
ইস্টবেঙ্গলের হয়ে একটা সময় দাপিয়ে খেলেছেন। পরে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। পাঁচ বছর আগে তৃণমূলে যোগ দিলেও এখনও সেভাবে সভায়-মিছিলে দেখা যায়নি ইস্টবেঙ্গলের এই প্রাক্তনীকে। ৫ বছর পর ফের বিধানসভা ভোটের আগে সংবাদ শিরোনামে সৌমিক দে। এবারের বিধানসভা ভোটে উত্তরপাড়া হট সিট। এই কেন্দ্রে সিপিআইএম-এর প্রার্থী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। তৃণমূলের প্রার্থী কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়ের পুত্র শীর্ষণ্য। আর বিজেপি প্রার্থী করেছে প্রাক্তন এনএসজি কর্তা দীপাঞ্জন চক্রবর্তীকে।
শুরু নতুন জল্পনা
বুধবার সৌমিকের সঙ্গে মিনাক্ষী দেখা করেন। তা নিয়েই শুরু হয় জল্পনা। তবে কি তৃণমূল ছাড়ছেন প্রাক্তন ফুটবলার? bangla.aajtak.in-কে এ ব্যাপারে কী জানালেন সৌমিক? তিনি বলেন, 'এটা একেবারেই সৌজন্য সাক্ষাৎ। এখানে রাজনীতি খুঁজবেন না।' কী কথা হল মিনাক্ষীর সঙ্গে? ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন ফুটবলারের দাবি, 'আমাকে এর আগে সামনা সামনি দেখেননি উনি। এখানে এসেছিলেন প্রচার সারতে। সেই সময়ই আমাদের বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন কয়েকজন। তারপর আমার সঙ্গে কথা হয়। চা খাওয়াই। উনি সত্যিই অভিভূত আমাকে দেখে।'
দলবদল করবেন সৌমিক?
তবে কি দলবদল করতে চলেছেন সৌমিক? প্রাক্তন ফুটবলার বলেন, 'না না সেরকম কিছু নয়। এটা শুধুই সৌজন্য। আমি সরাসরি রাজনীতি করি না। তবে সমর্থন যে দলের প্রতি ছিল, সে দলের প্রতিই রয়েছে।' গত বছর দুর্গাপুজোর পর থেকেই উলুবেড়িয়াতে পড়ে রয়েছেন বাম নেত্রী। সংগঠন ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলের নানা সমস্যার কথা শোনার চেষ্টা করছেন মীনাক্ষী। প্রচার শুরু করেছেন তাঁর প্রতিপক্ষ শীর্ষণ্য বন্দোপাধ্যায়ও।
এই কেন্দ্রের ইতিহাস
এই কেন্দ্রকে ঘিরে প্রত্যাশায় বামেরা। এই আসন ধরে রাখার ক্ষেত্রে আশাবাদী তৃণমূলও। ২০১১ সালে ফরওয়ার্ড ব্লকের কুতুবুদ্দিন আহমেদকে ১১,৮৩২ ভোটে পরাজিত করেন তৃণমূলের পুলক রায়। এরপর ২০১৬ সালে ফরওয়ার্ড ব্লকের মহম্মদ নাসিরুদ্দিনের বিরুদ্ধে জয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে করেন ৩৫,৩৪৪। ২০২১ সালে বিজেপির পাপিয়া দে-কে ২৮,৪৩৮ ভোটে হারান পুলক রায়। এক সময়কার দাপুটে ফরওয়ার্ড ব্লক তৃতীয় স্থানে চলে যায়। লোকসভা নির্বাচনেও তৃণমূল কংগ্রেস একই আধিপত্য ধরে রেখেছে। উলুবেড়িয়া দক্ষিণ বিধানসভায় তাদের লিড বা ব্যবধান ক্রমশ বাড়ছে। ২০২৪ সালে ৩৩১৩৩ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০১৯ সালে ছিল ব্যবধান ছিল ২৪,৯৪৭। সেই ব্যবধান ঘুচিয়ে মীনাক্ষী জয়ী হতে পারেন কিনা সেটাই দেখার।