
ভোটের মুখে পরিবহণ সঙ্কটে পড়েছে কলকাতার একাধিক স্কুল। নির্বাচনী দায়িত্বে বিপুল সংখ্যক বাস অধিগ্রহণ করায় স্কুলগুলোর দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এর জেরে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই সাময়িকভাবে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বা তা বিবেচনা করছে।
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারিত রয়েছে। বিশেষ করে ২৯ এপ্রিল কলকাতায় ভোটের দিন হওয়ায় সেদিন অধিকাংশ স্কুল বন্ধ থাকবে। তবে সমস্যার শুরু তারও আগে, বাসগুলো যদি কয়েক দিন আগেই নির্বাচনী কাজে নিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে পড়ুয়াদের স্কুলে পৌঁছনোই কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।
নিউ টাউনের একটি বেসরকারি স্কুলের অধ্যক্ষা জানিয়েছেন, তাঁদের অনেক ছাত্রছাত্রী দূরদূরান্ত থেকে আসে। বাস পরিষেবা না থাকলে অফলাইন ক্লাস চালানো সম্ভব নয়। তাই ২৭ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, আর ২৯ এপ্রিল থাকবে ছুটি।
একই পরিস্থিতি অন্য স্কুলগুলিতেও। কোথাও বাস পরিষেবা বাধ্যতামূলক না হলেও, প্রায় অর্ধেক পড়ুয়া সেই ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। ফলে বাস না থাকলে উপস্থিতি অনেক কমে যেতে পারে। তাই বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবে অনলাইন ক্লাসের কথাই ভাবা হচ্ছে।
কিছু স্কুল ইতিমধ্যেই প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছে, বাস অধিগ্রহণের সময়সীমা বা সংখ্যা কমানোর জন্য। কেউ আবার বাসের রুট একত্রিত করে অন্তত আংশিকভাবে ক্লাস চালানোর চেষ্টা করছে।
এছাড়া, যেসব স্কুলের প্রাঙ্গণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে, সেগুলিকে নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ রাখতে হতে পারে। ফলে ক্লাসের সময়সূচি বদলানো, পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া, এমন নানা পরিবর্তনও করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক প্রস্তুতির প্রভাব পড়েছে শিক্ষাক্ষেত্রেও। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্কুলগুলো একদিকে যেমন বিকল্প পথ খুঁজছে, তেমনই পড়ুয়াদের পড়াশোনার ক্ষতি কমাতে অনলাইন মাধ্যমকেই ভরসা করছে।