
জোরকদমে চলছে বিধানসভা ভোটের জন্য প্রচার। প্রতিদিনই একাধিক সভা করছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার মুর্শিদাবাদে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিলেন বাংলার বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। এদিন জিয়াগঞ্জের তোকিয়া প্রমোদ কলোনি মাঠের জনসভায় বক্তব্য রাখেন মমতা। আর সেখান থেকেই ২ এপ্রিল ভবানীপুরে অমিত শাহের রোড শোয়ে অশান্তি নিয়ে বিজেপিকে একহাত নেন মমতা।
ভবানীপুরে অমিত শাহের উপস্থিতি শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার রোড শো-তে অশান্তি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, 'বাইরে থেকে লোক নিয়ে আসা হয়েছিল। তিনি বলেন, ভবানীপুরে আমার বাড়ির সামনে হামলা হল। আমার পোস্টারে থুতু দিচ্ছিল। অভিষেকের বাড়ির দিকে জুতো দেখাচ্ছিল। স্থানীয় লোকজনই এর প্রতিবাদ করেছে। এটা রাজনীতি নয়। মনোনয়ন দিতেও ওরা বাইরের লোক নিয়ে এসেছিল। বিজেপির কথায় চার পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে।’
পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কাল ভবানীপুরে কেন্দ্রীয় বাহিনী অসভ্যতা করেছে। এক মহিলাকে আপত্তিকর ভাবে চেক করেছে। সাবধানে থাকবেন।’ সেইসঙ্গে সতর্ক করে দেন, ‘আমার নাম করেও কেউ অ্যাকাউন্ট নম্বর চাইলে দেবেন না। এগুলো বিজেপি ছদ্মবেশে করছে। যেটুকু সম্পদ আছে, তা-ও কেড়ে নেবে। বাঘ-সিংহকে বিশ্বাস করতে পারেন। বিজেপিকে বিশ্বাস করবেন না। ওরা ভয়ঙ্কর অত্যাচারী।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ইভিএম খারাপ করে দিলে অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু তাতে আর ভোট করতে দেবেন না। সারানোর নাম করে চিপ ঢুকিয়ে দেবে। ওরা পারে না এমন কোনও কাজ নেই। ভোটের পর ভোটবাক্সকে মায়ের মতো পাহারা দেবেন।’
বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে তৃণমূল নেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২০২৬-এর নির্বাচনে বিজেপির পতন নিশ্চিত এবং আগামী দিনে বাংলাই দিল্লি দখল করবে। দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়াতে তৃণমূলনেত্রী বলেন,'তৃণমূলের যে প্রার্থীকেই আপনারা ভোট দেবেন, মনে রাখবেন সেই ভোটটা আমিই পাব। ২৯৪টি আসনেই আমি নিজে প্রার্থী।' রাজনৈতিক মহলের মতে, স্থানীয় স্তরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভুলে ভোটাররা যাতে ঘাসফুল চিহ্নেই আস্থা রাখেন, সেই লক্ষ্যেই ফের এই পুরনো রণকৌশল ব্যবহার করলেন তিনি।