতুর্থ পর্যায়ে আরও ৭ কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এখনও পর্যন্ত মোট ২৪৬ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বামফ্রন্ট। বেশ কয়েক আসনেই আবার সমঝোতা করেও আইএসএফের সঙ্গে ‘ক্ল্যাশ’ হচ্ছে বামফ্রন্টের। সেলিম যদিও বলছেন, 'অনেকদূর এগিয়েছি। অনেককে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়াস আমরা চালিয়ে যাব। ঐক্যস্থাপন হবেই। এই আশা করি।' তবে বেশ কিছুদিন ধরেই বাম ও আইএসএফের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। আরাবুল ইস্যু সেই তিক্ততাকে এক অনন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্যানিং পূর্বের এই সংঘাত যদি না মেটে, তবে দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য আসনেও জোটের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ভাঙড় ও ক্যানিং এলাকায় বাম ও আইএসএফ কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হবে, তা নিয়েও বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।