
খড়গপুরে নির্বাচনী প্রচারে নেমে আবারও আক্রমণাত্মক সুরে রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হলেন বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে পুলিশের কাজের ধরন আমূল বদলে যাবে, আর দেখা যাবে উত্তরপ্রদেশের ধাঁচে কঠোর পদক্ষেপ।
বৃহস্পতিবার খড়্গপুরে প্রচার সভায় তিনি বলেন, ৪ মে-র পর রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতির বদল ঘটবে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে রাজ্য পুলিশ শাসক দলের প্রভাবেই কাজ করছে এবং অপরাধীদের সঙ্গে যোগসাজশ রেখে বিরোধীদের চাপে রাখছে। দিলীপ ঘোষের কথায়, 'এখন যারা গুন্ডা-মাফিয়াদের সঙ্গে ওঠাবসা করছে, তখন তারাই আইন মেনে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে এনকাউন্টার হবে, জেল ভরবে।'
নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী শোনাল তাঁকে। খড়্গপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, অতীতেও তিনি এই এলাকার দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে লড়েছেন এবং ভবিষ্যতেও লড়াই চালিয়ে যাবেন। তবে এবার সরাসরি সংঘর্ষ নয়, বরং প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমেই আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আনার ইঙ্গিত দেন তিনি।
এদিন বিজেপি কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, দলীয় কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে, এমনকি গুলি চালানোর হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, 'আমি শুরু থেকেই চমকে দেওয়া রাজনীতি করেছি। যারা ভয় পায়, তাদের ভয় দেখাতেই হয়। অন্যায় দেখলে চুপ করে থাকব কেন?'
উল্লেখ্য, খড়্গপুর কেন্দ্রের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ২০১৬ সালে এই কেন্দ্র থেকেই তিনি বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। যদিও ২০২১ সালে তাঁকে প্রার্থী করা হয়নি, তবে নানা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর এবার ফের পুরনো কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনা হয়েছে তাঁকে।
প্রচারের মঞ্চে দাঁড়িয়ে অতীতের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, আগেরবার মানুষ সুযোগ দিয়েছিল বলেই এলাকায় অপরাধ দমন সম্ভব হয়েছিল। এবারও সেই একইভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আশ্বাস দেন।
দিলীপের এই মন্তব্য প্রসঙ্গে এদিন সাংবাদিক বৈঠকে সায়নী ঘোষ বলেন, 'দিলীপ বাবুকে বলব বউকে একটু সাবধানে রাখুন। যে ধরনের কথা বলছেন, তাতে এনকাউন্টার না হয়ে যায়।'