
ভোটের ময়দানে প্রচারের অন্যতম ভরসা দেওয়াল লিখন। কিন্তু সেই জায়গাতেই বিপাকে পড়েছে ফরওয়ার্ড ব্লক। দলের প্রতীক ‘সিংহ’ আঁকতেই হিমশিম খাচ্ছেন কর্মীরা। ফলে বহু জায়গায় প্রার্থীর নাম লেখা থাকলেও প্রতীক ছাড়া ফাঁকা পড়ে রয়েছে দেওয়াল।
দুবরাজপুর-সহ পুরুলিয়া, বীরভূম ও হুগলির একাধিক এলাকায় এই সমস্যার ছবি স্পষ্ট। যেখানে তৃণমূল ও বিজেপির দেওয়াল লিখনে জোরকদমে প্রচার চলছে, সেখানে ফরওয়ার্ড ব্লকের দেওয়াল যেন খাঁ খাঁ করছে। মূল প্রশ্ন, সিংহ আঁকবে কে?
দলের অন্দরের খবর, স্থানীয়ভাবে শিল্পী খোঁজার চেষ্টা হলেও পারিশ্রমিক নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এক শিল্পী দিনে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা দাবি করেছেন, কিন্তু তিনি কতগুলি প্রতীক আঁকতে পারবেন, তার নিশ্চয়তা দিতে পারেননি। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রার্থীরাই ভাবছেন, প্রয়োজনে নিজেরাই তুলি ধরবেন।
আসলে ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রতীক ‘গর্জনরত সিংহ’ আঁকা মোটেই সহজ কাজ নয়। অভিজ্ঞ শিল্পীরাও অনেক সময় এই প্রতীক ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। তরুণ কর্মীদের অনেকেই তাই রং-তুলি হাতে নিতে সাহস পাচ্ছেন না। এই সমস্যা নতুন নয়। ২০১৫ সালের পুরুলিয়া জেলা সম্মেলনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তখন স্বীকার করা হয়েছিল, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রতীক সঠিকভাবে আঁকা না যাওয়ায় প্রচারে প্রভাব পড়েছিল।
এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগেভাগেই উদ্যোগ নেয় দল। রাজ্য দফতর থেকে সিংহ আঁকার ছাঁচ পাঠানো হয়েছে জেলা কমিটিগুলিতে। পাশাপাশি পুরুলিয়া জেলায় প্রায় ৫০ জন কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য পেশাদার শিল্পীর ব্যবস্থাও করা হয়। তবুও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, প্রত্যাশামতো সব জায়গায় প্রতীক আঁকা সম্ভব হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন দলের নেতা নরেন চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, 'পুরো বোগাস এক একটা প্রার্থী। ওদের বলুন ভোটে লড়তে হবে না। আসলে সবাই চায় কলকাতা থেকে শিল্পী নিয়ে গিয়ে প্রতীক আঁকাতে।'
তিনি আরও বলেন, 'আগে কলকাতা থেকে লোক যেত। এরা নিজেদের জেলাটাই জানে না। খয়রাশোলে আমাদের আঁকার লোক রয়েছে। যাদের সিংহ আঁকার লোক নেই তাঁরা কেন দাঁড়াচ্ছে। অনেক আঁকার লোক রয়েছে। ক্ষিরোদদা এক ঘণ্টায় ২০টা সিংহ আঁকত।'
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে প্রতীক আঁকার মতো মৌলিক বিষয়েই সমস্যায় পড়ায় ফরওয়ার্ড ব্লকের অন্দরে চাপা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রচারের এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটিতে পিছিয়ে পড়া ভবিষ্যতে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।