
পুরুলিয়া জেলা পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। সীমান্তে ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা। এই জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রের নামও পুরুলিয়া। পুরুলিয়া পুরসভা, পুরুলিয়া-২ ব্লক এবং পুরুলিয়া-১ ব্লকের দুইটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্র। পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রের অধীন সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। তার মধ্যে এটি একটি। ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব; সব দিক থেকেই পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্র বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
ভৌগোলিকভাবে পুরুলিয়া দক্ষিণবঙ্গের বাকি এলাকাগুলির তুলনায় অনেকটাই আলাদা। ছোটনাগপুর মালভূমির সর্বনিম্ন ধাপে অবস্থিত এই অঞ্চল। ঢেউ খেলানো পাহাড় চোখে পড়ে। রয়েছে ঘন অরণ্য। কংসাবতী নদী এবং তার উপনদীগুলি এলাকার উপর প্রভাব ফেলে। বহু জলাধা...
পুরুলিয়া জেলা পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। সীমান্তে ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা। এই জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রের নামও পুরুলিয়া। পুরুলিয়া পুরসভা, পুরুলিয়া-২ ব্লক এবং পুরুলিয়া-১ ব্লকের দুইটি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত এই কেন্দ্র। পুরুলিয়া লোকসভা কেন্দ্রের অধীন সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। তার মধ্যে এটি একটি। ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব; সব দিক থেকেই পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্র বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
ভৌগোলিকভাবে পুরুলিয়া দক্ষিণবঙ্গের বাকি এলাকাগুলির তুলনায় অনেকটাই আলাদা। ছোটনাগপুর মালভূমির সর্বনিম্ন ধাপে অবস্থিত এই অঞ্চল। ঢেউ খেলানো পাহাড় চোখে পড়ে। রয়েছে ঘন অরণ্য। কংসাবতী নদী এবং তার উপনদীগুলি এলাকার উপর প্রভাব ফেলে। বহু জলাধার ও বাঁধ রয়েছে। সবুজে মোড়া এই অঞ্চল। প্রকৃতির সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত পুরুলিয়া।
পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের অর্থনীতি ও লোকসংস্কৃতি অর্থনীতির মূল ভরকেন্দ্র কৃষি। বনজ সম্পদও গুরুত্বপূর্ণ। কুটির শিল্প রয়েছে। খনিশিল্প রয়েছে। ক্ষুদ্র শিল্পের উপরও নির্ভরতা আছে। ছৌ নৃত্য এই জেলার পরিচয়। টেরাকোটা শিল্পও জনপ্রিয়। স্থানীয় উৎসব ও লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্য রয়েছে। আদিবাসী সংস্কৃতিও এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শাল, পলাশ, মহুয়া গাছ প্রচুর দেখা যায়। বনাঞ্চলে নানা প্রজাতির পাখি ও ছোট প্রাণী রয়েছে।
১৯৯৫ সালের ডিসেম্বর মাসে পুরুলিয়া আন্তর্জাতিক সংবাদে উঠে আসে। সে বছর একটি অ্যান্টোনভ বিমান থেকে এই অঞ্চলে বিপুল অস্ত্র ফেলা হয়েছিল। ওই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে আলোড়ন পড়ে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত কিম ডেভি পরে দাবি করেন, তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিষয়টি জানত। তাঁর দাবি, এর পিছনে গোয়েন্দা সংস্থা র-এর ভূমিকা ছিল। আনন্দমার্গের অনুগামীদের অস্ত্র দিয়ে বাম সরকারকে অস্থির করার পরিকল্পনা ছিল বলে তাঁর বক্তব্য। এই অস্ত্র ফেলার ঘটনা আজও বিতর্কের কেন্দ্রে। পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্র: রাজনৈতিক ইতিহাস পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্র গঠিত হয় ১৯৫৭ সালে। এখনও পর্যন্ত এখানে ১৬টি নির্বাচন হয়েছে। সিপিএম জিতেছে ছ’বার। ১৯৮৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচটি মেয়াদে বামেদের দখলে ছিল এই কেন্দ্র। কংগ্রেস জিতেছে পাঁচবার। স্থানীয় দল লোক সেবক সঙ্ঘ জয় পেয়েছে তিনবার। তৃণমূল কংগ্রেস একবার জিতেছে। বিজেপিও একবার জয় পেয়েছে।
২০১১ সালে তৃণমূলের জয় আসে। কামাক্ষ্যা প্রসাদ সিং দেও সিপিএম প্রার্থী কৌশিক মজুমদারকে হারান। ব্যবধান ছিল ২৬,৪৮৭ ভোট। ২০১৬ সালে জয় আসে কংগ্রেসের। তৃণমূলের জোটসঙ্গী হিসেবেই লড়েছিলেন সুদীপ কুমার মুখোপাধ্যায়। তিনি হারান তৃণমূল প্রার্থী দিব্যজ্যোতি প্রসাদ সিং দেওকে। ব্যবধান ছিল ৪,৯১১ ভোট। পরে বিজেপিতে যোগ দেন সুদীপ মুখোপাধ্যায়। ২০২১ সালে বিজেপির হয়ে তিনি আবার জয় পান। তৃণমূলের সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারান। ব্যবধান ছিল ৭,০১৮ ভোট।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে পুরুলিয়ায় বিজেপির উত্থান নজরে পড়ার মতো। এই বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি তৃণমূলের থেকে ৩৬,৪৯৭ ভোটে এগিয়ে ছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপি লিড ধরে রাখে। যদিও ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ২২,৩৭৯ ভোটে। কংগ্রেসের ফল ক্রমশ খারাপ হয়েছে। বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট করেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভোট শতাংশ ছিল ১২.০৯। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তা নেমে আসে ১০.২৯ শতাংশে।
ভোটার সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৪ সালে এই কেন্দ্রে ভোটার ছিলেন ২ লক্ষ ৭১ হাজার ৫৯২ জন। ২০২১ সালে ছিলেন ২ লক্ষ ৫৮ হাজার ৯৪৭ জন। ২০১৯ সালে সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ৪৩৪। তফসিলি জাতির ভোটার ২১.৯৯ শতাংশ। তফসিলি উপজাতি ভোটার ৪.৯১ শতাংশ। মুসলিম ভোটার ১৩.৩০ শতাংশ। গ্রামীণ ভোটার ৫৮.৬৭ শতাংশ। শহুরে ভোটার ৪১.৩৩ শতাংশ। ভোটদানের হার সাধারণত ৮০ শতাংশের কাছাকাছি। ২০১৬, ২০১৯ এবং ২০২১; তিনটি নির্বাচনেই ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে। ২০২৪ সালে তা নেমে আসে ৭৬.৭৭ শতাংশে।
কংসাবতী, সুবর্ণরেখা ও দামোদর নদী এই এলাকার ভূপ্রকৃতি গড়ে তুলেছে। সেচের জন্য একাধিক বাঁধ রয়েছে। পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। জাতীয় সড়ক ও রেলপথে যোগাযোগ সহজ। বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্ব বাড়ছে। পুরুলিয়া শহরে রয়েছে জেলা সদর হাসপাতাল। রয়েছে কলেজ। প্রশাসনিক দফতরও এখানেই।
রঘুনাথপুর থেকে পুরুলিয়া ১২ কিলোমিটার দূরে। ঝালদা থেকে ৩১ কিলোমিটার। বাঁকুড়ার বলরামপুর থেকে ৩৮ কিলোমিটার। কলকাতা প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে। আসানসোল ৯০ কিলোমিটার। দুর্গাপুর ১০০ কিলোমিটার। ধানবাদ ৮০ কিলোমিটার। রাঁচি ১১০ কিলোমিটার। বারিপদা ১১৫ কিলোমিটার। রাউরকেলা ১৪০ কিলোমিটার দূরে। নিকটতম বিমানবন্দর রাঁচিতে। কলকাতা বিমানবন্দরও ব্যবহৃত হয়। পুরুলিয়া স্টেশন থেকে হাওড়া, আসানসোল, ধানবাদ, রাঁচি, বারিপদা ও রাউরকেলার সঙ্গে সরাসরি ট্রেন চলে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরুলিয়ায় বিজেপি আপাতত এগিয়ে। তবে লড়াই সহজ নয়। তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিটি ভোটে লড়াই করতে প্রস্তুত। কংগ্রেস-বামফ্রন্ট জোটের ভূমিকাও নজরে। বিশেষ করে মুসলিম ভোট ভাগ হলে, তার প্রভাব পড়তে পারে তৃণমূলের উপর। সেই সুযোগ নিতে চাইবে বিজেপি। ফলে পুরুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্র ঘিরে আগামী নির্বাচনে উত্তেজনা বাড়বে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।
Sujoy banerjee
AITC
Partha pratim banerjee
INC
Nota
NOTA
Birendranath mahato
IND
Aditya mahato
IND
Rani mahato
SUCI
Manas sardar
BSP
Mritunjoy pandey
IND
Abhijit bhattacharya
IND
Harendra nath mahato
AMB
Dibyajyoti prasad singh deo
AITC
Nagendra kumar ojha
BJP
Nota
NOTA
Swapan kumar mahato
IND
Thuru mahato
BSP
Dhiren rajak
IND
Upendra nath mahato
MPOI
Dhirendra nath rajak
AJSUP
Binay mahato
IND
Subrata mukherjee
SUCI
Alok pancharia
IND
Anita mahato
IND